গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির ২৫ দফা ইশতেহার
পাইকারি হারে দায়মুক্তির পক্ষপাতি নই
সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে বাধ্য থাকবেন মন্ত্রী-এমপিরা
আনু মুহাম্মদ
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২২ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৭:৪৯ | আপডেট: ২২ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৮:১৭
| প্রিন্ট সংস্করণ
জুলাই অভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে পাইকারি হারে দায়মুক্তি দেওয়ার পক্ষপাতী নন অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থান নিয়ে যেভাবে ফৌজদারি অপরাধের দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে, সেটির পক্ষে আমরা নই। এগুলো তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে হবে। গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির উদ্যোগে ‘জনগণের শান্তি-স্বস্তি-নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক অধিকারের ইশতেহার’ প্রকাশকালে তিনি এ কথা বলেন।
সংগঠনের পক্ষ থেকে ২৫ দফা ইশতেহার তুলে ধরা হয়। ইশতেহার পড়েন সংগঠনের সদস্য আকরাম খান, মাহতাব উদ্দিন ও সুস্মিতা পৃথা। পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, সামনের নির্বাচনে যারা নির্বাচিত হবেন তারা এই ইশতেহারকে গুরুত্ব দিয়ে দেখবেন। দেশে এখন এমন অবস্থা চলছে আমরা ঘুমাতে গেলেও নিরাপত্তা বোধ করি না। রাস্তাঘাটে তো আছেই। সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে তো বড় ধরনের আক্রমণের মধ্যে আছি। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নারীদের ক্রীড়া, নাটক প্রভৃতি বাতিল করতে হয়েছে। উদীচী, ছায়ানটে হামলা-অগ্নিসংযোগ হয়েছে। প্রথম আলো, ডেইলি স্টার পত্রিকায় ঘোষণা দিয়ে হামলা করা হয়েছে। তাদের ব্যাপারে সরকার জোরালো পদক্ষেপ নেয়নি। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা শক্তিশালী না থাকায় এই শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে।
ইশতেহারের ২৫ দফার মধ্যে রয়েছে– জুলাই অভ্যুত্থানকারী শহীদ ও আহত এবং হামলাকারীর পক্ষে নিহত ও আহতের তালিকা চূড়ান্ত করা। যারা শহীদ ও গুরুতর আহত হয়েছেন, তাদের তালিকা অনুযায়ী উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিয়ে ছয় মাসের মধ্যে গেজেট প্রকাশ করা। জুলাই অভ্যুত্থানকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কেউ যেন জুলাই বেচতে না পারে। জুলাই গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করা। নির্বাচিত সরকারকে মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই অভ্যুত্থানের দলীয় বয়ানমুক্ত রাষ্ট্রীয় ভাষ্য নির্মাণ করা, যাতে কেউ এগুলোর নাম ভাঙিয়ে তদবির, দুর্নীতি ও ক্ষমতা দেখাতে না পারে। সারাদেশে এলাকাভিত্তিক জরিপ চালিয়ে রাজাকারদের তালিকা প্রস্তুত করা। মুক্তিযুদ্ধে বিরোধিতা করা ও জুলাই হত্যাকাণ্ডের দায়ে জামায়াতে ইসলামী ও আওয়ামী লীগকে প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে।
জননিরাপত্তা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও জবাবদিহি এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতির অবসান ঘটাতে হবে। পরপর তিনটি বিচারবহির্ভূত হত্যা বা গুমের কারণে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে। এক বছরে তিনটির বেশি খুন বা ধর্ষণের ঘটনা ঘটলে ওসি আর ওই থানায় থাকতে পারবেন না। অপরাধের দায়ে বদলি বা প্রত্যাহারের পরিবর্তে পুলিশকে বরখাস্ত করতে হবে। বিচারিক কার্যক্রম থাকবে সম্পূর্ণ উন্মুক্ত। বাংলায় রায় দিতে হবে। নিম্ন আদালতের কোনো বিচারকের পরপর তিনটি রায় উচ্চ আদালতে ভ্রান্ত প্রমাণিত হলে তাঁকে আর চাকরিতে রাখা যাবে না। র্যাবকে বিলুপ্ত ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কর্মকাণ্ডের পরিধি নির্ধারণ করতে হবে। নির্বাচনে জামানতপ্রথা বাতিল করতে হবে, যাতে হতদরিদ্ররাও অংশ নিতে পারেন। সব প্রার্থীর জন্য নির্বাচনে ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর জমার নিয়ম করতে হবে। নির্বাচনে পোস্টার, বিলবোর্ড, সভা, শো-ডাউন করা বন্ধ করতে হবে।
এ সময় ঢাবি শিক্ষক ড. সামিনা লুৎফা, ডা. হারুন অর রশিদ, রাজনীতিক সীমা বৈদ্য প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
- বিষয় :
- দায়মুক্তি
- আনু মুহাম্মদ
