ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

ফুলের নাম প্রথম প্রেম!

ফুলের নাম প্রথম প্রেম!
×

ময়মনসিংহের কাচারিঘাটের নার্সারিতে ফার্স্ট লাভ ফুল (ছবি-লেখক)       

চয়ন বিকাশ ভদ্র 

প্রকাশ: ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ | ১১:৩৩ | আপডেট: ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ | ১১:৩৩

ময়মনসিংহে ব্রহ্মপুত্রতীরের একটি নার্সারিতে গিয়েছিলাম সম্প্রতি। নার্সারির উত্তর পাশে ধু-ধু বালুময় চর, তার উত্তরে ব্রহ্মপুত্র নদ। সেখানে হঠাৎ সোনালি-হলুদ রঙের ফুলের সন্ধান পাই। এটি ফার্স্ট লাভ ফ্লাওয়ার নামে পরিচিত। বাংলায় যা দাঁড়ায় প্রথম ভালোবাসা বা প্রথম প্রেমের ফুল। এ ফুল অবশ্য লাল রঙেরও হতে পারে। এ জন্য ইংরেজিতে এর আরেকটি নাম রেড পেন্ডা। 

এ ফুল দেখে মানুষ প্রেমে পড়ে যায় কিনা, কিংবা ভালোবাসার মানুষকে কেউ এটা উপহার দেয় কিনা, জানা নেই। তারপরও এর নাম ফার্স্ট লাভ ফ্লাওয়ার। ফুলের গুচ্ছ দেখতে যেমন সুন্দর, তেমনই সুন্দর পল্লবঘন এই উদ্ভিদ। এর লম্বা পুংকেশর সবার আগে চোখে পড়ে। এই বৈশিষ্ট্যই এ উদ্ভিদকে একই গণের অন্য উদ্ভিদ থেকে আলাদা করে রেখেছে। পাতাগুলো চকচকে-সবুজ, বল্লমাকৃতির, প্রায় ১৫০ মিলিমিটার লম্বা হয়। 

এটি আমাদের দেশি উদ্ভিদ নয়। কয়েক বছর আগে এই উদ্ভিদ আমাদের দেশে এসেছে। এই ফুলে মধু আছে এবং মধু খেতে আসা পোকামাকড়ের মাধ্যমে এই ফুলের পরাগায়ন ঘটে। এর বৈজ্ঞানিক নাম Xanthostemon Chrysanthus, এটি Myrtaceae পরিবারের গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ। জাম, জামরুল আর গোলাপজাম একই গোত্রের উদ্ভিদ। তাই এদের ফুলের গঠনে মিল আছে। 

উদ্ভিদটি উষ্ণ আবহাওয়ায় ভালো জন্মে। ফার্স্ট লাভ গ্রীষ্মমণ্ডলীয় গাছ। এর আদি নিবাস উত্তর অস্ট্রেলিয়া। পাতা বর্শাফলকের আকৃতির, দৈর্ঘ্যে  ৮-২০ সেন্টিমিটার এবং প্রস্থে  ১.৫-৫ সেন্টিমিটার হয়, পাতা সর্পিলভাবে সাজানো, গাঢ় সবুজ এবং চামড়ার মতো। ফুল উজ্জ্বল হলুদ এবং উভলিঙ্গিক। ফুলের পাপড়ি বৃতির কিনারায় সংযুক্ত। হলুদ পুংকেশর প্রায় ৩ সেন্টিমিটার লম্বা। পুংকেশর কেন্দ্রে অবস্থিত গর্ভদণ্ডকে ঘিরে থাকে। গর্ভদণ্ড  ৩-৪ সেন্টিমিটার  লম্বা। ফল ক্যাপসুল, পরিপক্ব হওয়ার পরে সবুজ থেকে বাদামি হয়ে যায়।  তাপমাত্রা হঠাৎ কমে গেলে এই উদ্ভিদে ফুল ফোটে বলে ধারণা করা হয় এবং বীজ থেকে চারা জন্মানোর দুই-তিন বছর পরে উদ্ভিদে ফুল ফোটা শুরু হতে পারে। 

উদ্ভিদের বৈজ্ঞানিক নামের গণ অংশ Xanthostemon গ্রিক ‘জ্যান্থো’ এবং ‘স্টেমন’ থেকে এসেছে, যার অর্থ হলুদ পুংকেশর। প্রজাতিক পদ Chrysanthus দ্বারা সোনা এবং ফুলকে বোঝায়, যা গ্রিক শব্দ ‘খ্রুসোস’ এবং ‘এন্থোস’ থেকে এসেছে। ১৯৮২ সালে অস্ট্রেলিয়ার কেয়ার্নস থেকে সিঙ্গাপুরে এই উদ্ভিদ প্রবর্তিত হয়।

গোল্ডেন পেন্ডা  গাছ ১০-১৫ মিটার উঁচু হয়। এটি সাধারণত বাগানে অনেক বেশি ঘন হয়। বাকল রুক্ষ এবং গাছ ঝোপাল। পাতা ৭-২২ সেন্টিমিটার লম্বা এবং ২-৯.৫ সেন্টিমিটার চওড়া হয়। পাতাগুলো আবর্তাকারে সাজানো থাকে। পুষ্পবিন্যাস ক্যাপিচুলাম বা হেড বা রেসিম। ফুল শাখা-প্রশাখার প্রান্তে বা পাতার অক্ষে থাকে। ফুলে কোনো গন্ধ নেই। ফুল  অসংখ্য, ছোট, ১-২ সেন্টিমিটার ব্যাসের, পৃথক সোনালি। ফুল ফোটার পরে ছোট– ১-১.৫ সেন্টিমিটার চওড়া, সবুজ বা বাদামি কাঠের ক্যাপসুল দেখা যায় যা আগস্ট এবং ফেব্রুয়ারির মধ্যে পাকে। ফুল ফোটার সময় গ্রীষ্ম থেকে শরৎ। উদ্ভিদ  দ্রুত বর্ধনশীল এবং বেশি  রক্ষণাবেক্ষণের দরকার হয় না।
লেখক: উদ্ভিদবিজ্ঞানের অধ্যাপক ও প্রকৃতি বিষয়ক লেখক 
 

আরও পড়ুন

×