ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

লিখিত পরীক্ষা পেছানোর দাবি প্রার্থীদের, পিএসসি বলছে– না

৪৭তম বিসিএস

লিখিত পরীক্ষা পেছানোর দাবি প্রার্থীদের, পিএসসি বলছে– না
×

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৫ নভেম্বর ২০২৫ | ০৮:১৭ | আপডেট: ২৫ নভেম্বর ২০২৫ | ১১:১৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

৪৭তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার আর দুই দিন বাকি। আগামী বৃহস্পতিবার এ পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা। কিন্তু ‘যৌক্তিক সময়’ দাবিতে প্রায় এক মাস ধরে আন্দোলনরত প্রিলিমিনারি উত্তীর্ণ প্রার্থীদের বড় একটি অংশ রাজধানীর শাহবাগে সমাবেশ, সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন। রাজধানী থেকে রাজশাহী, ময়মনসিংহ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে এই আন্দোলন। রেলপথ অবরোধ থেকে শুরু করে মানববন্ধন– সবই দেখা গেছে গত এক সপ্তাহে।

২২ ও ২৩ নভেম্বর রাজশাহী ও ময়মনসিংহে দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রেলপথ অবরোধ করে পরীক্ষা পেছানোর দাবি জানান। এতে ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে। তবুও সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) অবস্থান অপরিবর্তিত– পরীক্ষার তারিখ আর পেছাবে না। পিএসসির যুক্তি হলো, ‘আর সময় নেই, নির্বাচন সামনে।’ পরীক্ষার রোডম্যাপ আগেই প্রকাশ করা হয়েছিল, প্রশ্নপত্র প্রস্তুত, আসন বিন্যাস চূড়ান্ত– সব মিলিয়ে এখন তারিখ পরিবর্তন করলে বড় ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হবে বলে জানিয়েছেন তারা।
পিএসসির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করে সমকালকে বলেন, প্রতিটি বিসিএস এক বছরে শেষ করার কথা। অথচ চার-পাঁচ বছর লেগে যাচ্ছে। ৪৭তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা ডিসেম্বরের মধ্যেই শেষ করতে পারলে অনেকটা এগোতে পারব। নির্বাচন সামনে– পরীক্ষা পেছানো মানে অনিশ্চয়তা শুরু। পরীক্ষার তারিখ পরিবর্তন করা হলে তা জাতীয় নির্বাচনের আগে আর আয়োজন করা সম্ভব হবে না। এতে একাধিক বিসিএসের জট সৃষ্টি হবে।

৪৭তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয় গত ২৯ সেপ্টেম্বর। উত্তীর্ণ হন ১০ হাজার ৬৪৪ জন। ২৬ অক্টোবর পিএসসি লিখিত পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ করে, যেখানে ২৭ নভেম্বর থেকে ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত হবে লিখিত পরীক্ষা। এই দুই মাসের সময়সীমাকে ‘অযৌক্তিক’ দাবি করছেন নতুন প্রার্থীরা। তাদের মতে, আগের বিসিএসগুলোতে প্রিলির পর অন্তত ৬ মাস লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় থাকত।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর শেষ করা শেখ রফিকুল ইসলাম সমকালকে বলেন, ৪৭তম বিসিএস আমার প্রথম বিসিএস। প্রিলি পাসের পর প্রস্তুতির সময়ই পাইনি। দুই মাসে লিখিত প্রস্তুতি নেওয়া বাস্তবে সম্ভব নয়। 
তবে লিখিত পরীক্ষার তারিখ পেছানোর দাবিতে সব চাকরি প্রার্থী একমত নন। উত্তীর্ণদের বৃহত্তর অংশ পুরোনো প্রার্থী– যারা ইতোমধ্যে ৪৫তম, ৪৬তমসহ একাধিক বিসিএসে লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন– তাদের প্রস্তুতি দীর্ঘমেয়াদি। ফলে তারা চান ২৭ নভেম্বরই পরীক্ষা হোক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী আরিফুর রহমান চৌধুরী বলেন, নতুন প্রার্থীরাই মূলত পরীক্ষা পেছানোর চেষ্টা করছেন। পুরোনো প্রার্থীরা চান অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেই পরীক্ষা সম্পন্ন হোক। 

পিএসসির পরীক্ষা শাখার কর্মকর্তারা জানান, লিখিত পরীক্ষার প্রশ্ন তৈরি হয়ে গেছে। এ প্রশ্ন দীর্ঘদিন নিরাপদে সংরক্ষণ করাও ঝুঁকিপূর্ণ। কোনোভাবে ফাঁস হলে পুনরায় প্রশ্ন তৈরি, মুদ্রণ, বিতরণ– সব মিলিয়ে বিসিএস প্রক্রিয়া আবার ধীরগতির হয়ে যাবে। পিএসসির জনসংযোগ কর্মকর্তা এস এম মতিউর রহমান বলেন, ৪৭তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তিতেই লিখিত পরীক্ষার সম্ভাব্য সময় জানানো হয়েছিল। তাই কেউ অপ্রস্তুত থাকার অভিযোগ তুলতে পারেন না। নির্ধারিত তারিখেই পরীক্ষা হবে।

 

আরও পড়ুন

×