জরুরি অক্সিজেন সংকটে ঝুঁকিতে কোটি মানুষ
দেশের ৯৯টি প্লান্টের মধ্যে মাত্র ২৯টি সচল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৫ | ০৭:৩৮
| প্রিন্ট সংস্করণ
নিরাপদ অক্সিজেনের অভাবে ঝুঁকিতে কোটি মানুষ। দেশে স্থাপিত ৯৯টি অক্সিজেন প্লান্টের মধ্যে সচল মাত্র ২৯টি, বাকি ৭০টির মতো অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে। অক্সিজেন সেবা নিশ্চিত করতে জাতীয় পর্যায়ে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে মেডিকেল অক্সিজেনকে ‘অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে আয়োজিত ‘ন্যাশনাল রোডম্যাপ টু সেফ, অ্যাফর্ডেবল অ্যান্ড রিলেবল মেডিকেল অক্সিজেন ফর অল’ শীর্ষক বাংলাদেশ অক্সিজেন সামিটে এসব তথ্য জানান সংশ্লিষ্টরা।
সামিটে অক্সিজেন সংকটের বৈশ্বিক তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করেন আইসিডিডিআর,বির বিজ্ঞানী ড. আহমেদ এহসানূর রহমান। তিনি জানান, বিশ্বে প্রতিবছর প্রায় ৩৭৪ মিলিয়ন মানুষের মেডিকেল অক্সিজেনের প্রয়োজন পড়ে। যার ৮২ শতাংশই নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশে বাস করেন। অথচ এসব দেশে অক্সিজেন থেরাপি পান মাত্র ৩০ শতাংশ রোগী। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও একই চিত্র। বিশেষ করে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে অক্সিজেন সরবরাহ সীমিত, এমনকি অনেক স্থাপনা অকার্যকর।
আইসিডিডিআর,বি পরিচালিত গবেষণায় উঠে আসে, দেশে স্থাপিত ১০১টি অক্সিজেন প্লান্ট ও ভিআইই ট্যাঙ্কের অনেকই অকার্যকর। রক্ষণাবেক্ষণের অভাব, প্রশিক্ষিত কর্মীর সংকট এবং দুর্বল বিতরণ ব্যবস্থাই এর জন্য দায়ী। সামিটে পাঁচটি অগ্রাধিকারমূলক সুপারিশ উপস্থাপন করা হয়। সেগুলো হলো– বিদ্যমান প্লান্টগুলোতে দক্ষ জনবল ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা, বায়োমেডিকেল ক্যাডার গঠন, অক্সিজেনকে ‘অত্যাবশ্যকীয় জনস্বাস্থ্য পরিষেবা’ হিসেবে ঘোষণা দেওয়া, একটি জাতীয় রোডম্যাপ প্রণয়ন এবং স্থিতিশীল মিশ্র সরবরাহ মডেল তৈরি করা।
সামিটে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান বলেন, বর্তমানে ২৯টি অক্সিজেন প্লান্ট কার্যকর থাকলেও ৭০টি অকেজো অবস্থায় আছে। এগুলো চালু করতে জাতীয় পর্যায়ে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সরকার অক্সিজেনকে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ হিসেবে ঘোষণা দিতে যাচ্ছে। তিনি বলেন, অক্সিজেনের দাম একেক হাসপাতালে একেক রকম। শুধু নীতিমালায় নয়, উপজেলা পর্যায় থেকে বিশেষায়িত হাসপাতাল পর্যন্ত অক্সিজেনের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে হবে।
আইসিডিডিআর,বির নির্বাহী পরিচালক ড. তাহমিদ আহমেদ বলেন, আমরা অনেক অগ্রগতি করেছি। কিন্তু এখনও অনেক পথ বাকি। সরকার ও বেসরকারি খাত একযোগে কাজ করলে এ সংকট উত্তরণ সম্ভব।
- বিষয় :
- ঝুঁকিপূর্ণ
