ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

বদলি-পদোন্নতি নিয়ে বিএমএ’তে দ্বন্দ্ব, স্থবিরতা

পেশাজীবী সংগঠনে নির্বাচন নিয়ে অনীহা

বদলি-পদোন্নতি নিয়ে বিএমএ’তে দ্বন্দ্ব, স্থবিরতা
×

তবিবুর রহমান

প্রকাশ: ২৬ নভেম্বর ২০২৫ | ০৮:০০ | আপডেট: ২৬ নভেম্বর ২০২৫ | ১১:০১

| প্রিন্ট সংস্করণ

জোর দাবি থাকলেও পেশাজীবীদের সংগঠনগুলোতে নির্বাচন আয়োজনে অনাগ্রহ দেখা যাচ্ছে। বিভিন্ন দলের সমর্থকদের মধ্যে দ্বন্দ্ব, ক্ষোভ-বিক্ষোভ, হামলা, ভাঙচুরের ঘটনায় নির্বাচন আটকে আছে। তপশিল ঘোষণা করেও পরে তা পিছিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। কোথাও কোথাও জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর পেশাজীবীদের নির্বাচন করার কথা বলা হচ্ছে

দেশের চিকিৎসকদের প্রধান সংগঠন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) এখন কার্যত নেতৃত্বহীন। বদলি ও পদোন্নতি নিয়ে বিএনপিপন্থি ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) ও জামায়াতে ইসলামীপন্থি ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরামের (এনডিএফ) দ্বন্দ্বে বিএমএ নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে।

২০১৬ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ নির্বাচনে বিএমএর সভাপতি হন ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন এবং মহাসচিব হন ডা. এহতেশামুল হক চৌধুরী দুলাল। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, কমিটির মেয়াদ দুই বছর হলেও তারা প্রায় সাত বছর সংগঠনের নেতৃত্বে ছিলেন।

২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে নতুন নির্বাচনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। মার্চে পাঁচ সদস্যের নির্বাচন কমিশন গঠন করে জুলাইয়ে তপশিলও ঘোষণা হয়। তবে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর কমিশনের সদস্যরা পদত্যাগ করলে নির্বাচন স্থগিত হয়ে যায়। ফলে পুরোনো কমিটি এখনও বিদ্যমান।

গত বছর সেপ্টেম্বরে বিএমএর নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, তলবি সভা ডাকার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এক হাজার চিকিৎসকের স্বাক্ষর নেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়। তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে বদলি ও পদোন্নতি নিয়ে ড্যাব ও এনডিএফপন্থি চিকিৎসকদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। ফলে প্রক্রিয়াটি স্থবির হয়ে পড়ে। লক্ষ্য ছিল, আহ্বায়ক কমিটি গঠনের পর নির্বাচনের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে।

সম্প্রতি রাজধানীর বিএমএ ভবনে গিয়ে দেখা যায়, সভাপতির কক্ষসহ বেশির ভাগ কক্ষ বন্ধ। কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী জানান, অনেক নেতা কারাগারে বা আত্মগোপনে আছেন। সংগঠনের দৈনন্দিন খরচ চলছে অডিটোরিয়াম, দোকান ও রেস্টহাউসের ভাড়ার অর্থে।

নির্বাচন কমিশনের পদত্যাগী সভাপতি অধ্যাপক ডা. শাহ মনির হোসেন বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে নির্বাচন করা সম্ভব হয়নি। আমরা সবাই আগস্টে পদত্যাগ করেছি। তবে এখন চিকিৎসকরা জাতীয় নির্বাচনের আগে বিএমএর নির্বাচন চান না।

ড্যাব সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশিদ বলেন, বিএমএর নির্বাচন সাত বছর ধরে হয়নি। পুরোনো নেতৃত্ব এখনও বিলুপ্ত হয়নি। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কেটে গেলে সুষ্ঠু ভোটের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব আনার চেষ্টা করব। এখনও সবার মনোযোগ জাতীয় নির্বাচন ঘিরে।

এনডিএফ সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘বদলি-পদোন্নতি নিয়ে ড্যাবপন্থি চিকিৎসকরা এখন প্রভাব বিস্তার করছেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্ব করছেন বিএনপিপন্থি চিকিৎসকরা। আমরা চাই, নির্বাচনের মাধ্যমে সবাই মিলে নতুন নেতৃত্ব গঠন করতে। সেটি জাতীয় নির্বাচনের পর হওয়া উচিত।’

 

আরও পড়ুন

×