ইঙ্গিতপূর্ণ ও অনলাইনে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণও যৌন হয়রানি হবে
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৮:৪৯
| প্রিন্ট সংস্করণ
শারীরিক, মৌখিক, অমৌখিক (ইঙ্গিতপূর্ণ) ও অনলাইনে সংঘটিত সব ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত এবং অপমানজনক আচরণকে যৌন হয়রানি হিসেবে চিহ্নিত করে ‘কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ অধ্যাদেশ, ২০২৬’-এর অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ। অধ্যাদেশটি দেশের সব কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রযোজ্য হবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এই অধ্যাদেশের খসড়া নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বৈঠক শেষে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সংবাদ সম্মেলন করে বৈঠকের সিদ্ধান্তসহ অন্যান্য বিষয়ে জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম, উপ-প্রেস সচিব মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ ও প্রধান উপদেষ্টার সহকারী প্রেস সচিব সুচিস্মিতা তিথি।
বৈঠকে পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ অধ্যাদেশও নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। এ ছাড়া কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠনের জন্য অধ্যাদেশের খসড়া, ২৩ মার্চকে বিএনসিসি দিবস হিসেবে পালন, গায়ানায় বাংলাদেশের মিশন স্থাপনসহ ১১টি বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত হয়। অনুমোদিত অধ্যাদেশের মধ্যে আরও রয়েছে–জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, বাংলাদেশ প্রাণী ও প্রাণিজাত পণ্য সংগনিরোধ অধ্যাদেশ।
একই সঙ্গে নির্যাতন ও অন্যান্য নিষ্ঠুর, অমানবিক বা অবমাননাকর আচরণ বা শাস্তিসংক্রান্ত জাতিসংঘের কনভেনশন (ক্যাট)-এর ১৪(১) অনুচ্ছেদের অধীনে বাংলাদেশ যে ঘোষণা দিয়েছিল, তা প্রত্যাহারের প্রস্তাবও অনুমোদিত হয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশকে ১৯৮০ সালের ‘হেগ কনভেনশন অন দ্য সিভিল অ্যাসপেক্টস অব ইন্টারন্যাশনাল চাইল্ড অ্যাবডাকশন’-এর পক্ষভুক্ত করার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে আমদানিনীতি আদেশ ২০২৫-২০২৮-এর খসড়াও অনুমোদন দেওয়া হয়।
কর্মক্ষেত্রে ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ অধ্যাদেশের খসড়ায় যৌন হয়রানির বিস্তৃত সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে; যেখানে শারীরিক, মৌখিক, অমৌখিক (ইঙ্গিতপূর্ণ), ডিজিটাল, অনলাইনে করা আচরণসহ জেন্ডারভিত্তিক সব অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপমানজনক কার্যকলাপ যৌন হয়রানি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সামাজিক মাধ্যম, ইমেইল, মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম ও অন্যান্য তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে সংঘটিত হয়রানিকেও এর আওতায় আনা হয়েছে। খসড়ায় অভ্যন্তরীণ অভিযোগ কমিটি গঠন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এই কমিটি গঠন করতে হবে। কমিটি অভিযোগ গ্রহণ, তদন্ত; তদন্তকালে সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং উপযুক্ত শাস্তির সুপারিশ করতে পারবে। অভিযোগ গঠনের ৯০ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করতে হবে।
অভিযোগের কারণে কোনো ধরনের প্রতিশোধমূলক আচরণ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে মিথ্যা অভিযোগের ক্ষেত্রে সুবিচার নিশ্চিত করতে সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাতে প্রকৃত ভুক্তভোগীরা নিরুৎসাহিত না হন।
পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের আর্থিক সহায়তা, পুনর্বাসন, কাউন্সেলিং, আইনি সহায়তা ও সচেতনতা কার্যক্রমের জন্য নেওয়া হয়েছে একটি বিশেষ তহবিল গঠনের সিদ্ধান্ত। পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ অধ্যাদেশের খসড়ায় শারীরিক, মানসিক, যৌন নির্যাতন ও আর্থিক নির্যাতনকে পারিবারিক সহিংসতা হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।
ব্যবসা-বাণিজ্য সহজ ও রপ্তানি বাড়াতে আমদানিনীতি
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, দেশের রপ্তানি সক্ষমতা অনেকাংশে নির্ভর করে আমদানিনীতি কতটা কার্যকরভাবে প্রণীত হচ্ছে, যাতে রপ্তানিমুখী কার্যক্রমকে উৎসাহ ও সহায়তা দেওয়া যায়। এই লক্ষ্য সামনে রেখে উপদেষ্টা পরিষদে খসড়া নীতি আদেশটি বিস্তারিতভাবে আলোচনা এবং অনুমোদন দেওয়া হয়।
প্রেস সচিব জানান, নতুন বিধান অনুযায়ী, রপ্তানিমুখী শিল্প, যেমন–তৈরি পোশাক, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাদুকা, জাহাজ নির্মাণ, আসবাব ও ফার্নিশিং খাতের শিল্পকারখানা প্রয়োজনীয় কাঁচামাল শুল্কমুক্তভাবে আমদানি করতে পারবে। এতে এসব খাতের রপ্তানির সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে বলে আশাবাদী প্রেস সচিব
নির্বাচনের আগে নিরাপত্তা বাহিনী ধাপে ধাপে মোতায়েনের ফলে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেন, সামনের দিনগুলো আরও ভালো যাবে। রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী প্রচারণা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত দলগুলো সংযম ও সহনশীলতার পরিচয় দিয়েছে।
- বিষয় :
- যৌন হয়রানি
