ক্ষতি জেনেও ৬৩% ব্যবহার করেন পলিথিন
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৭:৫২
| প্রিন্ট সংস্করণ
পলিথিনের ক্ষতিকর প্রভাব ও নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে জানা সত্ত্বেও দেশের ৬৩ শতাংশ মানুষ এখনও পলিথিন ব্যবহার করেন। তবে সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য হলে ৫৫ শতাংশ খুচরা বিক্রেতা পলিথিনের বিকল্প ব্যবহারে আগ্রহী।
পরিবেশবিষয়ক বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (এসডো) পরিচালিত এক সমীক্ষায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে “রিভিজিটিং বাংলাদেশ’স পলিথিন ব্যান: গ্যাপস, গভর্ন্যান্স অ্যান্ড সলিউশন” শীর্ষক অনুষ্ঠানে সমীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়।
সমীক্ষায় বলা হয়, নিষেধাজ্ঞার ২৩ বছর পরও পলিথিনের ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ না হওয়ার পেছনে কয়েকটি বড় কারণ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আইন বাস্তবায়নে সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা, পলিথিনের বিকল্প সহজলভ্য না হওয়া এবং বৃহৎ উৎপাদকদের বাদ দিয়ে খুচরা পর্যায়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে আইনের প্রয়োগ।
এ ছাড়া পলিথিন ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত আইন প্রয়োগ না হওয়া, পলিথিনের বিকল্প বাজারে আনতে সরকারি উদ্যোগের অভাব এবং বেসরকারি পর্যায়ে আর্থিক প্রণোদনার ঘাটতিকেও দায়ী করা হয়েছে। পলিথিনের বিকল্প সহজলভ্য করতে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) মডেলে এগোনোর সুপারিশ করেছে এসডো।
অনুষ্ঠানে সমীক্ষার বিস্তারিত তুলে ধরেন এসডোর মিডিয়া ও কমিউনিকেশন অ্যাসোসিয়েট রামিসা রহমান এবং রিসার্চ ও ক্যাম্পেইন সহযোগী আয়েশা মোস্তফা। আলোচনায় পরিবেশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক জিয়াউল হক বলেন, ২০০২ সালে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পর কয়েক বছর পলিথিনের ব্যবহার কমানো সম্ভব হয়েছিল। তবে ২০০৭-০৮ সালের দিকে গার্মেন্টস খাতে প্যাকেজিংয়ের জন্য পলিথিনের কাঁচামাল আমদানির অনুমতির অপব্যবহারে সে সফলতা ধরে রাখা যায়নি।
তিনি বলেন, পলিথিন বন্ধ করা একটি জটিল বিষয়। খুব অল্প কয়েকটি দেশই কার্যকরভাবে পলিথিন নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করতে পেরেছে। নীতিগত দুর্বলতার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে পলিথিন ব্যবহার ৩০ শতাংশ কমানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। কিন্তু প্লাস্টিকের কাঁচামাল আমদানিতে প্রতিবছর শুল্ক কমানো হলে পলিথিনের ব্যবহার কমানো কঠিন হবে।
এসডোর মহাসচিব শাহরিয়ার হোসেন বলেন, ২০০২ সালে নিষেধাজ্ঞার পর ২০০৬ সাল পর্যন্ত পলিথিন নিষিদ্ধ ছিল। তখন জীবনযাত্রা থেমে যায়নি। তখন সুপারশপে কাপড়ের ব্যাগ বিনামূল্যে দেওয়া হতো। এখন কেন সেটা ২৪ টাকা দিয়ে কিনতে হচ্ছে– এ প্রশ্নও তোলেন তিনি।
- বিষয় :
- পলিথিন
