ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

নির্বাচনকালে মাদক ঠেকাতে যে নির্দেশনা দিল ডিএনসি

গোয়েন্দা নজরদারি ও ঝটিকা অভিযান বাড়ানো হচ্ছে

নির্বাচনকালে মাদক ঠেকাতে যে নির্দেশনা দিল ডিএনসি
×

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের লোগো

ইন্দ্রজিৎ সরকার

প্রকাশ: ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ | ২০:০০ | আপডেট: ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ | ২০:০৭

আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হওয়ায় দেশে এখন জমজমাট নির্বাচনী পরিবেশ। সবার নজর আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের দিকে। নির্বাচনকালীন নিরাপত্তায় সারাদেশে মোতায়েন থাকছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য। এই সুযোগে মাদক কারবারিরা যেন তৎপর না হয়ে ওঠে এবং চোরাচালান বেড়ে না যায় সেদিকে নজর রাখতে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। 

রোববার সংস্থাটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সারাদেশের ইউনিট প্রধানদের বৈঠকে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়।

ডিএনসি মহাপরিচালক হাসান মারুফ সমকালকে বলেন, আমাদের যেসব কর্মকর্তা নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করবেন, তারা ছাড়া বাকি সবাইকে মাদক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে জোর দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে গোয়েন্দা নজরদারি ও ঝটিকা অভিযান বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও স্বরাষ্ট্র সচিব এ বিষয়ে আমাদের আগেই নির্দেশনা দিয়েছেন। এর আলোকে আজ রোববার ডিএনসির বিভিন্ন বিভাগের প্রধানসহ সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক হয়। এ সময় জেলাভিত্তিক কর্মসূচি নিতে বলা হয়েছে কর্মকর্তাদের। বিশেষ করে যেসব জায়গায় মদ বিক্রির অনুমোদিত দোকান আছে, সেখানে লাইসেন্সধারী ছাড়া কেউ যেন কিনতে না পারে সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মাদক চোরাকারবারিরা নির্বাচনী ডামাডোলের সুযোগ নিতে পারে, সীমান্তপথে ঢুকতে পারে নানারকম মাদকের চালান– এমন আশঙ্কা রয়েছে। তাই ডিএনসির বিভিন্ন ইউনিটের প্রধানদের আজ রাজধানীর সেগুনবাগিচায় সংস্থার প্রধান কার্যালয়ে ডাকা হয়। এ সময় তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন ডিএনসি মহাপরিচালক। তিনি সবার বক্তব্য শোনেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।

এর আগেও বিভিন্ন সময়ে বিশেষ পরিস্থিতিতে মাদকের চোরাচালান বেড়ে যেতে দেখা গেছে। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়েছিল মাদক কারবারিরা। সেসময় পাইকারি বিক্রেতারা বিপুল পরিমাণ মাদক নিজেদের সুবিধাজনক স্থানে নিয়ে মজুত করেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তখন কার্যত কোনো ভূমিকা রাখেনি। ফলে ওই সময় মাদকের প্রবাহ বেড়ে যায়। এবার যেন নির্বাচনী মহাযজ্ঞে সবার নজর থাকার সুযোগে তেমন কিছু না ঘটে, সেজন্যই সতর্কতা হিসেবে আজ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। 

বৈঠকে অংশ নেওয়া এক কর্মকর্তা জানান, দেশে মাদকের অনুপ্রবেশ ঠেকানোর বিষয়টিতেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ কারণে ওই সময় সবার সব ছুটি বাতিল করা হয়েছে। সবাইকে বিশেষভাবে তৎপর থেকে মাদক কারবারিদের সম্ভাব্য অপতৎপরতা রুখে দিতে বলেছেন মহাপরিচালক।

ডিএনসির আরেক কর্মকর্তা জানান, মাদক নিয়ন্ত্রণ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রগুলো ঠিকঠাক চলছে কি না সেটির বিষয়ে নজর রাখতে বলা হয়েছে। বৈঠকে অংশ নেওয়া সব কর্মকর্তা নিজের কর্ম–এলাকায় এসব ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে ইতোমধ্যে ব্যাপক নিরাপত্তা প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

গত ২১ জানুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৯ লাখ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। প্রতি কেন্দ্রে অন্তত ১৫ জন সদস্য ছাড়াও সিসি ক্যামেরা ও পুলিশ সদস্যদের শরীরে (বডি–ওর্ন) ক্যামেরা থাকবে। নিরাপত্তায় ওড়ানো হবে ড্রোন। মহানগর এলাকার বাইরে সাধারণ ভোটকেন্দ্রে মোতায়েন থাকবেন অস্ত্রসহ দুজন পুলিশ, একজন বিজিবি সদস্য, সাধারণ আনসার ও অঙ্গীভূত আনসার সদস্যরা। আর যেসব ভোটকেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করা হবে, সেগুলোতে আরও কিছু লোক বাড়ানো হতে পারে।

আরও পড়ুন

×