ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

বিচারবহির্ভূত হত্যা ও দমন থেকে বেরিয়ে আসছে দেশ

‘গুম: ফ্যাসিবাদী শাসনের নিকৃষ্ট হাতিয়ার’ শীর্ষক সেমিনার

বিচারবহির্ভূত হত্যা ও দমন থেকে বেরিয়ে আসছে দেশ
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৫ | ০৭:৫৯ | আপডেট: ২৬ অক্টোবর ২০২৫ | ০৮:৫৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

আওয়ামী লীগ আমলের গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিতের আশ্বাস দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের শিল্প এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান। তিনি বলেছেন, দেশ এখন বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও দমন-নিপীড়নের অন্ধকার থেকে বেরিয়ে আসছে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য অপরাধীদের বিচারের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে জনগণ ও নিপীড়িতরা বিচার পাবেন।
গতকাল শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ মুজিবুর রহমান হলের অডিটোরিয়ামে ‘গুম: ফ্যাসিবাদী শাসনের নিকৃষ্ট হাতিয়ার’ শীর্ষক সেমিনারে এ কথা বলেন আদিলুর রহমান। অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ আমলে গুমের শিকার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমানের লেখা ‘আয়নাঘরের সাক্ষী: গুম জীবনের ৮ বছর’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। আয়োজক ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও প্রচ্ছদ প্রকাশন।

এ সেমিনারে অংশ নেন জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারীর কার্যালয়ের মানবাধিকারবিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হুমা খান। গুম কমিশনে করা অনেক অভিযোগ কেন তদন্ত হচ্ছে না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। হুমা খান বলেন, নিঃসন্দেহে গুম কমিশন ভালো কাজ করছে। গুম কমিশনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে ৩১ ডিসেম্বর। যদিও এখন পর্যন্ত তাদের কাছে জমা হওয়া গুমসংক্রান্ত অভিযোগগুলোর সমাধান হয়নি। সে জন্য প্রশ্ন উঠছে, গুম কমিশনে জমা হওয়া এক হাজার ৯০০টি মামলার সমাধান কীভাবে হবে? এই মামলাগুলো কীভাবে সমাধান করা হবে– গণমাধ্যমেরও উচিত সেই প্রশ্ন তোলা। এ ছাড়া যারা কাউকে তুলে নিয়েছিলেন বা আটক করেছিলেন, শুধু তাদের নয়, যারা পরিকল্পনা করেছিলেন, নির্দেশনা দিয়েছিলেন, তাদেরও যে কোনো আইনে অপরাধী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান বলেন, অবশ্যই আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ ঘটনাগুলোর একটি হলো গুম। প্রকৃতপক্ষে দমনমূলক রাষ্ট্রের মূলে রয়েছে নির্বিচার আটক। গুম ঘটে এবং তা ভয়াবহ, কিন্তু সংখ্যায় তুলনামূলকভাবে কম ছিল। শেখ হাসিনা সরকারের অধীনে নির্বিচার আটকের ঘটনাগুলো হাজার হাজার, লাখ লাখ মানুষকে অনেক বেশি প্রভাবিত করেছিল।

সেমিনারে বক্তব্যে গুমের ঘটনায় সেনা কর্মকর্তাদের বিচারের প্রসঙ্গ ধরে ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, ‘জেনারেলদের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত প্রিজন ভ্যানে করে আনা-নেওয়া হচ্ছে। তাদের যেখানে রাখা হচ্ছে, সেখানেও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এটা জাতির জন্য লজ্জার। দেশের যে কারাগার আছে, সেখানে তাদের রাখতে হবে। দেশের আইন অনুযায়ী তাদের বিচার করতে হবে।’
মায়ের ডাকের সংগঠক সানজিদা ইসলাম তুলি বলেন, গুম-মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। স্বচ্ছ ন্যায়বিচারের মাধ্যমে বিশ্ববাসীকে জানাতে হবে, শেখ হাসিনার সময়ে শুধু বিনা ভোটে ক্ষমতায় থাকার জন্য ভিন্নমতের মানুষদের কীভাবে হত্যা করা হয়েছে।
সেমিনারে গুমের শিকার পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানান মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান। তিনি বলেন, ভেদাভেদ ভুলে দেশকে বসবাসযোগ্য হিসেবে তৈরি করতে হবে। সংবিধান অনুযায়ী মানুষের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রচ্ছদ প্রকাশনের মালিক রাজিবুল হাসান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ মুজিবুর রহমান হল সংসদের সাহিত্য সম্পাদক আবিদ হাসানের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন ভিয়েতনামে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত এম মারুফ জামান, সাবেক সেনা কর্মকর্তা আবদুল্লাহিল আমান আযমী, আইনজীবী চৌধুরী তানজিম করিম, আইনজীবী ইমরান সিদ্দিকী, জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারীর মানবাধিকারবিষয়ক জুনিয়র উপদেষ্টা তাজরিয়ান আকরাম খান। ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশ মিশনের ডেপুটি হেড অব ডেলিগেশন বাইবা জারিনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমানের মা খোন্দকার আয়েশা খাতুন, স্ত্রী ফারহানা ফাখরুবা, ডাকসুর পরিবহনবিষয়ক সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ, সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক মোসাদ্দেক আলী ইবনে মুহাম্মদ, জুলাইযোদ্ধা তাহমিদ হুজাইফার বাবা আবুল খায়ের, শেখ মুজিবুর রহমান হল সংসদের ভিপি মুসলিমুর রহমানও সেমিনারে বক্তব্য দেন।
 

আরও পড়ুন

×