ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

মেজর (অব.) সিনহা হত্যা মামলা

তিন মামলা তদন্তের দায়িত্ব পেল র‌্যাব

তিন মামলা তদন্তের দায়িত্ব পেল র‌্যাব
×

কক্সবাজার অফিস

প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২০ | ১২:০০ | আপডেট: ১০ আগস্ট ২০২০ | ১৮:৪৫

অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যার পর টেকনাফ থানায় পুলিশের দায়ের করা দুটি মামলায় জামিন পেয়েছেন স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাহেদুল ইসলাম সিফাত। গতকাল সোমবার সকালে শুনানির পর কক্সবাজারে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না ফারাহর আদালত সিফাতকে জামিনে মুক্তি দেন। অন্যদিকে রামু ও টেকনাফ থানায় পুলিশের ৩টি মামলা তদন্ত করার দায়িত্ব র‌্যাবের হাতে দিয়েছেন আদালত।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ বলেন, গতকাল বেলা ২টার দিকে সিফাতকে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। সিফাত ও শিপ্রা দু'জনই তাদের নিকটাত্মীয়ের বাসায় আছেন। তাদের সঙ্গে র‌্যাব ও তদন্ত কর্মকর্তার সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রয়েছে। সিফাতের আইনজীবী মোহাম্মদ মোস্তফা জানিয়েছেন, মেজর সিনহা হত্যার একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী হচ্ছেন সিফাত। এ ছাড়া সিফাতের কাছে যে মাদক পাওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সত্য নয়। ঘটনাকে আড়াল করার জন্য পুলিশ সিফাতের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে। এসব প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে শুনানি শেষে জামিন মঞ্জুর করেন বিচারক। আদেশের লিখিত কপি কারাগারে পৌঁছার পর দুপুরে মুক্তি পেয়েছেন সিফাত। জেলগেট থেকে তাকে গাড়িতে তুলে নিয়ে গেছেন তদন্তকারী সংস্থা র‌্যাবের লোকজন। এই সময়ে সিফাতের কয়েকজন আত্মীয়ও সেখানে ছিলেন। তারাও সিফাতের সঙ্গে গেছেন।

সিফাতের আইনজীবী বলেছেন, সিনহা হত্যার পর পুলিশের পক্ষ থেকে ৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। অন্যদিকে সিনহার বোন একটি মামলা করেছন। একই ঘটনা থেকে সব মামলার উদ্ভব। তাই সব মামলার তদন্তের দায়িত্ব র‌্যাবকে দেওয়ার জন্য আমরা আবেদন করেছি। আদালত আমাদের আবেদন বিবেচনা করে সব মামলার তদন্ত র‌্যাবকে হস্তান্তর করার আদেশ দিয়েছেন।

এ আইনজীবী বলেন, মামলার তদন্তভার র‌্যাবের কাছে হস্তান্তর করায় স্বাভাবিক নিয়মেই জব্দকৃত ল্যাপটপ, হার্ডডিস্কসহ অন্যান্য আলামত তদন্ত কর্মকর্তার কাছেই হস্তান্তর করতে হবে।

মেজর (অব.) সিনহা প্রামাণ্যচিত্র তৈরির জন্য ৩ জুলাই কক্সবাজার এসেছিলেন। তার সহযোগী ছিলেন সিফাত, শিপ্রা ও তাদের সহপাঠী তাহসিন রিফাত নুর। তারা সবাই উঠেছিলেন হিমছড়ি সৈকত তীরের নীলিমা রিসোর্টে। চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে সিনহা নিহত হওয়ার সময় তার সঙ্গে ছিলেন সিফাত। সিফাতকে আটক করে পুলিশ তার বিরুদ্ধে মাদকনিয়ন্ত্রণ আইন এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে দুটি মামলা দায়ের করে। এ দুটি মামলায় আসামি হয়ে সিফাত ঘটনার পর থেকে জেলে ছিলেন।

অন্যদিকে নীলিমা রিসোর্টে অবস্থান করছিলেন শিপ্রা ও তাহসিন। ঘটনার কিছু সময় পর রামু থানার পুলিশ ওই রিসোর্টে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে রামু থানায় নিয়ে যায়। থানা থেকে তাহসিনকে তার অভিভাবকের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হলেও শিপ্রার বিরুদ্ধে মাদকনিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে পুলিশ। পুলিশ শিপ্রার কক্ষ থেকে পাঁচ বোতল বিদেশি মদ, এক লিটার বাংলা মদ এবং এক পোটলা গাঁজা উদ্ধারের দাবি করে মামলায়। তবে পুলিশের এসব ভাষ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আদালতের আদেশে শিপ্রা রোববার জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।

সিনহার মৃত্যুর পর গত ৩ আগস্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ ঘটনার তদন্তে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) মোহাম্মদ মিজানুর রহমানকে প্রধান করে ৪ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটি গতকাল সোমবার সারাদিন তাদের তদন্ত কাজ অব্যাহত রেখেছে। সংশ্নিষ্ট সূত্র জানায়, তদন্ত কমিটির সদস্যরা ইতোমধ্যে সিফাত, শিপ্রাসহ অন্যান্য সাক্ষী এবং অভিযুক্তদের সঙ্গে কথা বলেছেন। এ ছাড়া এ ঘটনায় প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজনের সাক্ষ্যও গ্রহণ করেছে কমিটি।

আরও পড়ুন

×