ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

গুমে জড়িত সেনা কর্মকর্তাদের সামরিক আইনে বিচার দাবি 

অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্যদের সংবাদ সম্মেলন

গুমে জড়িত সেনা কর্মকর্তাদের সামরিক আইনে বিচার দাবি 
×

ছবি: সংগৃহীত

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৫ | ২২:৪৪

গুমের সঙ্গে জড়িত সাবেক ও বর্তমান ২৫ সেনা কর্মকর্তার বিচার সামরিক আইনে করার দাবি জানিয়েছে অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্যদের সংগঠন এক্স ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশন। প্রয়োজনে তাদের প্রকাশ্যে ফাঁসি দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো সেনাসদস্য গুমের মতো নিকৃষ্ট কাজে জড়িত না হন। এ জন্য প্রয়োজনে আইন সংশোধনেরও প্রস্তাব দেয় সংগঠনটি।

মঙ্গলবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘গুজব নয়, দেশপ্রেমে ঐক্য: সেনাবাহিনী ও জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা প্রতিহতকরণ প্রসঙ্গে’ শিরোনামে সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক লেফটেন্যান্ট (অব.) সাইফুল্লাহ খান সাইফ। 

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান সেনা আইনের বৈধতা দিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) আদালতও সংবিধান স্বীকৃত। এ ক্ষেত্রে আইসিটির সঙ্গে সেনাবাহিনী সমন্বয় করে একটি দৃষ্টান্তমূলক বিচারের উদাহরণ সৃষ্টি করতে পারে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও সেনাবাহিনীর মধ্যে সমন্বয় রেখে ম্যানুয়াল অব ব্যাঞ্জিন মিলিটারি আইন (এমবিএমএল) সংশোধন করে বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করা উচিত। এভাবে যদি না করা হয়, তাহলে ভবিষ্যতে এ বিচারের স্থায়িত্ব বা টিকে থাকার সম্ভাবনা কম।

সাইফুল্লাহ খান বলেন, আমরা অপরাধীদের বিচারের পক্ষে। তবে সেই বিচার হতে হবে স্বচ্ছ সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে এবং সংবিধান ও মানবাধিকারের মূলনীতির ভিত্তিতে। যেখানে কোনো ফুল স্টপ থাকবে না। 

তিনি বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নিয়োজিত সদস্যদের মনোবল ভেঙে দেওয়া বা বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের সুনাম ক্ষুণ্ন করা কোনো দেশপ্রেমিকের কাজ হতে পারে না। বিশেষ করে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সামনে আমাদের প্রতিরক্ষা বাহিনীকে মাথা নিচু করে দাঁড়াতে হবে– এমন কোনো পরিস্থিতি আমরা মেনে নিতে পারি না। 

লিখিত বক্তব্যে সাবেক এই সেনা কমর্কতা আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের ভেতরে ও বাইরে কিছু কুচক্রী মহল বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে ঘোলাটে করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে। তারা বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব, সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি ও জাতীয় ঐক্য বিনষ্টের ষড়যন্ত্রে জড়িত। তারা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, এই অপতৎপরতা কোনোভাবেই দেশপ্রেমী জনগণ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় স্বাধীন বাংলাদেশে বিশ্বাসী সেনাসদস্যদের বিপথে নিতে পারবে না।

ক্যান্টনমেন্টের ভেতরে একটি ভবনকে জেল ঘোষণার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে সাবেক সেনা কমর্কতা রোকন উদ্দিন বলেন, এটা প্রথমবার নয়। সাব-জেলে এর আগেও অনেককে রাখা হয়েছে। কোনো বিশেষ কারণ নেই। সরকার যখন যেখানে চাইবে, অপরাধীকে রাখবে। এখন সরকার এটা রাজি হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এ কারণে তারা ভবন খালি করেছে। সরকার যদি তাদের অন্য জায়গায় নিয়ে যেতে চায়, নিয়ে যাবে; কিন্তু কেউ অপরাধী প্রমাণিত না হওয়ার আগ পর্যন্ত তাঁকে জেলে নেওয়া তো সঠিক নয়।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) রোকন উদ্দিন বলেন, জুলাই বিপ্লবের পূর্ববর্তী ফ্যাসিবাদের সময় যারা সহযোগিতা করেছিলেন, যারা অপরাধ করেছেন, বিভিন্ন গুম-খুনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তাদের বিচারের আওতায় আনা হবে; কিন্তু বিচারকাজটা যেন সেনা আইন ও সাধারণ আইনের মধ্যে সমন্বয় করে করা হয়। অতীতের মতো তড়িঘড়ি করে আইসিটি আইন পরিবর্তন করে ব্যক্তিগত আক্রোশ বা পুঞ্জীভূত ক্ষোভের কারণে একচেটিয়াভাবে বিচার করা হলে তা ফ্যাসিবাদের আমলের বিচারকাজের মতো ত্রুটিপূর্ণ ও প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সার্জেন্ট (অব.) মুশফিকুর রহিম রনি।

আরও পড়ুন

×