দূষিত বুড়িগঙ্গা ও বংশী নদীতেও ডলফিন
প্রতীকী ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৫ | ০৯:১১ | আপডেট: ২৭ অক্টোবর ২০২৫ | ০৯:১৭
মিঠাপানির ডলফিন বা শুশুকের অন্যতম আশ্রয়স্থল এখন বাংলাদেশ। বন অধিদপ্তর ও বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন সোসাইটি (ডব্লিউসিএস) ২০২৪-২৫ সালে ৪৫টি নদী ও সুন্দরবনের জলপথ মিলিয়ে চার হাজার ৮৯৩ কিলোমিটার এলাকায় বৃহৎ জরিপ পরিচালনা করেছে।
এতে দেশে দুই হাজার ৩০৭টি শুশুক গণনা হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় শুশুকের বিস্তৃতি বাংলাদেশ, ভারত ও নেপালের গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা ও সাঙ্গু-কর্ণফুলী অববাহিকার প্রায় ১০ হাজার কিলোমিটারজুড়ে। ভারতে ২৮টি নদীতে আট হাজার ৫০৭ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ছয় হাজার ৩২৪টি এবং নেপালে পাঁচটি নদীতে ২০৪ কিলোমিটার এলাকায় ৫২টি শুশুক পাওয়া গেছে।
গতকাল রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বন ভবনে আন্তর্জাতিক মিঠাপানির ডলফিন দিবস উপলক্ষে এই জরিপের ফল প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে জরিপের ফল উপস্থাপন করেন ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন সোসাইটির কান্ট্রি ডিরেক্টর মো. জাহাঙ্গীর আলম। ছয় সদস্যের দুটি দলের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ ও মার্কুরিক্যাপচার পদ্ধতিতে ডলফিনের সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়। তিন ধরনের পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়– একই নৌকায় দুটি পর্যবেক্ষণ প্ল্যাটফর্ম, দুটি ভিন্ন নৌকায় ৫০ মিটার দূরত্বে একযোগে পর্যবেক্ষণ এবং একটি নৌকায় শব্দপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে।
জরিপ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকার এখন পর্যন্ত ৯টি অভয়ারণ্য ঘোষণা করেছে। নতুন জরিপে দেশের ২৫টি অঞ্চলকে শুশুকের ‘হটস্পট’ বা গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যেগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সংরক্ষণ ব্যবস্থাপনায় আনার সুপারিশ করা হয়েছে। শীর্ষ হটস্পট হলো– রাজশাহী, খুলনা, ঢাকা, ময়মনসিংহ, বরিশাল, সিলেট, চট্টগ্রাম ও বঙ্গোপসাগর। আশ্চর্যজনকভাবে দূষিত বুড়িগঙ্গা ও বংশী নদীতেও ডলফিনের উপস্থিতি মিলেছে।
অনুষ্ঠানে জাহাঙ্গীর আলম আইইউসিএনের ২০২১ সালের তথ্য উদ্ধৃত করে জানান, দক্ষিণ এশিয়ায় ডলফিনের আবাসস্থল ইতোমধ্যে ৩০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। দূষণ, যান্ত্রিক নৌযানের বাড়তি চাপ ও নিষিদ্ধ কারেন্ট জালের বিস্তার– সব মিলিয়ে তাদের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে।
অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান জানান, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে নতুন করে যে আইন করা হচ্ছে, তার খসড়ায় জামিনের সুযোগ না রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন বন সংরক্ষক মো. ছানাউল্যা পাটওয়ারী, বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধি ড. মো. ইশতিয়াক সোবহা এবং সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী। অনুষ্ঠানে ‘গাঙ্গেয় ডলফিন সংরক্ষণ হ্যান্ডবুক’-এর মোড়ক উন্মোচন এবং একটি প্রদর্শনীতে ডলফিন সংরক্ষণ, নদী পরিবেশ ও মিঠাপানির জীববৈচিত্র্যবিষয়ক কার্যক্রম উপস্থাপন করা হয়।
- বিষয় :
- বুড়িগঙ্গা
