ঢাকা শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

হালদা নদীকে মৎস্য হেরিটেজ ঘোষণা, ১৭ দফা নিষেধাজ্ঞা জারি

হালদা নদীকে মৎস্য হেরিটেজ ঘোষণা, ১৭ দফা নিষেধাজ্ঞা জারি
×

ফাইল ছবি

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর ২০২৫ | ০০:০২

দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক প্রজননক্ষেত্র হালদা নদীকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘মৎস্য হেরিটেজ’ ঘোষণা করেছে সরকার। প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ, রুই জাতীয় মাছের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিতকরণ এবং বিলুপ্তপ্রায় গাঙ্গেয় ডলফিনের আবাস রক্ষার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনে জানায়, খাগড়াছড়ির রামগড় ও মানিকছড়ি উপজেলা, চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি, রাউজান, হাটহাজারী উপজেলা এবং পাঁচলাইশ থানা হয়ে প্রবাহিত হালদা নদীর দুই তীরবর্তী মোট ২৩ হাজার ৪২২ একর এলাকা এখন থেকে ‘হালদা নদী মৎস্য হেরিটেজ’ হিসেবে গণ্য হবে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, হালদা নদী ও সংযুক্ত খালে ১৭ দফা নিষেধাজ্ঞা এখন থেকে কার্যকর থাকবে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো–হালদা নদী থেকে কোনো প্রকার মাছ বা জলজ প্রাণী ধরা বা শিকার করা যাবে না। প্রজনন মৌসুমে (এপ্রিল-জুন) কেবল মৎস্য অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে নির্দিষ্ট সময় ও এলাকায় নিষিক্ত ডিম সংগ্রহের অনুমতি থাকবে। নদীর প্রাকৃতিক প্রবাহ ও তীরবর্তী উদ্ভিদ-প্রাণীর আবাসস্থল নষ্ট করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। নদীর চর, বাঁক বা প্রবাহের গতি পরিবর্তন করা যাবে না। নদীর তীরে বা সংলগ্ন এলাকায় বর্জ্য, তরল বর্জ্য কিংবা পয়ঃনিষ্কাশন ফেলা যাবে না। প্রজনন মৌসুমে (ফেব্রুয়ারি-জুলাই) হালদার সঙ্গে যুক্ত ১৭টি খালেও মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকবে। নতুন কোনো রাবার ড্যাম বা কংক্রিট ড্যাম নির্মাণ করা যাবে না। তদারকি কমিটির অনুমতি ছাড়া কোনো নতুন পানি শোধনাগার, সেচ প্রকল্প বা পানি উত্তোলন কার্যক্রম চালানো যাবে না। 

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, দেশি বা বিদেশি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অনুমতি ছাড়া হালদায় গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না। নাজিরহাট ব্রিজ থেকে কর্ণফুলী মোহনা পর্যন্ত ভারী ইঞ্জিনচালিত নৌযান, বালুবাহী জাহাজ বা ড্রেজার চলাচল নিষিদ্ধ। হালদা ও তার শাখা নদী থেকে বালু উত্তোলন বা বালুমহাল ইজারা দেওয়া যাবে না। নদীর অববাহিকায় তামাক চাষ নিষিদ্ধ থাকবে। কৃষিজমিতে ক্ষতিকর কীটনাশক ও বালাইনাশক ব্যবহার করা যাবে না। নদীর পাড়সংলগ্ন এলাকায় নতুন কোনো ইটভাটা স্থাপন করা যাবে না।

আরও পড়ুন

×