ক্রস-কান্ট্রি হাইকিং অভিযান
নদী রক্ষায় হেঁটে ৬০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি
ছবি-সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০০:৪৫
কুড়িগ্রামের চর ইটালুকান্দা থেকে ভোলার চরকুকরিমুকরি– বাংলাদেশের প্রধান চার নদীর তীর ধরে প্রায় ৬০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছেন মাসফিকুল হাসান টনি। নদীর অববাহিকার অবনতি, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং জীবাশ্ম জ্বালানি বিস্তারের প্রতিবাদ জানাতে এই দীর্ঘ ক্রস-কান্ট্রি হাইকিং সফর সম্পন্ন করেন তিনি।
দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে নদীঘেঁষা জনপদ, চরাঞ্চল ও ভাঙনকবলিত এলাকা পেরিয়ে গতকাল রোববার ভোলায় এসে পৌঁছান এই পরিবেশকর্মী।
টনির সফরের সমাপ্তি উপলক্ষে ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার আলিমদ্দি বাংলাবাজারে একটি সংহতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পরিবেশ ও জলবায়ুবিষয়ক নাগরিক সংগঠন ধরিত্রী রক্ষায় আমরার (ধরা) উদ্যোগে আয়োজিত এই সমাবেশে পরিবেশ আন্দোলনের কর্মী, স্থানীয় বাসিন্দা, যুব প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতারা অংশ নেন।
গত ২৪ জানুয়ারি কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার চর ইটালুকান্দা গ্রাম থেকে টনির যাত্রা শুরু হয়। ধরা ও বাংলা মাউন্টেনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাবের (বিএমটিসি) যৌথ উদ্যোগে শুরু হওয়া এই পদযাত্রায় তিনি ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, পদ্মা ও মেঘনা নদীর তীরবর্তী অঞ্চল অতিক্রম করেন। পথে পথে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাম, বালু উত্তোলনে পরিবর্তিত নদীপ্রবাহ এবং মাছের উৎপাদন কমে যাওয়ার বাস্তব চিত্র প্রত্যক্ষ করেন তিনি। একই সঙ্গে নদীপাড়ের মানুষের আতিথেয়তা, সংহতি ও সংগ্রামের গল্পও এই অভিযানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে।
সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে টনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে নদীভাঙন অনেক এলাকায় মানবিক বিপর্যয় তৈরি করেছে। বারবার ঘরবাড়ি হারিয়ে বহু মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছে। যেকোনো মূল্যে আমাদের নদী বাঁচাতে হবে, জলবায়ু পরিবর্তন ঠেকাতে হবে।
সমাবেশে ধরার সদস্য সচিব শরীফ জামিল বলেন, নদী রক্ষা না হলে জেলে ও কৃষকের জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে পড়বে, যা দেশের খাদ্য ও অর্থনীতির জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে নদী সুরক্ষার গুরুত্ব এবং জীবাশ্ম জ্বালানি বিস্তার বন্ধের প্রয়োজনীয়তা রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে তুলে টনির এই ব্যতিক্রমী, দীর্ঘ ও সাহসী যাত্রা।
আয়োজকদের মতে, এই পদযাত্রা শুধু একটি প্রতীকী কর্মসূচি নয়, বরং জলবায়ু ন্যায়ের দাবিতে একটি সময়োপযোগী আহ্বান। সমাবেশের মাধ্যমে নদীপথ ধরে টনির পদযাত্রা আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত ঘোষণা করা হলেও তিনি চরকুকরিমুকরি থেকে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত সফর অব্যাহত রাখবেন। এই যাত্রা বাংলাদেশের নদী সংরক্ষণ ও জলবায়ু সংকট বিষয়ে সচেতনতা তৈরির একটি প্রতীকী বার্তা বহন করবে।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন ধরার সমন্বয়ক সানজিদা রহমান, রিভার বাংলার সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ, রিভারাইন পিপল ট্রাস্টের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসাইন এবং শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মীর মোহাম্মদ আলী। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি।
