শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা আজ
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৫ | ০৯:২৩
শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা আজ সোমবার। বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব। এটি আশ্বিনী পূর্ণিমা নামেও পরিচিত। দেশের বৌদ্ধরা নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপন করবে।বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের মতে, এই পুণ্যময় পূর্ণিমা তিথিতে মহামানব গৌতম বুদ্ধ তাবতিংস স্বর্গে মাতৃদেবীকে অভিধর্ম দেশনার পর ভারতের সাংকাশ্য নগরে অবতরণ করেন। এদিনেই মানবজাতির সুখ, শান্তি ও কল্যাণে স্বধর্ম প্রচারের জন্য ভিক্ষু সংঘকে নির্দেশ দেন তিনি। একই দিনে তাঁর তিন মাসের বর্ষাবাসের পরিসমাপ্তিও ঘটে।
পূজনীয় ভিক্ষু সংঘের ত্রৈমাসিক বর্ষাব্রত শেষে আসে এই প্রবারণা তিথি। প্রবারণা হলো আত্মশুদ্ধি ও অশুভকে বর্জন করে সত্য ও সুন্দরকে বরণের অনুষ্ঠান। প্রবারণা পূর্ণিমার পরদিন থেকে এক মাস ধরে দেশের প্রতিটি বৌদ্ধবিহারে শুরু হবে শুভ কঠিন চীবর দানোৎসব।
প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে আজ সারাদেশে নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজিত হবে। বাংলাদেশ বুড্ডিস্ট ফেডারেশন রাজধানীর মেরুল বাড্ডার আন্তর্জাতিক বৌদ্ধবিহারে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে– সমবেত প্রভাতি বন্দনা, জাতীয় ও ধর্মীয় পতাকা উত্তোলন, বুদ্ধপূজা, ‘প্রবারণার তাৎপর্য ও বিশ্ব মানবতাবাদ’ শীর্ষক আলোচনা সভা, আলোকসজ্জা এবং বর্ণাঢ্য ফানুস উৎসব।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে ঢাকায় নিযুক্ত শ্রীলঙ্কার হাইকমিশনার ধর্মপাল বীরাককোডি ও ভিয়েতনামের রাষ্ট্রদূত ন্যুয়েন মান কুঅং উপস্থিত থাকবেন। বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘ রাজধানীর সবুজবাগ ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহারে দিনব্যাপী অনুরূপ অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে।
প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে ধর্মীয় নেতাদের শুভেচ্ছা বিনিময়
বাসস জানায়, প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন বৌদ্ধধর্মীয় নেতাদের প্রতিনিধি দল। গতকাল রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এ শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।
রাজধানীর উত্তরায় বৌদ্ধদের শেষকৃত্যের জন্য জমি বরাদ্দ দেওয়ায় প্রধান উপদেষ্টাকে বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তারা। বৌদ্ধ নেতারা বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারকে বিষয়টি অবহিত করার পর ১০ দিনের মধ্যে শ্মশানের জন্য স্থান বরাদ্দ করে দেওয়া হয়েছে। এটা ইতিহাসে অনন্য। ঢাকায় বৌদ্ধধর্মের কেউ মারা গেলে শেষকৃত্যের জন্য চট্টগ্রামে যেতে হতো।’
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বুদ্ধপ্রিয় মহাথের, ভিক্ষু সুনন্দপ্রিয়, কল্যাণ জ্যোতি, ভবেশ চাকমা, স্বপন বড়ুয়া চৌধুরী, জয় দত্ত বড়ুয়া প্রমুখ। পাশাপাশি ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
- বিষয় :
- পূর্ণিমা
