ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

সমকাল এক্সপ্লেইনার

ক্ষমতাসীনদের নিয়ন্ত্রণেই থাকবে সাংবিধানিক নিয়োগ

ক্ষমতাসীনদের নিয়ন্ত্রণেই থাকবে সাংবিধানিক নিয়োগ
×

সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ কমিটির সদস্য বণ্টন। গ্রাফিকস: সমকাল

রাজীব আহাম্মদ

প্রকাশ: ২০ নভেম্বর ২০২৫ | ১৪:২৫ | আপডেট: ২০ নভেম্বর ২০২৫ | ১৪:৩৯

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ পাস হলে প্রধানমন্ত্রীর একচ্ছত্র ক্ষমতা কমলেও, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ ক্ষমতাসীন দলের নিয়ন্ত্রণেই থাকবে। তখন প্রধানমন্ত্রীর একক ক্ষমতার পরিবর্তে স্পিকার, সরকারি দলের সংসদ উপনেতা এবং চিফ হুইপের সমন্বয়ে সাংবিধানিক নিয়োগের সিদ্ধান্ত হবে।

কোনো নিয়োগ কমিটিতেই বিরোধী দল সংখ্যাগরিষ্ঠ হবে না। বিরোধীরা কোনো কোনো কমিটিতে সংখ্যায় ক্ষমতাসীনদের চেয়ে সমান বা বেশি হলেও, নিরপেক্ষ সদস্যের মাধ্যমে ভারসাম্য থাকবে। বিরোধী দল মতামত দিতে পারলেও, সাংবিধানিক নিয়োগ দিতে পারবে না। 

যদিও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা আছে, জুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ী সংস্কার হলে বিরোধী দল শক্তিশালী হয়ে উঠবে। নির্বাচন কমিশন, ন্যায়পাল, সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি),  মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি) এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মতো সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষমতা বিরোধী দলের হাতে চলে যাবে। তবে সনদ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর নয়, ক্ষমতাসীন দলের নিয়ন্ত্রণেই থাকবে সাংবিধানিক নিয়োগ। 

অর্থ্যাৎ, সরকারপ্রধানের একচ্ছত্র ক্ষমতা কমে তা সরকারি দলের হাতে যাবে। তবে তিনটি নিয়োগ কমিটিতে দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার বিধান থাকায়, বিরোধী দলের অন্তত একজনের সম্মতির প্রয়োজন হবে। এই কমিটিগুলোতে শুধু প্রধান বিরোধী দল নয়, সংসদের দ্বিতীয় বৃহত্তম দলের প্রতিনিধিও থাকবেন।

ধরা যাক, আগামী সংসদে ‘ক’ দল ক্ষমতায়। ‘খ’ প্রধান বিরোধী দল। দ্বিতীয় বৃহত্তম বিরোধী দল হলো ‘গ’। এখন সাংবিধানিক নিয়োগের ক্ষেত্রে ‘গ’এর প্রতিনিধি যদি ‘ক’ দলকে সমর্থন দেয় তাহলে ‘খ’ দল সেই নিয়োগ আটকাতে পারবে না। ‘খ’ যদি তাঁর পছন্দের নিয়োগ দিতে চায় তাহলে ‘গ’ দল, কমিটির নিরপেক্ষ সদস্য ও ‘ক’ দলের সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন হবে। কিন্তু ‘ক’ দলের যদি তাতে অসম্মতি থাকে তাহলে ‘খ’ এর পক্ষে প্রয়োজনীয় সমর্থন আদায় করে পছন্দের কাউকে নিয়োগ দেওয়া অসম্ভব।

সংবিধানের ৪৮(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী এবং প্রধান বিচারপতি নিয়োগ বাদে রাষ্ট্রপতিকে সব কাজ করতে হয় প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে। ফলে মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার ব্যবস্থার কথা বলা হলেও প্রধানমন্ত্রীই সর্বেসর্বা। তাই প্রধানমন্ত্রীর নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা কমাতে অনেক দিন ধরেই আলোচনা ছিল।

অভ্যুত্থানের পর গঠিত সংস্কার কমিশনগুলোও এ বিষয়ে সুপারিশ করে। এতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর অনিয়ন্ত্রিত ক্ষমতার কারণেই স্বৈরশাসনের উদ্ভব হয়। তাই বিচার বিভাগ, সাংবিধানিক এবং সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর একচ্ছত্র ক্ষমতা কমাতে হবে।

গণভোটের প্রশ্নে যেসব প্রস্তাব
গত ১৭ অক্টোবর রাজনৈতিক দলগুলো স্বাক্ষরিত জুলাই জাতীয় সনদে সংস্কারের ৮৪টি প্রস্তাব আছে। ১৩ নভেম্বর উপদেষ্টা পরিষদের অনুমোদনের পর রাষ্ট্রপতির জারি করা জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী, সংস্কারের বিষয়ে গণভোট হবে আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন। 

গণভোটে একটি প্রশ্নে চারটি ভাগে সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত ৪৮টি প্রস্তাব থাকে। প্রথম দুই ভাগে আছে, পিআর পদ্ধতিতে ১০০ সদস্যের সংসদের উচ্চকক্ষ গঠন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের গঠন পদ্ধতি, প্রধানমন্ত্রীর পরিবর্তে কমিটির মাধ্যমে ইসি, পিএসসি, সিএজি ও ন্যায়পালের মত সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ এবং দুদককে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর সংক্রান্ত প্রস্তাব। নির্বাচন কমিশন বাদে এ সংক্রান্ত ৯ সংস্কার প্রস্তাবে বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট (ভিন্নমত) আছে। তবে আদেশে বলা হয়েছে, গণভোটে হ্যাঁ জয়ী হলে এসব সংস্কার প্রস্তাব সনদ অনুযায়ী বাস্তবায়ন করতে হবে। 

গণভোটের প্রশ্নের তৃতীয় ভাগে আছে, এমন ৩০টি সংস্কার প্রস্তাব যাতে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপিসহ প্রায় সব দল একমত। আদেশে বলা হয়েছে, গণভোটে হ্যাঁ জয়ী হলে এসব সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নে বাধ্য থাকবে জাতীয় নির্বাচনে জয়ী হল। 

গণভোটের প্রশ্নের চতুর্থ ভাগে আছে, প্রধানমন্ত্রীর দলীয় প্রধান না থাকা, উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগে কমিশন গঠন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতিকে দেওয়াসহ বাকি ৯ সংস্কার প্রস্তাব। আদেশে বলা হয়েছে, গণভোটে হ্যাঁ জয়ী হলেও আগামী সংসদের বিজয়ী দল নোট অব ডিসেন্ট অনুযায়ী এসব সংস্কার করতে পারে। 

নির্বাচন কমিশন
বিদ্যমান আইনে ৭ সদস্যের সার্চ কমিটির মাধ্যমে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অন্য চার কমিশনার নিয়োগ করেন রাষ্ট্রপতি। ২০২২ সালের আইন অনুযায়ী, প্রধান বিচারপতি মনোনীত আপিল বিভাগের একজন বিচারক সার্চ কমিটির প্রধান। অন্য সদস্যরা হলেন, প্রধান বিচারপতি মনোনীত আপিল বিভাগের আরেক বিচারক, প্রধান বিচারপতি মনোনীত হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারক; মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক; সরকারি কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান এবং রাষ্ট্রপতি মনোনীত দুজন সদস্য। 

বিদ্যমান আইনে মহাহিসাব নিরীক্ষক এবং পিএসসি চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেন প্রধানমন্ত্রী নিজে। ৪৮(৩) অনুচ্ছেদের কারণে, রাষ্ট্রপতি মনোনীত দুই সদস্য প্রধানমন্ত্রীরই বাছাই করা। ফলে ৭ সদস্যের কমিটির চারজনই প্রধানমন্ত্রীর নিয়োগ করা বা মনোনীত। সার্চ কমিটি প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এবং অন্য চার কমিশনার পদের জন্য ১০ জনের নাম রাষ্ট্রপতির কাছে প্রস্তাব করেন। রাষ্ট্রপতি সেখান থেকে ৫ জনকে নিয়োগ দেন। তবে ৪৮(৩) অনুচ্ছেদের কারণে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শেই এই নিয়োগ দিতে হয়। ফলে নির্বাচন কমিশনের আসল নিয়োগকারী প্রধানমন্ত্রীই। 

নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠনে জুলাই সনদে প্রস্তাব করা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, বিরোধী দলীয় নেতা, বিরোধী দলীয় ডেপুটি স্পিকার এবং প্রধান বিচারপতির মনোনীত আপিল বিভাগের এক বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত পাঁচ সদস্যের বাছাই কমিটি থাকবে। কমিটি যাদের নাম প্রস্তাব করবে তাদেরই নিয়োগ দিতে বাধ্য থাকবেন রাষ্ট্রপ্রধান। এই সংস্কার প্রস্তাবে বিএনপিও একমত হয়েছে। 

এই কমিটিতে প্রধানমন্ত্রী এবং স্পিকার সরকারি দলের সদস্য। বিরোধী দলীয় নেতা এবং ডেপুটি স্পিকার বিরোধী দলের। ফলে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলের দুই-দুই সমতা আছে।  ভারসাম্য নির্ধারণ করবেন প্রধান বিচারপতির মনোনীত সদস্য। সনদ অনুযায়ী, এই কমিটি সর্বসম্মতিক্রমে নির্বাচন কমিশনে নিয়োগের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে নাম প্রস্তাব করে। তবে সর্বসম্মতি না হলে, কী হবে তা বলা নেই সনদে। 

বিরোধীদের পক্ষে ন্যায়পাল নিয়োগ অসম্ভব 
সংবিধানের ৭৭ অনুচ্ছেদে ন্যায়পালের বিধান থাকলেও এ পদে কখনও নিয়োগ হয়নি। ফলে সরকারের যে কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্ত করার ক্ষমতাসম্পন্ন পদটি অকার্যকর। সনদে বলা হয়েছে, ন্যায়পাল নিয়োগ হবে ৭ সদস্যের কমিটির মাধ্যমে। 

এর মধ্যে দুই সদস্য হবেন সরকারি দলের- স্পিকার ও সংসদ নেতা। স্পিকার হবেন কমিটির সভাপতি। তিন সদস্য হবেন বিরোধী দলের- ডেপুটি স্পিকার, বিরোধী দলীয় নেতা ও দ্বিতীয় বৃহত্তম দলের প্রতিনিধি। কমিটির অন্য দুই সদস্য হবেন রাষ্ট্রপতির প্রতিনিধি ও প্রধান বিচারপতি মনোনীত আপিল বিভাগের একজন বিচারক।

সনদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন, সংসদের নিম্নকক্ষ এবং প্রস্তাবিত উচ্চকক্ষের সদস্যদের গোপন ভোটে। নিম্নকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে ক্ষমতাসীন দল থেকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সম্ভাবনা বেশি। আর যদি বিরোধী দল থেকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়, তাঁর মনোনীত প্রতিনিধির মাধ্যমেও ন্যায়পাল নিয়োগ দিতে পারবে না বিরোধী দল। 

রাষ্ট্রপতি বিরোধী দলের হলে, সেক্ষেত্রে ন্যায়পাল নিয়োগ কমিটির চারজন সদস্য হবেন বিরোধী দলের। দুজন ক্ষমতাসীন দলের এবং অপরজন হবেন প্রধান বিচারপতির মনোনীত। কমিটিকে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় ন্যায়পাল নিয়োগের প্রস্তাব করতে হবে। বিরোধী দলের পছন্দের ব্যক্তিকে নিয়োগ সম্ভব হবে, যদি রাষ্ট্রপতি বিরোধী দলের হন এবং প্রধান বিচারপতির মনোনীতও বিরোধী দলের প্রস্তাবিত নাম সমর্থন করেন। 

পিএসসিতে বিরোধীদের একজনের সমর্থন প্রয়োজন
সনদ অনুযায়ী পিএসসিতে নিয়োগ হবে ৭ সদস্যের কমিটির মাধ্যমে। এর মধ্যে দুই সদস্য হবেন সরকারি দলের- স্পিকার ও সংসদের চিফ হুইপ। স্পিকার হবেন কমিটির সভাপতি। তিনজন সদস্য হবেন বিরোধী দলের- ডেপুটি স্পিকার, বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও দ্বিতীয় বৃহত্তম বিরোধী দলের প্রতিনিধি। কমিটির অন্য দুই সদস্য হবেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবং শিক্ষা অথবা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত কমিটির সভাপতি।

সনদ অনুযায়ী, গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সভাপতি সংসদে এমপির সংখ্যানুপাতে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে বণ্টন হবে। জনপ্রশাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যের মতো কমিটির সভাপতি পদ সরকারি দল যদি বিরোধী দলকে দেয়, তবে পিএসসির নিয়োগ কমিটিতে বিরোধী দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকবে। নয়তো সরকারি দলই সংখ্যাগরিষ্ঠ থাকবে। 

সামাজিক মাধ্যমে প্রচার হচ্ছে, সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি পদ বিরোধী দল পাবে। তবে জুলাই সনদ অনুযায়ী, এ ভাষ্য সঠিক নয়। বিরোধী দল স্থায়ী কমিটি নয়, সরকারি হিসাব, প্রতিষ্ঠান, প্রাধিকার সংক্রান্ত চারটি সংসদীয় কমিটির সভাপতি পদ পাবে। মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটি এবং সংসদীয় কমিটি এক নয়। 

সংসদের কার্যপ্রণালী বিধির ২৪৮ অনুযায়ী, সংসদের স্পিকার স্থায়ী কমিটির সভাপতি পদে মনোনয়ন দেন। স্পিকার নির্বাচিত হবেন সরকারি দল থেকে। তিনি সরকার দলীয় এমপিকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিতে সভাপতি মনোনয়ন দিলে, পিএসসি নিয়োগ কমিটিতে সরকারি দলের সদস্য হবে ৪ এবং বিরোধী দলের সদস্য হবে তিনজন। ফলে বিরোধী দলের পক্ষে পিএসসিতে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব নয়। কমিটি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় পিএসসির চেয়ারম্যান এবং অনধিক ৭ জন সদস্য নিয়োগের প্রস্তাব করবে। দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে সরকারি দলকে বিরোধী দলের অন্তত একজনের সমর্থন পেতে হবে। 

মহাহিসাব নিরীক্ষক নিয়োগে সরকারি দল সংখ্যাগরিষ্ঠ
সনদে বলা হয়েছে, মহাহিসাব নিরীক্ষক নিয়োগ হবে ৭ সদস্যের কমিটির মাধ্যমে। এর মধ্যে দুজন সদস্য হবেন সরকারি দলের- সংসদ উপনেতা ও চিফ হুইপ। দুই সদস্য হবেন বিরোধী দলের- ডেপুটি স্পিকার ও বিরোধী দলীয় উপনেতা। ডেপুটি স্পিকার হবেন কমিটির সভাপতি। 

বাকি তিন সদস্য হবেন- জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সভাপতি, অর্থ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবং সরকারি হিসাব-সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির সভাপতি। সনদ অনুযায়ী, সরকারি হিসাব সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির সভাপতি পদ পাবে বিরোধী দল। ফলে এ কমিটিতে চার সদস্য হবেন সরকারি দলের এবং তিনজন বিরোধী দলের।

কমিটিকে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় মহাহিসাব নিরীক্ষক নিয়োগে রাষ্ট্রপতির কাছে নাম প্রস্তাব করতে হবে। দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে সরকারি দলকে বিরোধী দলের অন্তত একজন সদস্যের সমর্থন পেতে হবে। 

দুদকে নিয়োগে নিরপেক্ষরা নিয়ন্ত্রক
বিদ্যমান আইনে ৫ সদস্যের বাছাই কমিটির মাধ্যমে সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান দুদকের চেয়ারম্যান ও অপর দুই কমিশনার নিয়োগ করা হয়। প্রধান বিচারপতি মনোনীত আপিল বিভাগের একজন বাছাই কমিটির প্রধান। অপর সদস্যরা হলেন, হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারক; মহাহিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক; কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান এবং সর্বশেষ অবসরপ্রাপ্ত মন্ত্রিপরিষদ সচিব। 

জুলাই সনদে বলা হয়েছে, দুদক হবে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। এখানে নিয়োগ হবে ৭ সদস্যের কমিটির মাধ্যমে। কমিটিতে প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলীয় নেতার একজন করে প্রতিনিধি থাকবেন। বাকি পাঁচজন নিরপেক্ষ- আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি, হাইকোর্টের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি, মহাহিসাব নিরীক্ষক, পিএসসি চেয়ারম্যান এবং প্রধান বিচারপতি মনোনীত একজন নাগরিক প্রতিনিধি। আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি হবেন কমিটির সভাপতি। 

দুদকের নিয়োগে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার বিধান নেই। ফলে সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠায় সিদ্ধান্ত হবে। অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের মতামতেই দুদকে নিয়োগ হবে। সরকারি বা বিরোধীদলের নিয়ন্ত্রণ থাকবে না। 

আরও পড়ুন

×