ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর যৌন নির্যাতনের প্রতিবাদ

৬৮ নারী অধিকার কর্মীর বিবৃতি, পশ্চিমা নারীবাদীদের নীরবতার সমালোচনা

ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর যৌন নির্যাতনের প্রতিবাদ
×

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১৫:৫১ | আপডেট: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১৮:৫৫

ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর যৌন নির্যাতন, ধর্ষণ ও সহিংসতার প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশের ৬৮ জন নারী অধিকার কর্মী। এক যৌথ বিবৃতিতে তারা ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেস (আইডিএফ), ইসরায়েল প্রিজন সার্ভিস (আইপিএস) এবং ইসরায়েলের বিভিন্ন কারাগারে কর্মরত নিরাপত্তাকর্মীদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। একই সঙ্গে এ বিষয়ে মূলধারার পশ্চিমা নারীবাদী সংগঠন ও ব্যক্তিত্বদের নীরবতার কঠোর সমালোচনা করা হয়।

রোববার লেখক ও মানবাধিকার কর্মী রেহনুমা আহমেদ এবং সাংবাদিক সায়দিয়া গুলরুখের পাঠানো ওই বিবৃতিতে বলা হয়, জাতিসংঘ-নিযুক্ত তদন্ত কমিশন ছাড়াও ইসরায়েলি মানবাধিকার সংস্থা বেটসেলেম, দ্য প্যালেস্টিনিয়ান সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস এবং ফিজিশিয়ান্স ফর হিউম্যান রাইটসের বিভিন্ন প্রতিবেদনে ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর সংঘটিত ভয়াবহ নির্যাতনের প্রমাণ উঠে এসেছে।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ভুক্তভোগীদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত এসব প্রতিবেদনে বন্দিদের খাঁচার মতো বেষ্টনীতে আটকে রাখা, জোরপূর্বক উলঙ্গ করে রাখা, যৌন অপদস্থকরণের ভিডিও ধারণ, ধর্ষণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, যৌনাঙ্গে বৈদ্যুতিক শক দেওয়া, কুকুর দিয়ে আক্রমণ, ওয়াটারবোর্ডিং, হাত-পা বেঁধে ঝুলিয়ে রাখা এবং উচ্চ শব্দে সংগীত বাজিয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া ফিলিস্তিনিদের মাতৃসদন ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, প্রজনন ও ঋতুস্রাব-সংক্রান্ত স্বাস্থ্যসেবা দিতে অস্বীকৃতি এবং অনাহারজনিত গর্ভপাতের ঘটনাও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে বলে বিবৃতিতে বলা হয়। প্যালেস্টিনিয়ান সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটসকে দেওয়া সাক্ষ্যে ভুক্তভোগীরা জানান, ইসরায়েলি সেনারা তাদের সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে, উলঙ্গ থাকতে বাধ্য করে এবং জোরপূর্বক ভিডিও ধারণ করে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে বস্তু ও কুকুর ব্যবহার করেও যৌন নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

বিবৃতিতে একটি ঘটনার উদাহরণ দিয়ে বলা হয়, উত্তর গাজার একটি ইসরায়েলি চেকপয়েন্টে ৪২ বছর বয়সী এক নারীকে গ্রেপ্তারের পর তাকে একাধিকবার ধর্ষণ, মারধর ও বৈদ্যুতিক শকের শিকার হতে হয়। এসব ঘটনার ভিডিও ধারণ করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

এতসব অভিযোগ ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পরও পশ্চিমা বিশ্বের বহু প্রভাবশালী নারীবাদী সংগঠন ও ব্যক্তিত্বের নীরবতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিবৃতিদাতারা। তাদের মতে, ইসরায়েল রাষ্ট্র-অনুমোদিত যৌন সহিংসতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে পশ্চিমা নারীবাদীদের ব্যর্থতা তাদের রাজনীতির বর্ণবাদী চরিত্রকে স্পষ্ট করে।

বিবৃতিতে বলা হয়, যে নারীবাদ অন্যত্র সংঘটিত লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হলেও ইসরায়েলের সংগঠিত সহিংসতাকে অপরাধ হিসেবে স্বীকার করে না, তা প্রকৃত অর্থে নারীবাদ নয়; বরং তা যুদ্ধাপরাধে মদদ দেওয়ার শামিল।

ইসরায়েলি যৌন নির্যাতন ও রাষ্ট্রীয় সহিংসতা অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানিয়ে বিবৃতিদাতারা বলেন, ‘ফিলিস্তিনিদের পাশে দাঁড়িয়ে ইসরায়েলি কারাগারে সংঘটিত প্রতিটি নির্যাতন, ধর্ষণ ও নিপীড়নের ঘটনার বিচার দাবি করছি। এ বিষয়ে নীরবতা পরোক্ষভাবে যুদ্ধাপরাধের সমর্থনেরই শামিল।’

বিবৃতিতে দেশের ও প্রবাসের বিভিন্ন শিক্ষাবিদ, গবেষক, সাংবাদিক, আইনজীবী, শিল্পী ও নারী অধিকার কর্মীসহ মোট ৬৮ জন স্বাক্ষর করেন।

আরও পড়ুন

×