ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

অপহরণ-গুম-নির্যাতন

শেখ হাসিনা ও ১১ সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আর্জি রাষ্ট্রপক্ষের

শেখ হাসিনা ও ১১ সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আর্জি রাষ্ট্রপক্ষের
×

ফাইল ছবি

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৭ ডিসেম্বর ২০২৫ | ১৯:৩০

আওয়ামী লীগের শাসনামলে গত আট বছরে জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলে (জেআইসি) অপহরণ-গুম-নির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তারিক আহমেদ সিদ্দিক ও ১১ সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের ওপর শুনানি শেষ করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। স্টেট ডিফেন্স ও আসামিপক্ষের শুনানির জন্য আগামী মঙ্গলবার দিন ধার্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-১ আজ রোববার এ তারিখ নির্ধারণ করেন। এসময় জামায়াতের সাবেক আমির প্রয়াত গোলাম আযমের তিন ছেলেসহ ভুক্তভোগী পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। 

এদিন প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। তিনি জেআইসি সেলে সরকারবিরোধী মতের লোকদের তুলে নিয়ে অপহরণ-গুম-নির্যাতনের ভয়াবহ বর্ণনা তুলে ধরেন। একইসঙ্গে ২০১৫ সালের ২২ অক্টোবর থেকে গতবছর ৫ আগস্ট পর্যন্ত গুমের শিকার সাবেক সেনা কর্মকর্তা আব্দুল্লাহিল আমান আযমীসহ ২৬ জনের বীভৎসতা ঘটনার অবতারণা করেন। এসব ঘটনায় পাঁচটি অভিযোগ এনে এ মামলায় ১৩ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠনের আর্জি জানান চিফ প্রসিকিউটর। পরে পলাতক আসামিদের পক্ষে স্টেট ডিফেন্স ও গ্রেপ্তার তিন আসামির অব্যাহতি চেয়ে আবেদনের ওপর শুনানির জন্য মঙ্গলবার দিন ঠিক করেন ট্রাইব্যুনাল। উপস্থিত তিন আসামির পক্ষে আবেদন করেন আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু।

এ মামলায় ১৩ জনের মধ্যে গ্রেপ্তার হওয়া তিন সেনা কর্মকর্তা এ দিন ট্রাইব্যুনালে হাজির ছিলেন। তারা হলেন- প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা (ডিজিএফআইয়ের) সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভীর মাজাহার।
শেখ হাসিনাসহ পলাতক অন্য আসামিরা হলেন- মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক লে. জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আকবর হোসেন, মেজর জেনারেল (অব.) সাইফুল আবেদিন, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব) মো. সাইফুল আলম, লেফটেন্যান্ট জেনারেল তাবরেজ শামস চৌধুরী, মেজর জেনারেল (অব.) হামিদুল হক, মেজর জেনারেল তৌহিদুল ইসলাম, মেজর জেনারেল কবির আহাম্মদ ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব) মখসুরুল হক।

আয়নাঘরের বর্ণনা
এদিন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বন্দিদের ওপর নির্যাতনের বিবরণ দেন। তিনি বলেন, ‘এসব অপহরণ, গুম ও নির্যাতনের ঘটনার জন্য শেখ হাসিনা সরাসরি নির্দেশ দিয়েছেন এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে তার প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা তারেক আহমেদ সিদ্দিকীর সরাসরি নির্দেশনায় এসব নির্যাতনের ঘটনা ঘটতো। এসব ঘটনায় র‌্যাব, সিটিটিবি ও ডিজিএফআইয়ের সদস্যরা সরাসরি জড়িত।’

সেনানিবাসের কচুক্ষেত এলাকায় ডিজিএফআইয়ের সদর দপ্তরের দক্ষিণ পাশে মেস-বি এর মাঝে একটি দোতলা ভবনে ছোট ছোট খোপের মতো বন্দিশালা ছিল। এতে ছিল মোটা রডের গ্রিল ও বাইরে ছিল ঢাকনা। ভেতরে কোনো আলো-বাতাসের ব্যবস্থা ছিল না। প্রত্যেকটা সেলের ভেতরে সিসি ক্যামেরা লাগানো থাকত। ছোট ভেন্টিলেটর ছিল। এ ছাড়া যখনই আজান হতো তখন এগজস্ট ফ্যান চালানো থাকত। কখনো কখনো উচ্চশব্দে সাউন্ড বক্সে গান বাজানো হতো। বন্দিরা যেন আজান বা বাইরের কোনো শব্দ শুনে বুঝতে না পারেন এটা কোনো জায়গা। এমনকি ২৫ জন বন্দিকে একটি ব্রাশ ব্যবহারে বাধ্য করা হতো। মুখ মুছতে হতো নোংরা গামছায়। জেআইসি সেল বা আয়নাঘর নিয়ে এমনই ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে।
 
পরে প্রেস ব্রিফিংয়ে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, শেখ হাসিনার পতনের পর তদন্ত সংস্থার সঙ্গে বন্দিশালা পরিদর্শনে যান ২৬ ভুক্তভোগী। তখন নিজেরাই এসব সেল চিহ্নিত করেন। এসব বন্দিশালা ভিডিও করে নিয়ে আসা হয়েছে বলে শুনানিতে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর। যা ট্রায়ালের সময় তুলে ধরা হবে।

আরও পড়ুন

×