ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

সাত কলেজ নিয়ে মতবিনিময়

অধ্যাদেশের পক্ষে উপাচার্যরা, বিপক্ষে অ্যালামনাইরা

অধ্যাদেশের পক্ষে উপাচার্যরা, বিপক্ষে অ্যালামনাইরা
×

ফাইল ছবি

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৭ নভেম্বর ২০২৫ | ২৩:৫১ | আপডেট: ১৮ নভেম্বর ২০২৫ | ০০:১৩

রাজধানীর সরকারি সাত কলেজ নিয়ে প্রস্তাবিত ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’-এর খসড়া অধ্যাদেশ নিয়ে নিজেদের উদ্বেগ জানিয়েছেন অ্যালামনাইরা। তারা কলেজগুলোর স্বাতন্ত্র্য ও ঐতিহ্য রক্ষা করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। তবে সরকারি কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা অধ্যাদেশের পক্ষে তাদের মতামত দিয়েছেন।

সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মতবিনিময় সভা হয়। এতে অংশীজন সাত কলেজের উন্নয়ন, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, একাডেমিক সমন্বয় ও শিক্ষার্থীদের সেবা বাড়াতে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণের সুপারিশ করেন। সভাপতিত্ব করেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক সি আর আবরার।

সভায় অংশ নেওয়া অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয় মডেলকে সমর্থন করলেও অ্যালামনাই প্রতিনিধিরা মডেলের বিভিন্ন অস্পষ্ট দিক উল্লেখ করে আপত্তি জানান।

সভায় ওঠা প্রধান বিষয়গুলো হলো– প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগ, শিক্ষা ক্যাডারের শিক্ষক নিয়োগ, সাত কলেজের সমন্বিত শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা, মেয়েদের ক্যাম্পাসে পাঠদান পদ্ধতি, বিদ্যমান আইনের অসংগতি সংশোধন ইত্যাদি। এসব বিষয়ে বিস্তারিত মতামত তুলে ধরেন অংশীজন। 

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, মতামতগুলো নোট আকারে সংগ্রহ করা হয়েছে, যা পরবর্তী সময়ে পর্যালোচনা করা হবে।

সভায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির চাপ বাড়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করা হয়। কিছু অংশীজন অভিযোগ করেন, সাত কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা হলে আসন সংখ্যা কমে যাওয়ার কারণে শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারে। তবে উপস্থিত অধিকাংশ উপাচার্য প্রস্তাবিত কাঠামোকে উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নের একটি সুযোগ হিসেবে দেখার আহ্বান জানান।

একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে সমকালকে বলেন, মূলত অ্যালামনাইরাই প্রস্তাবিত অধ্যাদেশের আপত্তি তুলেছেন। অন্য অংশীজন মডেলের পক্ষে মত দিয়েছেন এবং কয়েকটি ধারা সংশোধনের প্রস্তাব দিয়েছেন।

অ্যালামনাইদের প্রতিনিধি ঢাকা কলেজ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মীর সরফত আলী সপু সভায় বলেন, জাতীয় নির্বাচন সামনে; এমন সময়ে বড় ধরনের কাঠামোগত সিদ্ধান্তের প্রভাব গভীর হতে পারে। সাত কলেজের বিরুদ্ধে নই– আমরা চাই তাদের উন্নয়ন হোক। তবে ঐতিহ্যবাহী কলেজগুলোর সুনাম ও স্বতন্ত্র মর্যাদা রক্ষায় খসড়ায় স্পষ্ট বিধান থাকতে হবে। মেয়েদের শিক্ষার স্বাতন্ত্র্যতাও বজায় রাখতে হবে। তিনি সভায় লিখিত প্রস্তাব জমা দেন।

ইডেন কলেজ অ্যালামনাই নেত্রী হেলেন জেরিন খান বলেন, হাইব্রিড মডেল ও চার অনুষদের কাঠামো কীভাবে কার্যকর হবে, বিশেষ করে মেয়েদের ক্যাম্পাসের ক্ষেত্রে–তা স্পষ্ট করে জানানো প্রয়োজন। তিনি জানান, অনেক অংশীজন অনুষদভিত্তিক মডেলের বাইরে বিকল্প কাঠামোর প্রস্তাব দিয়েছেন। প্রয়োজনে শুধু ইডেন কলেজ নিয়ে একটি নারী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে।

সভায় অংশ নেওয়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক রেজাউল করিম বলেন, প্রস্তাবিত অধ্যাদেশ চমৎকার। তবে শিক্ষকদের আত্তীকরণ প্রক্রিয়া, অর্থ ব্যবস্থাপনা ও বিভাগীয় প্রধান নিয়োগের বিষয়ে কিছু সংশোধন-সংযোজনের প্রয়োজন রয়েছে। 

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী বলেন, অধ্যাদেশটি গ্রহণযোগ্য। তবে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনীতি যেন না থাকে। তিনি ক্যাম্পাসগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন। 

সমকালের জ্যেষ্ঠ সহসম্পাদক মাহফুজুর রহমান মানিক প্রস্তাবিত অধ্যাদেশের বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, এতে শিক্ষার সংকোচন ঘটবে। তিনি মত প্রকাশ করেন, সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির নামে একটি বিশ্ববিদ্যালয় হতেই পারে, তবে কলেজগুলোর স্বাতন্ত্র্য যেন বজায় থাকে। সেজন্য স্কুল মডেল নয়, কলেজিয়েট পদ্ধতির কথা তিনি বলেন।

সাংবাদিক সাবিদিন ইব্রাহীম বলেন, প্রস্তাবিত অধ্যাদেশে ছাত্র সংসদের বিষয়টি কেন রাখা হয়নি, তা স্পষ্ট নয়। 

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা সভায় জানান, ২০ নভেম্বর পর্যন্ত মতামত গ্রহণ প্রক্রিয়া খোলা থাকবে। আগ্রহীরা এ সময়ের মধ্যে লিখিত মতামত পাঠাতে পারবেন।

মন্ত্রণালয়-সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, প্রতিনিধিদের সামগ্রিক অবস্থান ছিল ইতিবাচক ও সমর্থনমূলক। সাত কলেজের দীর্ঘদিনের একাডেমিক জটিলতা ও প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতা দূর করতে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’কে একটি সম্ভাবনাময় উদ্যোগ হিসেবে দেখা যেতে পারে বলেও তারা মত দেন।

গত ২৬ মার্চ অন্তর্বর্তী সরকার রাজধানীর সাত সরকারি কলেজকে পৃথক করে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ নামে নতুন একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের ঘোষণা দেয়। নামটি নির্ধারণ করে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)।

কলেজগুলো হলো– ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, মিরপুর বাঙলা কলেজ এবং সরকারি তিতুমীর কলেজ।

আরও পড়ুন

×