মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের এলাকায় উচ্ছ্বাস, মিষ্টি বিতরণ
ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন শিক্ষামন্ত্রী হওয়ায় মিষ্টি বিতরণ করেন তার অনুসারীরা। চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার কচুয়াবাজার থেকে তোলা সমকাল
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৭:৩৬
| প্রিন্ট সংস্করণ
বিএনপির চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মন্ত্রিসভার মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে শপথ নিয়েছেন। মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী পাওয়ার খবরে বিভিন্ন এলাকায় মিষ্টি বিতরণ করে আনন্দ উচ্ছ্বাস করেছেন দলীয় নেতাকর্মীরা।
কুমিল্লা থেকে তিনজন মন্ত্রী হওয়ার খবরে জেলাজুড়ে বইছে উৎসবের আমেজ। সংশ্লিষ্ট সংসদীয় এলাকায়ও বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী ও তাদের অনুসারীরা সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে ছবি দিয়ে অভিনন্দন জানাচ্ছেন।
ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ জামায়াতের প্রার্থীকে হারিয়ে বিপুল ভোটে বিজয়ী হন। তিনি এর আগে জাতীয় পার্টির মনোনয়নে ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে প্রথমবার এবং ১৯৮৮ সালে দ্বিতীয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯০ সালের ২ মে থেকে ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত ধর্মপ্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৬ সালের ১২ জুনের নির্বাচনে জাতীয় পার্টির মনোনয়নে সংসদ সদস্য হন। বিএনপিতে যোগ দিয়ে ২০০১ সালের নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০২ সালের ৩ আগস্ট থেকে ২০০৩ সালের ১ জুলাই পর্যন্ত ধর্মপ্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৬ সালে তিনি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পান। কায়কোবাদ বলেন, ‘আমি আগেও এই মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করেছি। আল্লাহর কাছে লাখো কোটি শোকরিয়া– এবার আরও বড় দায়িত্ব পেয়েছি। তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করব।’
কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, খাদ্য মন্ত্রী আমিন-উর রশিদ ইয়াছিন
তিনি মন্ত্রী পরিষদে নতুন মুখ। কুমিল্লা-৬ আসনে এবারের নির্বাচনে দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। শেষ সময়ে এসে তিনি দলের সিদ্ধান্তে ধানের শীষের প্রার্থী বিএনপি চেয়ারপারসনের আরেক উপদেষ্টা সাবেক এমপি মনিরুল হক চৌধুরীকে সমর্থন জানিয়ে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন। দলীয় সূত্র বলছে, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তিনি (ইয়াছিন) ভোটে না থেকে দলের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করায় তাঁকে দল থেকে মূল্যায়ন করে মন্ত্রী পরিষদে ঠাঁই দেওয়া হয়েছে।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন
তিনি মন্ত্রী পরিষদে নতুন মুখ। কুমিল্লার বরুড়া আসনে এবার জামায়াত প্রার্থীকে হারিয়ে এমপি নির্বাচিত হন। তিনি কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি ও দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির কর্মসংস্থানবিষয়ক সম্পাদকের পদে রয়েছেন। সুমনের বাবা এ কে এম আবু তাহের ১৯৯১ ও ১৯৯৬ (১৫ ফেব্রুয়ারি) ও ২০০১ সালে বিএনপি থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর তাঁর মৃত্যুর পর এই আসনে জাকারিয়া তাহের সুমন উপনির্বাচনে প্রথমবার বিএনপির মনোনয়নে এমপি হন। তিনি বলেন, আমাদের নেতা তারেক রহমান নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে মন্ত্রী পরিষদ গঠন করেছেন। দেশকে এগিয়ে নিতে তাঁর নেতৃত্বে আমরা কাজ করে যাব।
শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন
চাঁদপুর-১ (কচুয়া) আসনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করা বিএনপি প্রার্থী ও সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবার দায়িত্ব পেলেন পূর্ণমন্ত্রীর। তাঁর মন্ত্রী হওয়ার খবরে আনন্দিত চাঁদপুরবাসী। কচুয়ায় তাঁর নির্বাচনী এলাকার কিছু কিছু স্থানে একে অন্যকে মিষ্টি খাইয়েছেন।
ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য হিসেবে যুক্ত হন। পরে বিএনপির আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৬ সালে প্রথমবার মেজবাহ উদ্দিনকে হারিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। ২০০১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। এই দায়িত্ব পেয়ে পাবলিক পরীক্ষায় নকল প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখেন তিনি।
কচুয়া পৌর বিএনপির সভাপতি বিল্লাল হোসেন মজুমদার বলেন, ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনকে মন্ত্রিসভায় স্থান দেওয়ার মাধ্যমে এই অঞ্চলের মানুষের আশা পূরণ হলো।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল
মন্ত্রী হওয়ার খবরে তাঁর নির্বাচনী এলাকায় আনন্দের বন্যা বইছে। নরসিংদী-৪ (বেলাব-মনোহরদী) আসন থেকে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন তিনি। এই আসনের চারবারের সংসদ সদস্য তিনি। তাঁর মন্ত্রী হওয়ার খবরে বিভিন্ন এলাকায় নেতাকর্মীরা মিষ্টিমুখ করে আনন্দ উপভোগ করেছেন।
ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল
প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি বলেন, ‘দল আমাকে যেভাবে মূল্যায়ন করেছে, এর প্রতিদান কাজের মাধ্যমেই আমি দিতে চাই। সবার কাছে দোয়া চাই, আমি যেন আমার দেওয়া কথা রাখতে পারি।’ এর আগে ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে এই আসন থেকে প্রথমবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তিনি। তবে সেবার আওয়ামী লীগের প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন।
প্রতিবেদন তৈরিতে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেছেন জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধিরা।
- বিষয় :
- মিষ্টি বিতরণ
