স্থায়ী কমিটির বৈঠকে নির্বাচনী প্রচারের কৌশল নির্ধারণ
কামরুল হাসান
প্রকাশ: ০৩ ডিসেম্বর ২০২৫ | ০৮:২১ | আপডেট: ০৩ ডিসেম্বর ২০২৫ | ১১:২৭
| প্রিন্ট সংস্করণ
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অসুস্থতা ঘিরে গত কয়েকদিন দলটির নির্বাচনী কার্যক্রমে গতি কমেছে। ভোটের কাজে আবার গতি ফেরানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটির স্থায়ী কমিটি। গত সোমবার রাতে দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী এ ফোরামে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণার বিষয়ে কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
প্রচার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ নামে একটি কর্মসূচি হাতে নিয়েছে দলটি। জেন-জি প্রজন্ম থেকে শুরু করে সমাজের প্রতিটি শ্রেণিকে এ কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা করছে দলটি।
জানা গেছে, বাসযোগ্য, আধুনিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে নানা পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রচার চালাবে বিএনপি। সে ক্ষেত্রে সাতটি বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে দলটি। এগুলো হলো– জলবায়ু ও পরিবেশ রক্ষা; শিক্ষা ও দক্ষ জনশক্তি তৈরি; স্বাস্থ্য, কৃষি, নারী, ক্রীড়া ও ধর্ম। ক্ষমতায় গেলে এসব বিষয়ে বিএনপি কী করবে, তা প্রতিশ্রুতি আকারে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে লিফলেটের মাধ্যমে তুলে ধরা হবে। এ জন্য দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সমন্বয়ে একাধিক টিম দ্রুতই মাঠে নামবে।
পাশাপাশি ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ কর্মসূচি বিষয়ে নেতাকর্মীকে নানা দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে। স্থায়ী কমিটির বৈঠকে ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী উপস্থিত ছিলেন। সমকালকে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত দেশ গড়ার পরিকল্পনা শীর্ষক ঘোষিত কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ছাড়া বৈঠকে সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচনের প্রস্তুতিসহ নানা বিষয়ে কথা হয়েছে।
সূত্র জানায়, আগামী নির্বাচনে ‘জেন-জি’ প্রজন্মকে গুরুত্ব দিয়ে তাদের চাহিদা সামনে রেখে প্রচার-প্রচারণায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
বৈঠক সূত্র জানায়, বৈঠকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অসুস্থতা, তাঁর চিকিৎসাসহ নানা বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন নেতারা। সেখানে নেতারা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন কয়েক বছর ধরেই গুরুতর অসুস্থ। বিশেষ করে কারাজীবনে তাঁর সঙ্গে আওয়ামী লীগ সরকারের নির্যাতন ভয়াবহ আকার ধারণ করে। সে সময় সরকারের অসহযোগিতায় ঠিকমতো চিকিৎসাও সম্ভব হয়নি।
কয়েক দিন ধরে তিনি অসুস্থ ছিলেন। এ অবস্থায় ২১ নভেম্বর সশস্ত্র বাহিনী দিবসে ওই রকম জনাকীর্ণ পরিবেশে তাঁকে নেওয়া ঠিক হয়নি। সেখান থেকেই তিনি সংক্রমিত হতে পারেন বলে স্থায়ী কমিটির নেতারা মনে করেন।
এসব ছাড়াও সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়া বিতর্কিত ও সমালোচিত প্রার্থী বদল বিষয়ে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। গত ৩ নভেম্বর ২৩৭ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী ঘোষণার পর থেকে অর্ধশতাধিক আসনে ‘মনোনয়ন বিদ্রোহ’ দেখা দেয়। সেসব আসনের পাশাপাশি যে ৬৩ আসনে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করা হয়নি, সেগুলো নিয়েও আলোচনা হয়েছে বৈঠকে।
বৈঠকে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাঁর দেশে ফেরা নিয়েও আলোচনা করেন নেতারা।
সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমেদ, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
- বিষয় :
- বিএনপি
- জাতীয় সংসদ নির্বাচন
- গণসংযোগ
- প্রচারণা
