বিএমইউ রেসিডেন্ট হল
তালা ভেঙে কক্ষ দখল চেষ্টার অভিযোগ ড্যাবের বিরুদ্ধে
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১১:৪৮
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) আবাসিক চিকিৎসকদের হলের কয়েকটি কক্ষের তালা ভেঙে দখল চেষ্টা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে বিএনপিপন্থি চিকিৎসক সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) বিরুদ্ধে। গত শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের এ ব্লকের পঞ্চম তলায় এ ঘটনা ঘটে। পরে গতকাল রোববার সকালে প্রশাসনের মধ্যস্থতায় বিরোধের সমাধান হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, হলের পঞ্চম ও ষষ্ঠ তলার কয়েকটি কক্ষে তালা ভাঙার চেষ্টা হয়। অভিযোগ রয়েছে, বহিরাগতসহ অন্তত ২০ জনের একটি দল এতে জড়িত। কক্ষগুলোতে জামায়াতপন্থি চিকিৎসকদের সংগঠন ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম (এনডিএফ) সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা অবস্থান করছিলেন।
হলে থাকা কয়েকজন চিকিৎসক বলেন, শনিবার দুপুর ২টা ২৫ মিনিটের দিকে এ ব্লকের ৫০৫, ৫০৬, ৫০৭, ৫০৯ ও ৫০১১ নম্বর কক্ষের তালা ভাঙা অবস্থায় পাওয়া যায়। কক্ষগুলোর সামনে তালা ভাঙার সরঞ্জাম পড়ে ছিল। ভেতরে আসবাবপত্র ভাঙচুর ও এলোমেলো পাওয়া যায়। ঘটনার সময় অধিকাংশ আবাসিক চিকিৎসক হাসপাতালে দায়িত্বে ছিলেন। পরে খবর পেয়ে ফিরে এলে দুই পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। এ ছাড়া দুটি ল্যাপটপ ও তিনটি মোবাইল হারানো গেছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী আবাসিক চিকিৎসকরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চিকিৎসক বলেন, আমরা ডিউটি থেকে ফিরে এসে দেখি তালা ভাঙা। আমাদের আগামীকালের (রোববার) মধ্যে রুম ছাড়তে বলা হয়েছে। না হলে দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। ঘটনার সময় কয়েকজনকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয়। তারা ঘটনায় জড়িত কয়েকজনকে শনাক্ত করেছেন। তাদের মধ্যে ড্যাবের কেন্দ্রীয় কমিটির আইনবিষয়ক সম্পাদক ডা. এম আর হাসান ছিলেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ডা. হাসান বলেন, কেউ কক্ষ দখল করতে যায়নি। কিছু রুম দীর্ঘদিন ধরে তালাবদ্ধ ছিল। সাধারণ রেসিডেন্টরা গিয়ে পুরো ব্লক তালাবদ্ধ দেখতে পান। বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে তাদের ওপর চড়াও হয় একটি পক্ষ। তাঁর দাবি, ড্যাবের পক্ষ থেকে কোনো সংগঠিত কর্মসূচি ছিল না।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকেই রেসিডেন্ট হলের কক্ষ বণ্টন নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে টানাপোড়েন চলছিল। পরে প্রশাসন উভয় পক্ষের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে সমঝোতার ভিত্তিতে আসন বণ্টনের সিদ্ধান্ত নেয়। ডক্টরস হলের ভারপ্রাপ্ত প্রভোস্ট ডা. জামাল উদ্দীন আহমদ বলেন, ঘটনার বিষয়ে আমরা অবগত। উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যার সমাধান করা হয়েছে। আগের চিকিৎসকরাই কক্ষে থাকবেন।
- বিষয় :
- ড্যাব
