মার্কিন ভিসা বন্ড দুঃখজনক, কিন্তু অস্বাভাবিক নয়: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
তৌহিদ হোসেন
কূটনৈতিক প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৯ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৮:০১ | আপডেট: ০৯ জানুয়ারি ২০২৬ | ১১:২৯
| প্রিন্ট সংস্করণ
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের আগে বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা বন্ডের বিষয়টি দুঃখজনক ও কষ্টকর। তবে বিষয়টি অস্বাভাবিক নয়। গতকাল বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা শুধু বাংলাদেশের বিষয়ে নয়; অনেক দেশের মধ্যে বাংলাদেশও আছে। কোন দেশগুলো আছে? যাদের অভিবাসন নিয়ে সমস্যা আছে। আপনারা মার্কিনিদের পরিসংখ্যান দেখেন, যারা ওদের সামাজিক সুরক্ষা থেকে এভাবে গিয়ে (অবৈধভাবে) পয়সা নেয়, তাদের মধ্যে বাংলাদেশির সংখ্যা সর্বোচ্চ। তাহলে তারা যদি কিছু দেশের ওপর এ রকম নিষেধাজ্ঞা দেয়, তাতে বাংলাদেশ থাকবে– এটা খুব অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে না।’
মার্কিন নতুন নীতির দায়দায়িত্ব বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এ সকল বাংলাদেশি যদি সবাই গত এক বছরে যুক্তরাষ্ট্র যেত, আমি বলতাম যে, আমরা দায়ী এবং যদি এই সমস্যাটা এই এক বছরে সৃষ্টি হতো, তাহলে এই সরকারের কিছু দায়দায়িত্ব থাকত। এটা চলছে দীর্ঘদিন ধরে। কাজেই নীতিগত দায়দায়িত্ব যদি কারও থাকে, সেটা পূর্ববর্তী সব সরকারের। সেটাকে আমরা পরিবর্তন করতে পারিনি, পরিবর্তন করা সম্ভব না। কারণ, মানুষের এই নড়াচড়া বন্ধ করার সাধ্য এই সরকারের নেই, কোনো সরকারের ছিল না।’
তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘নীতির দিক থেকে বলতে পারি, এ সরকার অনিয়মিত অভিবাসনের বিরুদ্ধে কথা বলে আসছে। এ সমস্যার সমাধান একমাত্র আসবে, যদি অনিয়মিত অভিবাসন বন্ধ করতে পারি। ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে মারা গেছে অথবা হাবুডুবু খেয়ে উদ্ধার হয়ে এসেছে এমন ব্যক্তির প্রতি সব ধরনের সহানুভূতি দেখায় গণমাধ্যমসহ সবাই। আমিও এ বিষয়ে সম্পূর্ণ একমত, তারা অবশ্যই ভিকটিম। কিন্তু পাশাপাশি আইন ভঙ্গ করে গ্রামের যে ছেলেটি এখান থেকে ট্যুরিস্ট ভিসা নিয়ে কেনিয়া যাচ্ছে, তার তো আসলে কেনিয়াতে ট্যুরিস্ট হিসেবে যাওয়ার সামর্থ্য নাই। আমাকে অসংবেদনশীল শোনালেও এ দুর্ঘটনাগুলো (ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবি) না ঘটুক। এ জন্য যারা ফিরে আসবে, তাদের সাহায্য নিতে হবে। খুব ভদ্রভাবে বললে সাহায্য নিতে গেলে অবশ্যই তাদের আটকাতে হবে এবং জানতে হবে কাকে টাকা দিয়েছে, সেই লোকগুলোকে আটকাতে না পারলে এ সমস্যার কোনো দিন সমাধান হবে না।’
ভিসা বন্ড সমস্যা সমাধানে মার্কিন সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে কিনা– জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, অবশ্যই সাধারণ পদ্ধতিতে আমরা চেষ্টা করব, যেন এটা থেকে আমাদের অব্যাহতি দেওয়া হয়। চেষ্টা তো অবশ্যই করব।
শুধু ক্রিকেট দল নয়, সমর্থকদেরও নিরাপত্তার প্রশ্ন রয়েছে
ক্রিকেটার মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়া নিয়ে এক প্রশ্নে তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘উপদেষ্টা আসিফ নজরুল যা বলেছেন, আমি তা সম্পূর্ণ সমর্থন করি। আমি এটাকে এভাবে দেখি, একজন ক্রিকেটার সীমিত সময় ওখানে যাবে, খেলবে, তার পরে হোটেলে চলে আসবে। তার নিরাপত্তা যদি দেওয়া সম্ভব না হয়, তাহলে আমাদের যে দল (জাতীয় দল) খেলতে যাবে, শুধু দল যাবে না, দলের সমর্থকরা যাবে খেলা দেখতে, তাদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন আছে। আমরা কি করে বিশ্বাস করব যে, তারা নিরাপদ থাকবে? যে হিন্দুত্ববাদী সংগঠন বাংলাদেশবিরোধী কার্যকলাপ এবং কথাবার্তা বলছে, সেটার পরিপ্রেক্ষিতে আসলে সত্যিকার অর্থেই ভারতীয় সংস্থাগুলোর পক্ষে সবাইকে নিরাপত্তা দেওয়া কঠিন হবে। সেই হিসেবে আমরা আসলে খেলব, কিন্তু ভারতের বাইরে খেলব, যেখানে এ সমস্যা হবে না।’
এ পরিস্থিতিতে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য থেকে শুরু করে অন্যান্য বিষয়ে প্রভাব নিয়ে জানতে চাইলে তৌহিদ হোসেন বলেন, নতুন করে এই ইস্যুটা (মুস্তাফিজ প্রসঙ্গ) এসেছে। কিন্তু এ রকম বিভিন্ন ইস্যু বিভিন্ন সময় আসছে। প্রতিটিরই কিছু নেতিবাচক প্রভাব তো থাকবেই। কিন্তু আমরা আমাদের স্বার্থ যেখানে আছে, সেখানে কিছু নষ্ট করতে যাব না। এখানে আমাদের লোকদের নিরাপত্তার প্রশ্ন জড়িত। কিন্তু আমাদের চাল কেনায় যদি স্বার্থ থাকে, যদি আমরা কম দামে পাই এবং ভারত যদি রপ্তানি করে, তাতে আমি কোনো সমস্যা দেখি না।
নির্বাচনের আগে ভারতীয়দের জন্য ট্যুরিস্ট ভিসা স্থগিত হবে কিনা– এ প্রশ্নে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত নেই। যে মিশনগুলোতে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে, সেখানে আমরা আপাতত ভিসা ইস্যু বন্ধ রাখতে বলেছি। কারণ, এটা নিরাপত্তার বিষয়। নিরাপত্তার জন্য তিনটা জায়গায় ভিসা বন্ধ আছে।’ পাকিস্তান থেকে যুদ্ধবিমান কেনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ নিয়ে আলোচনা চলছে।
তিন মিশন থেকে ভারতীয়দের ভিসা দেওয়া বন্ধ করল বাংলাদেশ
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন এবং আগরতলায় সহকারী হাইকমিশন থেকে বাংলাদেশের ভিসা দেওয়া বন্ধ রয়েছে। তবে কলকাতায় বাংলাদেশের উপহাইকমিশন, মুম্বাইয়ের উপহাইকমিশন, চেন্নাইয়ের সহকারী হাইকমিশনে এবং গুয়াহাটির সহকারী হাইকমিশন থেকে ভিসা দেওয়া হচ্ছে।
- বিষয় :
- তৌহিদ হোসেন
