নির্বাচন আয়োজনে ইসিকে সহযোগিতা দিতে পরিপত্র
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫ | ০৪:৫৯
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠুভাবে আয়োজনে নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা দিতে পরিপত্র জারি করেছে সরকার। গতকাল সোমবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ পরিপত্র জারি করা হয়।
সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব, সচিব, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা, বিভাগীয় কমিশনার, ডিসি, এসপি, ইউএনও এবং মাধ্যমিক, প্রাথমিক, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে পরিপত্রের অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আব্দুর রশীদের সই করা পরিপত্রে বলা হয়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ এবং গণভোট হবে। নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য ইসি এরই মধ্যে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিয়েছে। ইসি সচিবালয়ের অনুরোধক্রমে সরকারের পক্ষ হতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনীয় কার্যক্রম নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
এতে আরেও বলা হয়, নির্বাচন-সংক্রান্ত কার্যাদি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা ও সম্পাদনের জন্য সব মন্ত্রণালয়/বিভাগ তথা সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত অফিস/প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা/কর্মচারীদের মধ্য থেকে এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে বেসরকারি অফিস/প্রতিষ্ঠান থেকেও প্রিসাইডিং অফিসার/সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার/পোলিং অফিসার নিয়োগ করার প্রয়োজন হবে। সরকারি, সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের মধ্য থেকে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিক্ষককে ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োগ ছাড়াও নির্বাচনের বিভিন্ন দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। এ ছাড়া বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবনগুলো ভোটকেন্দ্র হিসেবে এবং প্রতিষ্ঠানের আসবাবপত্র নির্বাচনের কাজে ব্যবহার করার প্রয়োজন হবে।
পরিপত্রে বলা হয়, প্রেষণে চাকরিরত থাকাকালে নির্বাচন-সংক্রান্ত দায়িত্ব পালন বিষয়ে ইসি এবং ক্ষেত্রমতো রিটার্নিং অফিসারের নিয়ন্ত্রণে থাকবেন। তিনি তাঁর যাবতীয় আইনানুগ আদেশ বা নির্দেশ পালনে বাধ্য থাকবেন। প্রেষণে চাকরিরত থাকাকালে নির্বাচন-সংক্রান্ত দায়িত্ব প্রাধান্য পাবে। এ অবস্থায় সব কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে রিটার্নিং অফিসারের যে কোনো আইনানুগ নির্দেশ জরুরি ভিত্তিতে পালনের নিশ্চয়তা বিধান করা প্রয়োজন।
সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১২৬ এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ৫ অনুসারে নির্বাচন অনুষ্ঠানে ইসিকে সহযোগিতা করা সবার অবশ্যপালনীয় দায়িত্ব। এ ছাড়া গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর ৪৪৬ অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী নির্বাচনী সময়সূচি জারি হওয়ার পর থেকে ফলাফল ঘোষণার পরবর্তী ১৫ দিন পর্যন্ত ইসির অনুমতি ছাড়া ওই অনুচ্ছেদে বর্ণিত কোনো কর্মকর্তা/কর্মচারীকে অন্যত্র বদলি করা যাবে না বলেও পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে তিনটি ব্যবস্থা নিতে হবে বলে পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রথমত, নির্বাচন অনুষ্ঠানের কাজে অর্পিত দায়িত্ব আইন ও বিধি অনুযায়ী নিরপেক্ষভাবে পালন করে ইসিকে সহায়তা ও সহযোগিতা প্রদানের লক্ষ্যে সব মন্ত্রণালয়/বিভাগ এবং অধিদপ্তর/দপ্তর/সংস্থা থেকে তাদের অধীন কর্মকর্তা/কর্মচারীদের অবিলম্বে নির্দেশ দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, শিক্ষা মন্ত্রণালয়/প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে সরকারি, সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক/শিক্ষিকাদের প্রতিও এমন নির্দেশ জারি করতে হবে। তৃতীয়ত, নির্বাচন পরিচালনার কাজ অব্যাহত রাখার নিশ্চয়তা বিধানের জন্য সব মন্ত্রণালয়/বিভাগ তথা সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত অফিস/প্রতিষ্ঠান/সংস্থাকে তাদের যেসব কর্মকর্তা ও কর্মচারী নির্বাচনের কাজে জড়িত আছেন; নির্বাচনের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের ছুটি প্রদান বা অন্যত্র বদলি করা বা নির্বাচনী দায়িত্ব ব্যাহত হতে পারে, এমন কোনো দায়িত্ব দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
