সাবেক পুলিশ সুপারের বিরুদ্ধে ভুয়া গোয়েন্দা প্রতিবেদন ছড়ানোর অভিযোগ
পুলিশের লোগো
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৬ নভেম্বর ২০২৫ | ০১:৫৩
সাময়িক বরখাস্ত হওয়া রংপুরের সাবেক পুলিশ সুপার শিবলী কায়সারের বিরুদ্ধে ভুয়া গোয়েন্দা প্রতিবেদন ছড়িয়ে এক বিএনপি নেতার মানহানি করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ তুলে রংপুর–৩ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সামসুজ্জামান সামু জানিয়েছেন, তিনি এ ঘটনায় মামলা করবেন।
সামসুজ্জামান সামু সমকালকে বলেন, চাঁদাবাজিসহ নানারকম অনিয়ম–দুর্নীতির কারণে শিবলী কায়সারকে সাময়িক বরখাস্ত করে কর্তৃপক্ষ। এ সময় তার পক্ষে অবস্থান না নেওয়ায় তিনি আমিসহ পুলিশ ও প্রশাসনের কয়েক কর্মকর্তার ওপর ক্ষুব্ধ হন। এরপর থেকে তিনি দফায় দফায় ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে আমাদের মানহানির চেষ্টা চালাচ্ছেন। সম্প্রতি তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘গোপনীয়’ লেখা কিছু ভুয়া গোয়েন্দা প্রতিবেদন ছড়িয়ে দেন।
তিনি বলেন, তাতে উল্লেখ করা হয়, ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং রংপুরের সাবেক পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার সরকারকে আমি টাকার বিনিময়ে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করি। আমার গাড়িতেই তাদের সীমান্তে পৌঁছে দেওয়া হয়। অথচ আমার কোনো গাড়িই নেই।
তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনের জন্য প্রার্থী হওয়ার পর থেকে এসব অপপ্রচার শুরু হয়েছে। একজন সরকারি কর্মকর্তা কীভাবে এমন কাজ করতে পারেন? শিগগিরই এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলা করা হবে। শৃঙ্খলা পরিপন্থি কাজ করার ঘটনা তার জন্য নতুন নয়। তিনি আওয়ামী লীগের আমলেও শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে বরখাস্ত হয়েছিলেন। এবার এক নারীর কাছে চাঁদা দাবির ঘটনায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার অভিযোগে গত ১৩ নভেম্বর রংপুরের হারাগাছের ব্যবসায়ী লিপি খান ভরসার বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়। তিনি রংপুরের ধনাঢ্য ব্যবসায়ী করিম উদ্দীন ভরসার পুত্রবধূ। মামলার পর রংপুর মেট্রোপলিটন চেম্বারের পরিচালক অমিত বণিকের মাধ্যমে লিপির কাছে ১০ লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ ওঠে শিবলী কায়সারের বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে ১১ মার্চ পুলিশ সদর দপ্তরে তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন লিপি। সেইসঙ্গে তিনি ঘুষ দাবির কথোপকথনের কয়েকটি অডিও রেকর্ড জমা দেন। এর দুদিন পর লিপির পক্ষে তার প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মকর্তা রংপুরের কোতোয়ালি থানায় শিবলী কায়সারের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা করতে গেলে তাকে শিবলী মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে। ১৬ মার্চ লিপিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ কর্মকর্তা শিবলী কায়সার বলেন, গোয়েন্দা প্রতিবেদন ভুয়া এটা বলতে হলে আপনার কাছে সঠিক প্রতিবেদন থাকতে হবে। সেটা আছে? তাছাড়া কে বলেছে যে, সেই প্রতিবেদন আমি ছড়িয়েছি? আমি এক বছর আগে রংপুর থেকে চলে এসেছি। এর সঙ্গে আমার কী যোগাযোগ? আর সামু ভাই একজন সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী। বরখাস্ত হওয়া একজন এসপি যদি তাকে বিরক্ত করতে পারে, তাহলে তো তিনি ওই পদে নির্বাচিত হওয়ার উপযুক্তই নন।
শিবলী দাবি করেন, নারীর কাছে চাঁদা দাবি বা মারধরের ঘটনায় তাকে বরখাস্ত করা হয়নি। তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত এখনও চলছে।
- বিষয় :
- সাময়িক বরখাস্ত
- রংপুর
- পুলিশ
- বিএনপি নেতা
