ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

রংপুর অঞ্চলে জামায়াত আমির

বাংলাদেশ হবে মদিনা মডেলে, আমরা কথা দিলে কথা রাখি

বাংলাদেশ হবে মদিনা মডেলে, আমরা কথা দিলে কথা রাখি
×

ঠাকুরগাঁওয়ে গতকাল ১০ দলের সমাবেশে বক্তব্য দেন জামায়াত আমির শফিকুর রহমান সমকাল

 দিনাজপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৮:৫৬ | আপডেট: ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ | ১১:৩০

| প্রিন্ট সংস্করণ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার দ্বিতীয় দিনে উত্তরবঙ্গ সফরে এসে একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। গতকাল শুক্রবার দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও রংপুরে পৃথক জনসভায় তিনি শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষি খাতে আমূল পরিবর্তনের অঙ্গীকার করেন।

জামায়াত আমির প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, ‘এমন বাংলাদেশ আমরা গড়তে চাই, যেখানে একটি শিশু জন্মগ্রহণের পরপরই তিনটি অধিকার পাবে। একটি বাঁচার অধিকার, দ্বিতীয়টি সুস্বাস্থ্যের অধিকার এবং তৃতীয় শিক্ষার অধিকার।’ ‘বেগমপাড়ার চোরদের ধরে এনে শাস্তি দেওয়া হবে’ জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘চুরি করে যে লক্ষ-কোটি টাকা বিদেশে নিয়ে গেছে, ওগুলো ওদের পেটের ভেতর থেকে আমরা বের করে আনব।’

জামায়াত ক্ষমতায় গেলে ‘মদিনার মডেল’ অনুসরণ করবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা দেশকে ইরান, পাকিস্তান কিংবা আফগানিস্তান বানাতে চাই না। আমরা গর্বের বাংলাদেশ বানাতে চাই।’
বিকেলে দিনাজপুর গোর-এ-শহীদ ময়দানে ১০ দলীয় ঐক্যের জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘উত্তরবঙ্গ হবে কৃষি শিল্পের রাজধানী। সেই শিল্প গড়ে তোলা হবে। ক্ষমতায় গেলে আম, লিচুর খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ কারখানা গড়ে তোলা হবে। ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা হবে। ফসল এবং সবজির হিমাগার গড়ে তোলা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘পাকিস্তান আমলে ১৯টি বড় জেলা ছিল। এর মধ্যে দিনাজপুর গুরুত্বপূর্ণ। এটা দেশের শস্যভান্ডার। এখনও সিটি করপোরেশন করা হয়নি। জামায়াতে ইসলামী যদি সরকার গঠনের সুযোগ পায়, দিনাজপুর শহরকে সিটি করপোরেশন করা হবে। বাংলাদেশের অন্যান্য জায়গায় যদি গ্যাসের অংশীদারিত্ব থাকে, দিনাজপুরেও আসবে।’

স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে পরিকল্পনা তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘জামায়াত ক্ষমতায় গেলে পাঁচ বছর বয়স পর্যন্ত সব শিশু এবং ৬৫ বছর বয়সী সব মানুষের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হবে। একটা সমন্বিত চিকিৎসা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। বাংলাদেশে এমন কোনো জেলা থাকবে না, যেখানে সরকারি মেডিকেল কলেজ হবে না।’
দল, নেতাকর্মী ও প্রশাসনের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘কেউ নির্বাচনে সন্ত্রাস করবেন না। ভোট জালিয়াতি বা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের চিন্তাও করবেন না। কারও পক্ষ নেবেন না।’

উত্তরবঙ্গকে ইচ্ছাকৃতভাবে পিছিয়ে রাখা হয়েছে
ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় বড় মাঠে বিকেলে নির্বাচনী জনসভায় ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘উত্তরবঙ্গ থেকে আগামী দিনে আর কোনো বেকারের মুখ দেখতে চাই না। প্রত্যেককে নাগরিকের মর্যাদায় কাজের মাধ্যমে দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এ লক্ষ্যে বন্ধ থাকা চিনিকলগুলো চালু করে শ্রমিকদের কর্মক্ষেত্রে ফিরিয়ে আনা হবে।’
জামায়াতের আমির বলেন, ‘আমাদের কোনো কার্ড নেই। আপনারাই আমাদের কার্ড।’ দুর্নীতির অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘দেশ থেকে চুরি করে বিদেশে পাচার হওয়া টাকা উদ্ধার করা হবে। ভবিষ্যতে কাউকে আর লুটপাট করতে দেওয়া হবে না।’

সাড়ে চার বছর ওদের খুঁজে পাওয়া যায় না
পঞ্চগড়ের ঐতিহাসিক চিনিকল মাঠে দুপুরে জনসভায় ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘বাংলাদেশের মূল চারটি নদীকে খুন করা হয়েছে। এসব নদীর কি কোনো মা-বাবা ছিল না? তাহলে আমাদের নদী মারা গেল কেন? ওরা প্রতি পাঁচ বছরে একবার আসে, বাকি সাড়ে চার বছর ওদের হারিকেন জ্বালিয়ে খুঁজে পাওয়া যায় না। কেউ কেউ আবার কোকিলের মতো বসন্তকালে এসে কুহু কুহু ডাক শুরু করে।’

আমরা চাঁদাবাজি করি নাই
রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে রাত সাড়ে ৮টায় নির্বাচনী জনসভায় ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা ন্যায় ইনসাফের বাংলাদেশ গড়তে চাই। ধর্ম চাপিয়ে দেওয়ার বিষয় নয়। ধর্ম অন্তরের আবেগের বিষয়।
অনেকে বলে, এটার মডেল কী হবে? এটা কি ইরান হবে, না পাকিস্তান হবে, না আফগানিস্তান হবে? আমরা বলি, না; এটা বাংলাদেশ হবে। আর যদি মডেল বলেন, দুনিয়ার সর্বশ্রেষ্ঠ, স্বীকৃত শাসন, যেটা আল্লাহর নবী মুহাম্মদ (সা.) জগৎবাসীকে উপহার দিয়েছিলেন, যেখানে সকল ধর্ম-বর্ণের অধিকার নিশ্চিত হয়েছিল, সেই মদিনার মডেল আপনি বলতে পারেন। এর বাইরে আমাদের কাছে কোনো মডেল নেই ভাই।

তিনি বলেন, আমরা মিথ্যা আশ্বাস দিতে চাই না। আমরা বেকার ভাতা দিতে চাই না, বেকারের কারখানা বানাতে চাই না। বেকারত্ব ঘোচাতে চাই। তাই বেকার ভাতার পরিবর্তে মর্যাদাসম্পন্ন কাজ দিতে চাই। যোগ্যদের যোগ্য মতে কাজের ব্যবস্থা করে দিতে চাই।

তিনি বলেন, ‘আমরা কথা দিলে কথা রাখি। ৫ আগস্টের পর কথা দিয়েছিলাম, মামলা বাণিজ্য করব না। হাজার হাজার মামলা করি নাই। চাঁদাবাজি করি নাই। আমরা বলি নাই, তোমার নামটা ভুলে মামলায় ঢুকে গেছে, বের করতে হলে কিছু খাজনা দিতে হবে। আমরা কোনো নিরীহ ও নিরপরাধ মানুষকে জেলের ভাত খাওয়াতে চাই না।’
রংপুরে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কলকারখানা করা হবে। বিদেশি বিনিয়োগ হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘রংপুর অঞ্চলকে সমৃদ্ধ করতে তিস্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে। আমরা ক্ষমতায় এসে প্রথমেই এটা উদ্বোধন করব।’
(প্রতিবেদনে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন রংপুর অফিস, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় প্রতিনিধি)

 

আরও পড়ুন

×