ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

তারেক রহমানের ফেরা নিয়ে নানা প্রশ্ন-আলোচনা, এসএসএফ চাইবে বিএনপি

তারেক রহমানের ফেরা নিয়ে নানা প্রশ্ন-আলোচনা, এসএসএফ চাইবে বিএনপি
×

তারেক রহমান

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৩ ডিসেম্বর ২০২৫ | ০৮:১৮ | আপডেট: ০৩ ডিসেম্বর ২০২৫ | ১১:২৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গুরুতর অসুস্থতার সময়ে তাঁর ছেলে তারেক রহমানের দেশে না ফেরা নিয়ে আগের মতোই নানা প্রশ্ন উঠছে এবং আলোচনা চলছে। সরকারের উপদেষ্টারা আবারও বলেছেন, নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই। দেশে ফিরতে চাইলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সহযোগিতা করবে সরকার। 

বিএনপি বলছে, খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেওয়ার ওপর নির্ভর করছে তারেক রহমানের ফেরা। দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে নেতারা বলেন, নিরাপত্তা ঝুঁকি নিরসন করতে হবে। তারেক রহমানকে এসএসএফের নিরাপত্তা দিতে বিএনপি প্রস্তাব করতে পারে সরকারের কাছে। 

গত ২৩ নভেম্বর থেকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গুরুতর অসুস্থ সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। বিএনপির পক্ষ থেকে আগেই জানানো হয়েছিল, নভেম্বরে ফিরবেন ১৭ বছর লন্ডনে স্বেচ্ছানির্বাচনে থাকা তারেক রহমান। পরে জানানো হয়, নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার আগে-পরে ফিরতে পারেন। মায়ের অসুস্থতার কারণে তাঁর ফেরা ত্বরান্বিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছিল। 

গতকাল উপদেষ্টা পরিষদের সভার সিদ্ধান্তে খালেদা জিয়াকে অতিগুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (ভিভিআইপি) হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে সরকার। এভারকেয়ার হাসপাতালে খালেদা জিয়াকে নিরাপত্তা দিচ্ছে এসএসএফ। বিশেষায়িত এই বাহিনী শুধু রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে নিরাপত্তা দিয়ে থাকে। 
পরিবারের সদস্য হিসেবে তারেক রহমানও এসএসএফের নিরাপত্তা পাবেন কিনা– এ আলোচনা চলছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। বিএনপির চেয়ারপারসনের নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর মঙ্গলবার বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, তারেক রহমান দেশে ফেরার পর তাঁর নিরাপত্তায় এসএসএফের সুবিধা চেয়ে সরকারকে প্রস্তাব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। 

তবে গত শনিবার ফেসবুক পোস্টে তারেক রহমান বলেন, ‘দেশে ফেরার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ অবারিত ও একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয়।’ এ বক্তব্যের পর প্রশ্ন উঠে কী কারণে দেশে ফিরছেন না বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর সমালোচনায় বিএনপি নেতারা আভাস দিচ্ছেন, নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে ফিরছেন না তারেক রহমান। যদিও কোথায় কী ঝুঁকি রয়েছে, তা স্পষ্ট করেননি কেউ। 

গতকাল মঙ্গলবার ফেসবুক পোস্টে তারেক রহমান লিখেছেন, ‘দেশবাসীর সম্মিলিত সমর্থনই জিয়া পরিবারের শক্তি ও প্রেরণার উৎস। মমতাময়ী দেশনেত্রীর দ্রুত আরোগ্যের জন্য আমরা সবাই নিরন্তর দোয়া করছি। এই কঠিন সময়ে ঐক্য, সহমর্মিতা ও সংহতির জন্য প্রতিটি মানুষের প্রতি অসীম কৃতজ্ঞতা রইল।’ খালেদা জিয়ার ছবি পোস্ট করে তারেক রহমান লিখেছেন, ‘বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে সুস্থতার জন্য যেভাবে সহযোগিতা ও শুভকামনা জানানো হচ্ছে, জিয়া পরিবার ও বিএনপির পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।’ 

এদিকে গতকাল বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেওয়ার মতো শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণের পর তারেক রহমান দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেবেন। পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকলে শিগগির দেশে ফিরবেন তিনি। 

স্থায়ী কমিটিতে নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা
গত সোমবার রাতে অনুষ্ঠিত বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে তারেক রহমানের ফেরা এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠক সূত্র সমকালকে জানিয়েছে, তারেক রহমানের দেশে ফেরার বিষয়ে সদস্যরা মতামত দিয়েছেন। তাড়াহুড়া কিংবা আবেগের বশে নয়, বাস্তবতার নিরিখে পরিকল্পনা ও তা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে। 

বৈঠকে অংশ নেওয়া নেতারা বলেছেন, দেশের প্রতিও তারেক রহমানের দায়বদ্ধতা রয়েছে। আবেগের বশে সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশে এলে এবং কোনো ক্ষতি হলে দল যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হবে,  দেশেও অরাজকতা হবে। তাই যেসব জায়গায় নিরাপত্তার প্রশ্ন এবং হুমকির শঙ্কা থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে, তা আগে নিরসন করতে হবে। 

‘ট্রাভেল পাস চাইলে এক দিনে দেওয়া সম্ভব’

মেয়াদ ফুরানোর পর পাসপোর্ট নেননি লন্ডনে নির্বাসিত তারেক রহমান। দেশে ফিরতে তাঁকে বাংলাদেশ বা অন্য কোনো দেশের পাসপোর্ট ব্যবহার করতে হবে। অথবা ট্রাভেল পাস নিতে হবে। সরকার আগেই জানিয়েছিল, তারেক রহমান চাইলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ট্রাভেল পাস দেওয়া হবে।
গতকাল পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌ‌হিদ হোসেন সাংবাদিকদের প্রশ্নে বলেছেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ট্রাভেল পাস চাননি।  তিনি চাইলেই ইস্যু হবে। তারেক রহমানের পাসপোর্টের বিষয়ে জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, এ বিষয়ে এবং দেশে আসা নিয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই মন্ত্রণালয়ের কাছে। খালেদা জিয়াকে বিদেশ নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে প্রস্তুতি রয়েছে সরকারের। যদি চিকিৎসকরা অনুমোদন দেন, তবে সেই অনুযায়ী তা করা হবে হয়তো। তিনি আরও বলেন, ‘তারেক রহমান দেশে আসতে চাইলে বিধিনিষেধ নেই, এক দিনে ট্রাভেল পাস দেওয়া সম্ভব।’
‘নিরাপত্তার কোনো শঙ্কা নেই’

গতকাল সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, বাংলাদেশে কারও কোনো নিরাপত্তার শঙ্কা নেই। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কারও যদি বিশেষ নিরাপত্তার প্রয়োজন হয়, সেটি দেওয়ার জন্যও মন্ত্রণালয় প্রস্তুত আছে। 

 

 

 

আরও পড়ুন

×