ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

নির্যাতনের অভিযোগ পরিবারের

ডিবি হেফাজতে কিবরিয়া হত্যা মামলায় সন্দেহভাজনের মৃত্যু

সিরাজগঞ্জে হেফাজতে থাকা আরেক আসামির মৃত্যু

ডিবি হেফাজতে কিবরিয়া হত্যা মামলায় সন্দেহভাজনের মৃত্যু
×

মোক্তার হোসেন, শাহাদাত হোসেন

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২২ নভেম্বর ২০২৫ | ০৮:১০

| প্রিন্ট সংস্করণ

রাজধানীর পল্লবীতে যুবদল নেতা গোলাম কিবরিয়া হত্যার ঘটনায় আটক মোক্তার হোসেন (৪০) ডিবি হেফাজতে মারা গেছেন। এ ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠনের কথা জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

গতকাল শুক্রবার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ডিএমপি জানায়, সকাল ১০টার দিকে খাবার খাওয়ার জন্য মোক্তারকে ডাকাডাকি করা হয়। কোনো সাড়াশব্দ না পাওয়ায় পুলিশ সদস্যরা দ্রুত তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। 

তবে মৃতের পরিবারের অভিযোগ, পুলিশের নির্যাতনে মোক্তার মারা গেছেন। তাঁর স্ত্রী মোছা. মুক্তা সমকালকে বলেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মিরপুরের কালশীর বাসার নিচ থেকে মোক্তারকে ধরে নিয়ে যায় ঢাকা ডিবি পুলিশ। শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে থানা পুলিশ এসে আমাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গের সামনে নিয়ে যায়। সেখানে স্বামীর মৃতদেহ দেখি। তিনি বলেন, একজন সুস্থ মানুষকে ধরে নিয়ে গেল। পরে আমাকে তারা লাশ ফেরত দিল। পুলিশের নির্যাতনে তিনি মারা গেছেন। 

মৃতের ছেলে মৃদুল বলেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাবা ও আমাকে পল্লবী থানায় তুলে নেয় পুলিশ। সেখানে সম্মেলন কক্ষে টর্চার করা হয়েছে। কিবরিয়া হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র কোথায়– পুলিশ জানতে চায়। বাবাকে মারধর করা হয়। ডিবির সন্দেহ, যারা খুন করেছে তাদের অস্ত্র বাবার কাছে রয়েছে। এরপর ডিবিতে আমাদের নিয়ে আসে। বাবা ও আমাকে আলাদা সেলে দেয়। এক-দেড় ঘণ্টা পর ব্যথায় কাতরাচ্ছিলেন বাবা। পাশের সেল থেকে দেখছিলাম। আমাদের কেন এভাবে মারা হলো– এর বিচার চাই। পরে আমাকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়।

ডিএমপির মিডিয়া শাখার বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যুবদল নেতা কিবরিয়া হত্যা মামলার আসামি নজরুল, মাসুম ও জামানকে গত বৃহস্পতিবার শরীয়তপুরের বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। গ্রেপ্তাররা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেন। হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র-গুলি মোক্তারের হেফাজতে আছে বলে জানান। তাদের তথ্যে ডিবির একটি দল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পল্লবীর একটি গ্যারেজে অভিযান চালায়। ডিবির উপস্থিতি বুঝতে পেরে মোক্তার দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাঁকে আটক করা হয়। উত্তেজিত জনতা মোক্তারকে মারধর করে। 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মোক্তারের তথ্যের ভিত্তিতে ওই গ্যারেজ থেকে পিস্তলের আটটি গুলি উদ্ধার করে ডিবি। পরে তাকে মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। রাতে মোক্তার অসুস্থবোধ করলে ঢামেক হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে কিছু ওষুধ দিয়ে তাকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেন চিকিৎসক। তাকে আবার ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে খাবার খাওয়ার জন্য মোক্তারকে ডাকাডাকি করা হয়। সাড়াশব্দ না পেয়ে পুলিশ তাকে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ময়নাতদন্তের জন্য মোক্তারের মরদেহ ঢামেক মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় ডিএমপির পক্ষ থেকে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রধান ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (প্রশাসন) মো. সরওয়ার।

সিরাজগঞ্জে আসামির মৃত্যু
সিরাজগঞ্জ ও উল্লাপাড়া প্রতিনিধি জানান, সিরাজগঞ্জে পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) হেফাজতে চালককে হত্যা করে অটোরিকশা ছিনতাই মামলায় গ্রেপ্তার এক সন্দেহভাজন আসামির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। পুলিশের দাবি, আসামি শাহাদাত হোসেন শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। তবে চিকিৎসক বলছেন, তার আঙুলে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। গতকাল শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে মারা যান তিনি। মৃত শাহাদাত (৪৫) সিরাজগঞ্জের কালিয়া হরিপুর ইউনিয়নের মৃত খলিল হোসেনের ছেলে। 

সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক হিমাদ্রি শেখর সাহা সন্ধ্যায় জানান, সাদা পোশাকের পুলিশ সদস্যরা শাহাদাতকে হাসপাতালে ভর্তি করান। তার হাতের আঙুলে ক্ষতচিহ্ন ছিল। জানতে চাইলে পুলিশ সদস্যরা হাসপাতাল স্টাফদের ‘পাবলিক অ্যাসল্ট’ বলে জানান। ভর্তির পর তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা হলেও হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি মারা যান। ময়নাতদন্তের পরই প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

এ পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, আগে থেকে শাহাদাতের শ্বাসকষ্ট ছিল। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শ্বাসকষ্টের কারণে মারা গিয়ে থাকতে পারেন।

আরও পড়ুন

×