ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

কমিউনিটি ক্লিনিকে ইনফ্লুয়েঞ্জা ও ত্বক সমস্যার রোগী বেশি

কমিউনিটি ক্লিনিকে ইনফ্লুয়েঞ্জা ও ত্বক সমস্যার রোগী বেশি
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০২৫ | ০৬:৫৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

গ্রামীণ পর্যায়ের কমিউনিটি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের অর্ধেকের বেশি ইনফ্লুয়েঞ্জা ও ত্বকের সমস্যায় ভুগছেন। সম্প্রতি জাপানের কিউশু বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেটা-ড্রিভেন ইনোভেশন ইনিশিয়েটিভের সহযোগী অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম মারুফ পরিচালিত জরিপে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

গত ১ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের ৪২টি কমিউনিটি ক্লিনিকে কর্মরত স্বাস্থ্যকর্মীদের অংশগ্রহণে জরিপটি পরিচালিত হয়। গতকাল বুধবার রাজধানীর মহাখালী বিএমআরসি ভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন অধ্যাপক মারুফ। তিনি জানান, জরিপটি তিন ধাপে সম্পন্ন হবে। 
প্রথম ধাপে ৪২টি ক্লিনিকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গ্রামীণ এলাকায় সবচেয়ে বেশি দেখা দেয় ত্বকের রোগ ৩৬ শতাংশ, ইনফ্লুয়েঞ্জা ২১ শতাংশ ও জ্বর ২১ শতাংশ। পাশাপাশি উচ্চ রক্তচাপ ১৯ শতাংশ ও ডায়াবেটিস ১৪ শতাংশ।
স্বাস্থ্যকর্মীদের হিসাবে, প্রতিদিন গড়ে ৩১ থেকে ৪০ জন চিকিৎসা নিতে আসেন। সপ্তাহের সবচেয়ে ব্যস্ত দিন রোববার, আর রোগীর ভিড় বেশি সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টার মধ্যে। মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য, টিকাদান, প্রাথমিক চিকিৎসা, স্বাস্থ্যশিক্ষা এবং অসংক্রামক রোগ ব্যবস্থাপনাই এসব ক্লিনিকের প্রধান সেবা।

তবে জরিপে অংশ নেওয়া ৩৬ শতাংশ স্বাস্থ্যকর্মী জানিয়েছেন, ওষুধের ঘাটতি এখন বড় সমস্যা। ২৪ শতাংশ জানিয়েছেন, চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাব বিশেষ করে এনসিডি ব্যবস্থাপনায় বড় বাধা। বেশির ভাগ ক্লিনিকে রক্তচাপ মাপার মেশিন, গ্লুকোমিটার, থার্মোমিটার ও স্টেথোস্কোপ থাকলেও অনেক যন্ত্র নষ্ট বা অনুপস্থিত। তাদের মতে, সবচেয়ে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম রক্তচাপ মাপার যন্ত্র।

অনেক স্বাস্থ্যকর্মী জানিয়েছেন, সময়ের অভাব, প্রশিক্ষণ উপকরণের সংকট এবং রোগীদের সীমিত বোঝাপড়া কার্যকর পরামর্শ দিতে বাধা সৃষ্টি করছে। রেকর্ড সংরক্ষণ বিষয়ে ৬৪ শতাংশের মতে বড় সমস্যা নেই, তবে ২৪ শতাংশ বলেছেন, কাগজপত্রের কাজ সময়সাপেক্ষ হয়ে পড়ে।
অধ্যাপক মারুফ বলেন, টেলিমেডিসিন সম্পর্কে রোগীদের সচেতনতা ও গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে। তবে অনেক ক্লিনিকেই বিদ্যুৎ সরবরাহ অনিয়মিত, ব্যাকআপ সীমিত এবং ইন্টারনেট সংযোগ দুর্বল। ফলে এখনও ইলেকট্রনিক রেকর্ড সিস্টেম চালু করা সম্ভব হয়নি। বেশির ভাগ স্বাস্থ্যকর্মী ভবিষ্যতে ডিজিটাল রেকর্ড রাখতে আগ্রহী হলেও বিদ্যুৎ বিভ্রাট, দুর্বল নেটওয়ার্ক ও প্রশিক্ষণের অভাবকে প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন।জরিপে অংশ নেওয়া ৯৫ শতাংশ স্বাস্থ্যকর্মী জানিয়েছেন, সপ্তাহে ১০ জন রোগীকে অনলাইন পরামর্শ দেওয়া সম্ভব। রোগীদের মধ্যে ৮৩ শতাংশ বলেছেন, প্রতি সেশন ৫০ টাকার কম দিতে তাঁরা রাজি। তবে কিছু স্বাস্থ্যকর্মী বাড়তি কাজের চাপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

গবেষক দলের মতে, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা আরও কার্যকর করতে যথাযথ চিকিৎসা সরঞ্জাম, নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা জরুরি। তাদের মতে, ডিজিটাল স্বাস্থ্যব্যবস্থা গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মূল স্বাস্থ্যচাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

জাপানের কিউশু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নায়িকো নাকাশিমা বলেন, জনসংখ্যাকে সম্পদে পরিণত করতে কার্যকর জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা জরুরি। সম্প্রতি বাংলাদেশে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও কিডনি রোগ বাড়ছে। এসব অসংক্রামক রোগ দ্রুত শনাক্ত করতে কমিউনিটি পর্যায়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ বাড়াতে হবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ বলেন, এই জরিপে গুরুত্বপূর্ণ অনেক তথ্য আছে। বিশ্লেষণ করলে আমরা দিকনির্দেশনা পাব। 
কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আখতারুজ্জামান বলেন, ইনফ্লুয়েঞ্জা ও ত্বকের সমস্যার ওষুধের চাহিদা মাথায় রেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনটি মৌলিক পরীক্ষা যাতে ক্লিনিক পর্যায়ে করা যায়, সেই দিকেও কাজ চলছে। টেলিমেডিসিনের মাধ্যমে চিকিৎসকদের পরামর্শ দেওয়ার ব্যবস্থাও আমরা বিবেচনা করছি।

 

আরও পড়ুন

×