শেখ হাসিনা পালানোর পরও গুলি চালায় পুলিশ
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৫ | ০৮:১৫
| প্রিন্ট সংস্করণ
গত বছরের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মুখে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশ ছাড়ার পরও আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকায় নৃশংসতা চালায় পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সেদিনের বীভৎসতার বর্ণনা তুলে ধরেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত যুবক সনি মৃধা।
গণঅভ্যুত্থানের সময় আশুলিয়ায় ছয় মরদেহ পোড়ানোসহ সাতজনকে হত্যার দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক এমপি সাইফুল ইসলামসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে ১৬তম দিনের সাক্ষ্য গ্রহণ ছিল গতকাল। এদিন ২১ নম্বর সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দিতে এসে ট্রাইব্যুনালে প্রকাশ্যে নিজের ক্ষতস্থান দেখান সানি। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-২ তাঁর জবানবন্দি রেকর্ড করেন। আগামী ৫ নভেম্বর পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।
জবানবন্দিতে ২৯ বছর বয়সী সানি মৃধা বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যোগ দিয়ে গত বছর ৫ আগস্ট দুপুরে বাইপাইল এলাকায় অবস্থান নিই। ২টা থেকে আড়াইটার দিকে শেখ হাসিনা পালিয়ে গেছেন বলে জানতে পারি। তখন সবাই বিজয় মিছিল করছিল। ঠিক ওই মুহূর্তে আশুলিয়া থানার দিক থেকে অনেক গোলাগুলির শব্দ আসে। এ সময় ছাত্র-জনতা সবাই মিলে আশুলিয়া থানার দিকে রওনা হই। এক পর্যায়ে থানার কাছে গলির মধ্যে চলে যায় পুলিশ। আমরা তাদের উদ্দেশে বলতে থাকি– ‘হাসিনা পালিয়ে গেছে, আপনারা কেন এখনও গুলি চালাচ্ছেন?’ কিন্তু আমাদের ওপর এলোপাতাড়ি গুলি চালায় পুলিশ।
সানি বলেন, পুলিশের ছোড়া একটি গুলি আমার কোমরের নিচে ডান পায়ে লেগে দুই পা ভেদ করে বাঁ পা দিয়ে বেরিয়ে যায়। হাত ও শরীরের বিভিন্ন স্থানেও শটগানের ছররা গুলি লাগে। ছররা গুলির ১৭টি পিলেট বের করা হলেও ডান হাতের কনুইতে এখনও একটি রয়ে
গেছে। ওই দিন আমার সঙ্গে আরও অনেকেই গুলিবিদ্ধ হন। এর মধ্যে আমার পরিচিত একজন ছিলেন। নাম সজল।
সাক্ষী সানি বলেন, গুলি লাগার পর আন্দোলনরত এক ভাইকে আমাকে বাঁচাতে অনুরোধ করি। তখন ওই ভাইসহ অন্য আন্দোলনকারীরা আমাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। প্রথমে হাবিব ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু ভর্তি না নেওয়ায় গণস্বাস্থ্য হাসপাতালে নেন তারা। সেখানে এক্স-রের পর আমাকে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো
হয়। সেখানে ৪৭ দিন চিকিৎসাধীন ছিলাম। এরপর আমি সিআরপিতে চিকিৎসাধীন ছিলাম তিন মাস। সিআরপি থেকে ঢাকা সিএমএইচে তিন-চার দিন চিকিৎসা নিই। সর্বশেষে পিজি হাসপাতালে চিকিৎসা নিলেও স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারছি না। আমাকে এখনও ফিজিওথেরাপি নিতে হয়। সাপোর্টিং ডিভাইস (এএফও) ব্যবহার করতে হয় ডান পায়ে। দুই পায়ের নার্ভে অসহ্য ব্যথা রয়েছে।
ওই সময় মরদেহ পোড়ানো নিয়ে সানি বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকাকালে ফেসবুক পোস্টে ভিডিওর মাধ্যমে সহযোদ্ধা সজলকে আশুলিয়া থানার সামনে একটি ভ্যানে তুলতে দেখি। পুলিশ ভ্যানে তোলার পর অন্যদের সঙ্গে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের হুকুমে স্থানীয় এমপি সাইফুলসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ-ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা আমাদের ওপর সশস্ত্র হামলা চালায়। রনি ভূঁইয়া নামে একজনের হাতে আমি নিজে অস্ত্র দেখেছি। তাদের দৃষ্টান্তমূলক শান্তি চাই, যেন আগামীতে কেউ ক্ষমতার অপব্যবহার করে জনগণের ওপর অত্যাচার করতে না পারে।
- বিষয় :
- হাসিনার পতন
