৫ বছরে ছানিজনিত অন্ধত্ব নির্মূলের লক্ষ্য, জেলায় জেলায় জোর পাবে চক্ষুসেবা
বৃহস্পতিবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে আয়োজিত এক কর্মশালায় বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। ছবি: সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৬ | ১৬:১২ | আপডেট: ২৩ জুলাই ২০২৬ | ১৬:১৪
আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে দেশে ছানিজনিত অন্ধত্ব (ক্যাটারাক্ট ব্লাইন্ডনেস) নির্মূলের লক্ষ্য নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে সরকারি, বেসরকারি ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) সমন্বয়ে জাতীয় রোডম্যাপ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে উন্নত চক্ষুচিকিৎসা জেলা ও প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে আয়োজিত ‘বাংলাদেশে উন্নত চক্ষুসেবা: দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতা হ্রাস এবং অন্ধত্ব প্রতিরোধে কর্মপরিকল্পনা’ শীর্ষক স্টেকহোল্ডার পরামর্শ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশে সরকারি, বেসরকারি ও এনজিও খাতে চক্ষুসেবায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলেও সমন্বিত তথ্যব্যবস্থা ও অভিন্ন রিপোর্টিং কাঠামোর অভাব রয়েছে। এ কারণে পাঁচ বছর মেয়াদি জাতীয় উদ্যোগের মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে চক্ষুসেবার পরিধি ও মান উন্নয়ন করা হবে।
তিনি জানান, প্রথম ধাপে দেশের জেলা হাসপাতালগুলোর চক্ষুসেবার সক্ষমতা মূল্যায়ন করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী জনবল নিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম বাড়িয়ে সেবা সম্প্রসারণ করা হবে।
স্কুলভিত্তিক চোখের স্বাস্থ্য পরীক্ষা চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। যেসব শিক্ষার্থীর দৃষ্টিসমস্যা শনাক্ত হবে, তাদের বিনামূল্যে বা সহজলভ্য মূল্যে চশমা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে কলকারখানা, অফিস ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের নিয়মিত চোখ পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় চশমা সরবরাহের ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেন তিনি। তাঁর মতে, এতে কর্মীদের উৎপাদনশীলতা বাড়বে।
ছানিজনিত অন্ধত্ব দূর করতে ব্যাপকভিত্তিক ক্যাটারাক্ট সার্জারি কর্মসূচি বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতি বছর কয়েক লাখ সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে দেশকে ছানিজনিত অন্ধত্বমুক্ত করা সম্ভব।
ড. মুহিত বলেন, ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথিসহ বিভিন্ন চক্ষুরোগ দ্রুত শনাক্ত ও চিকিৎসায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক স্ক্রিনিং প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। প্রযুক্তিনির্ভর সেবার মাধ্যমে উন্নত চক্ষুচিকিৎসা রাজধানীর বাইরে জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও সহজলভ্য করা হবে।
চক্ষুসেবার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দক্ষ জনবলের সংকটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট জনবলের প্রশিক্ষণ এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। সরকারি ও বেসরকারি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বাড়িয়ে দক্ষ জনবল তৈরি করা হবে।
কর্মশালায় আরও বক্তব্য দেন জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক অধ্যাপক ড. এ.এস.এম.এম. কাদির এবং সহযোগী অধ্যাপক (অফথালমোলজি) ড. সৈয়দ মেহবুব উল কাদির। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এআরকে ফাউন্ডেশন ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধিরা। উন্মুক্ত আলোচনায় দেশের জ্যেষ্ঠ চক্ষু বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ, জেলা পর্যায়ের চিকিৎসক এবং বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।