বাপা-বেন সম্মেলনে বক্তাদের অভিযোগ
অন্তর্বর্তী সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় নেই পরিবেশ
পরিবেশ সুরক্ষায় নাগরিক সংস্কার কমিশন গঠন করুন : রিজওয়ানা হাসান
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১০ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৮:৩০
| প্রিন্ট সংস্করণ
নানা ইস্যুতে সংস্কার কমিশন গঠন করা হলেও অন্তর্বর্তী সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় পরিবেশ নেই বলে অভিযোগ করেছেন বক্তারা। জবাবে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, এই সরকারের স্বল্প মেয়াদে সবকিছু করা সম্ভব না। তবে পরিবেশ সুরক্ষায় করণীয় নির্ধারণে বেসরকারি উদ্যোগে নাগরিক সংস্কার কমিশন গঠন করা যেতে পারে।
গতকাল শুক্রবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে দুদিনের বাপা-বেন জাতীয় পরিবেশ সম্মেলনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ সব কথা বলেন তারা। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও বাংলাদেশ পরিবেশ নেটওয়ার্ক (বেন) ‘পরিবেশ-সংক্রান্ত সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা এবং করণীয়’ শীর্ষক ওই সম্মেলনের আয়োজন করে। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাপা সভাপতি অধ্যাপক নুর মোহাম্মদ তালুকদার। সম্মেলনের ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন বাপা সহসভাপতি ও বেন-এর প্রতিষ্ঠাতা ড. নজরুল ইসলাম। বাপার সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর কবিরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন বেন-এর বৈশ্বিক সমন্বয়কারী ড. মো. খালেকুজ্জামান, সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সভাপতি অধ্যাপক এম ফিরোজ আহমেদ প্রমুখ।
উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে বিশেষজ্ঞ অধিবেশন শুরু হয়। এর আগে ‘রেজুলেশন অব বাপা-বেন কনফারেন্স: ২০০০-২০২৫’, ‘সাসটেইনেবল আরবানাইজেশন: চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড সলিউশন’ এবং ‘২৫ ইয়ারস অব বাপা: সাকসেস অ্যান্ড চ্যালেঞ্জেস ইন এনভায়রনমেন্টাল মুভমেন্টস’ শীর্ষক তিনটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। দুই দিনের সম্মেলনে পানি উন্নয়ন, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ, নগরায়ণ ও ভৌত পরিকল্পনা, যাতায়াত ও পরিবহন ব্যবস্থা, কৃষি, মৃত্তিকা ও খাদ্যদূষণ, বায়ু, শব্দ ও পানিদূষণ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বন, পাহাড়, টিলা ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং উপকূল, বন্দর, ও সমুদ্র পরিবেশ সুরক্ষা ইস্যুতে বিশেষজ্ঞ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া সম্মেলনে বিশ্বের ১১৭ জন বিশেষজ্ঞ পরিবেশবিষয়ক প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন। সম্মেলন শেষে সুপারিশমালা তুলে ধরা হবে। দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞসহ পাঁচ শতাধিক প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন।
ড. নজরুল ইসলাম বলেন, এই সরকারের আমলে অনেক সংস্কার কমিশন করা হলেও পরিবেশ ইস্যুতে কোনো কমিশন হয়নি। অথচ পরিবেশ সংস্কারের বিষয়টি জুলাই সনদ এবং দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা ও পরিবেশ সুরক্ষায় খণ্ডকালীন ও সীমিত প্রকল্প থেকে সরে এসে কৃষি, পানি, জীববৈচিত্র্য ও উপকূলীয় ব্যবস্থাপনাসহ সব খাতে সমন্বিত ও পদ্ধতিগত পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। জলবায়ুবান্ধব প্রযুক্তি, প্রকৃতিনির্ভর সমাধান এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে হবে।
অনুষ্ঠানে উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান বলেন, নির্বাচনের জন্য অপরিহার্য বিষয়গুলো সংস্কারের জন্য ছয়টি কমিশনের প্রস্তাবের ভিত্তিতে জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়ন করেছে। এ ক্ষেত্রে পরিবেশকে উপেক্ষা করা হয়েছে– বিষয়টি এমন নয়। জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন পৃথক পরিবেশ ক্যাডার প্রবর্তনের সুপারিশ করেছে। সংবিধান সংস্কার কমিশন পরিবেশকে মৌলিক অধিকারের তালিকাভুক্ত করার সুপারিশ করেছে। কিন্তু এ সব সুপারিশ বর্তমান সরকারের স্বল্পমেয়াদে বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।
সরকার যে কোনো বিষয়ে জবাবদিহি করতে প্রস্তুত আছে উল্লেখ করে পরিবেশ উপদেষ্টা বলেন, আমরা জবাবদিহি করতে ভয় পাই না। বরং স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। ৫৪ বছরের যে জঞ্জাল, তা পরিষ্কারের দায়িত্ব এই সরকারকে দিলে হবে? সে বিষয়ে এই সরকারের জবাবদিহি করা অসম্ভব।
ড. খালেকুজ্জামান বলেন, অতীতে সরকারের ছত্রছায়ায় থেকে সুবিভোগীরা পরিবেশ বিনষ্ট করছে। আমরা চাই না দেশের পরিবেশ নতুন করে বিপর্যয়ের মুখে পড়ুক। কিন্তু রাজনৈতিক সদিচ্ছা ছাড়া দেশের পরিবেশ সুরক্ষিত হবে না।
- বিষয় :
- রিজওয়ানা