নেপালের রাজনৈতিক সংকট নিয়ে আইপিজিএডির গ্লোবাল ডিসকোর্স সিরিজ আলোচনা
ছবি: সংগৃহীত
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৫ | ২২:৪৬
নেপালের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা শুধু দেশটির অভ্যন্তরীণ ইস্যু নয়- এটি দক্ষিণ এশিয়া ও বৈশ্বিক রাজনীতিতে গভীর প্রতিফলন ফেলছে। এমনটাই উঠে এসেছে ইনস্টিটিউট ফর পলিসি, গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিজিএডি) আয়োজিত ‘গ্লোবাল ডিসকোর্স সিরিজ’-এর সর্বশেষ পর্বে অনুষ্ঠিত এক ভার্চুয়াল আলোচনায়।
রোববার ‘নেপালের বর্তমান রাজনৈতিক সঙ্কট: দক্ষিণ এশিয়া ও বৈশ্বিক পরিসরে এর প্রভাব’ শীর্ষক ওয়েবিনারে এসব কথা বলেন বক্তারা। এতে অংশ নেন বাংলাদেশ, নেপাল, ভারত, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া ও যুক্তরাজ্যের বিশিষ্ট গবেষক, কূটনীতিক ও শিক্ষাবিদরা।
অনুষ্ঠানে এমডব্লিউআরসি মালয়েশিয়ার প্রেসিডেন্ট ড. ইশারফ হোসেন নেপালের রাজনৈতিক সঙ্কটকে একটি ভূরাজনৈতিক সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে চিহ্নিত করেন। তিনি বলেন, নেপালের ঘটনাপ্রবাহ শুধু দেশটিতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা আঞ্চলিক বাণিজ্য, সীমান্ত রাজনীতি এবং কৌশলগত আস্থাকেও প্রভাবিত করছে।” তার মতে, ভারত ও চীনের মধ্যকার প্রতিদ্বন্দ্বিতার জটিল প্রেক্ষাপটে নেপাল এক প্রভাবাধীন অঞ্চলে পরিণত হয়েছে।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নেপালের খ্যাতনামা সংবিধান বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ড. যুবরাজ সাংরৌলা। তিনি বলেন, ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার কৌশলগত আগ্রহের দ্বন্দ্ব নেপালের নীতিনির্ধারণে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। এমসিসি প্রকল্প নিয়ে তরুণ-প্রবীণ নেতৃত্বের মধ্যে মতভেদ এবং ভারতীয় গণমাধ্যমের অতিরঞ্জিত প্রতিবেদন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান সার্ককে পুনর্জীবিত করে আঞ্চলিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জবাবদিহিতা, যুব কর্মসংস্থান, জলবায়ু সহনশীলতা ও ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক অবস্থানকে চারটি প্রধান নীতিগত অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেন।
পাকিস্তান ইনস্টিটিউট ফর পিস স্টাডিজ-এর প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ আমির রানা এবং এফএসডিএস-এর প্রিন্সিপাল রিসার্চ ফেলো ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. শাফাত আহমদ বলেন, নেপালের সংকট দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের জন্য সতর্কবার্তা—যেখানে রাজনৈতিক বিচ্ছিন্নতা ও দুর্বল শাসনব্যবস্থা উদ্বেগজনকভাবে বিদ্যমান।
যুক্তরাজ্য থেকে অংশ নেওয়া গবেষক ড. জিশান হাশিম বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন রাজনৈতিক সংগঠনের নতুন ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। এর বিকেন্দ্রীকরণ, অ্যালগরিদমিক প্রসার এবং আবেগনির্ভর কাঠামো রাজনীতির চরিত্র বদলে দিচ্ছে।
বাংলাদেশের নেপালস্থ রাষ্ট্রদূত মো. শফিকুর রহমান সাম্প্রতিক নেপালি আন্দোলনের আকস্মিকতা ও জনসম্পৃক্ততাকে ‘সামাজিক সংহতির প্রতিফলন’ হিসেবে ব্যাখ্যা করে বলেন, এটা শুধু রাজনীতি ছিল না—বরং একটি দ্বন্দ্বমূলক বাস্তবতার বহিঃপ্রকাশ।
ভারত ও বাংলাদেশের শিক্ষাবিদরা সীমান্ত পেরিয়ে নীতি-গবেষণায় সমন্বয় বৃদ্ধির আহ্বান জানান। আলোচনায় অংশ নেন ড. রাজ কে. সন্দু (ইউনিভার্সিটি অব জম্মু) এবং ড. নূর মোহাম্মদ সরকার (নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি)।
আলোচনাটি সঞ্চালনা করেন মো. মোস্তফা হোসেন, সহকারী অধ্যাপক, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় ও আইপিজিএডি’র সম্মানসূচক গবেষণা পরিচালক। তিনি আলোচনাকে আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটের পাশাপাশি বৈশ্বিক প্রভাবের দিকেও নিবিষ্টভাবে পরিচালনা করেন।
সমাপনী বক্তব্যে আইপিজিএডি’র নির্বাহী পরিচালক আলাউদ্দিন মোহাম্মদ বলেন, আজকের আলোচনার প্রশ্নগুলো কাঠমান্ডুর গণ্ডি ছাড়িয়ে পৌঁছে গেছে দক্ষিণ এশিয়ার বড় শহরগুলোর রাজনৈতিক রাজপথে। এখন প্রশ্ন উঠছে-নেপালের পরবর্তী অধ্যায় কী? এবং পরবর্তী আলোচ্য দেশটি-ই বা কে?
- বিষয় :
- ওয়েবিনার
