ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ব্যবস্থাপনা নীতিমালার গেজেট

মসজিদের খতিবের বেতন চুক্তিপত্র অনুযায়ী

মসজিদের খতিবের বেতন চুক্তিপত্র  অনুযায়ী
×

ফাইল ছবি

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২২ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৮:৫০ | আপডেট: ২২ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৯:৫৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

দেশব্যাপী মসজিদ ব্যবস্থাপনা ও জনবল কাঠামো আধুনিকায়নের লক্ষ্য নিয়ে ‘মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা ২০২৫’ গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়েছে। গত সোমবার বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় এ নীতিমালা প্রকাশ করে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়।

নতুন নীতিমালায় মসজিদের খতিব ছাড়া অন্য কর্মীদের জন্য গ্রেডভিত্তিক বেতন-ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে। খতিবের বেতন চুক্তিপত্র অনুযায়ী নির্ধারিত হবে। তবে আর্থিকভাবে অসচ্ছল ও পাঞ্জেগানা মসজিদের ক্ষেত্রে সামর্থ্য অনুসারে বেতন নির্ধারণের সুবিধা রাখা হয়েছে।

সিনিয়র পেশ ইমামকে জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী পঞ্চম, পেশ ইমামকে ষষ্ঠ এবং ইমামকে নবম গ্রেডে বেতন দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। এ ছাড়া প্রধান মুয়াজ্জিনকে দশম, মুয়াজ্জিনকে ১১তম, প্রধান খাদেমকে ১৫তম এবং খাদেমকে ১৬তম গ্রেডে বেতন দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।

মসজিদের সামর্থ্যের ওপর ভিত্তি করে কর্মরত জনবলের জন্য সপরিবারে আবাসনের ব্যবস্থা করতে মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কর্মীদের ভবিষ্যৎ কল্যাণের জন্য মাসিক সঞ্চয়ের বিধানসহ চাকরি শেষে এককালীন সম্মাননা প্রদানের কথাও নীতিমালায় উল্লেখ রয়েছে।
কর্মরত ব্যক্তিদের ছুটির ক্ষেত্রেও স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রতি মাসে সর্বোচ্চ চার দিন সাপ্তাহিক ছুটি এবং পঞ্জিকাবর্ষে ২০ দিন নৈমিত্তিক ছুটি ভোগের সুযোগ থাকছে। পাশাপাশি প্রতি ১২ দিনের জন্য এক দিন অর্জিত ছুটির বিধান রয়েছে।

নিয়োগবিধি ও কমিটি কাঠামো
নীতিমালায় মসজিদে নিয়োগের ক্ষেত্রে সাত সদস্যবিশিষ্ট বাছাই কমিটি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। কমিটির সুপারিশ ছাড়া কোনো পদে নিয়োগ দেওয়া যাবে না। নিয়োগপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে বেতন-ভাতা ও দায়িত্বাবলি উল্লেখ করে আনুষ্ঠানিক নিয়োগপত্র প্রদানের নিয়মও যুক্ত হয়েছে।

নীতিমালায় প্রথমবারের মতো মসজিদে নিরাপত্তা প্রহরী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। পাশাপাশি নারীদের জন্য শরিয়তসম্মত পৃথক নামাজ কক্ষ বা স্থান রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিরোধ নিষ্পত্তি ও আপিল
কর্ম-সংক্রান্ত বিরোধের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ৩০ দিনের মধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বা সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আপিল করতে পারবেন। এ ছাড়া বাস্তবায়নে জটিলতা দেখা দিলে তা নিরসনে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিটি কাজ করবে।
নতুন নীতিমালা জারি করায় ২০০৬ সালের মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা রহিত হয়েছে।
 

আরও পড়ুন

×