ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

ঈদের পর ‌জাতীয় শিক্ষা রোডম্যাপ

ঈদের পর ‌জাতীয় শিক্ষা রোডম্যাপ
×

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১৯:৩৬ | আপডেট: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১৯:৩৬

ঈদুল ফিতরের পর জাতীয় শিক্ষা রোডম্যাপ প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

সংবাদ সম্মেলনে তিন ধাপে সংস্কার পরিকল্পনা আনার কথা জানানো হয়। প্রতিমন্ত্রী জানান, বাস্তবায়ন হবে তিন ধাপে। প্রথম ধাপ: (বর্তমান থেকে ঈদুল ফিতর পর্যন্ত) বাজেট ও প্রকল্প বাস্তবায়নের ডায়াগনস্টিক রিভিউ, এরপর উন্নয়ন বাজেটের ৫৩ শতাংশ অব্যবহৃত ফেরত যাওয়ার কারণভিত্তিক বিশ্লেষণ, শিক্ষক ট্যাব, এবং সবশেষে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম ও ভাষা শিক্ষার পাইলট ডিজাইন।

তিনি বলেন, গত অর্থবছরে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক উন্নয়ন তহবিলের প্রায় ৫৩ শতাংশ অব্যবহৃত থেকে ফেরত গেছে, যা শিক্ষার্থীদের জন্য ক্ষতির কারণ হয়েছে।

দ্বিতীয় ধাপ: (ঈদের পর) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্মতি নিয়ে মন্ত্রণালয়ভিত্তিক ও বিভাগভিত্তিক পরিমাপযোগ্য সূচকসহ জাতীয় শিক্ষা রোডম্যাপ ঘোষণা করা হবে।

আর তৃতীয় ধাপ: (১২-৩৬ মাস) পরীক্ষা ও মূল্যায়নে বড় টেকনিক্যাল রিফর্ম, সাধারণ, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষায় ক্রেডিট ব্রিজিং এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা ও ইনোভেশন গ্র্যান্ট সম্প্রসারণ
প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষাখাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার। বর্তমানে শিক্ষায় বরাদ্দ জিডিপির দেড় থেকে দুই শতাংশের মধ্যে রয়েছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী জিডিপির ৪.৬ শতাংশ এবং মোট সরকারি ব্যয়ের ১৫.২০ শতাংশ শিক্ষায় বরাদ্দ থাকা উচিত।

ববি হাজ্জাজ জানান, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে তিন বছরের ধাপে ধাপে বাজেট বৃদ্ধি পরিকল্পনা নেওয়া হবে। পাশাপাশি উন্নয়ন ব্যয়ের মানোন্নয়ন, ই-জিপি বাধ্যতামূলক করা এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন স্কুল বর্ষপঞ্জির সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে মাসিক পাবলিক ড্যাশবোর্ড চালু করে প্রকল্প অগ্রগতি, প্রশিক্ষণ, বই বিতরণ ও ক্লাস ঘণ্টা প্রকাশের কথাও জানান তিনি।

কারিগরি শিক্ষায় জোর দেওয়ার কথা জানিয়ে মাধ্যমিক পর্যায়ে কারিগরি শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। কারিগরি শিক্ষা বোর্ড ও জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ে ক্রেডিট ব্রিজ কোর্স চালু করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া ইন্টার্নশিপ ও ক্যারিয়ার সেন্টার বাধ্যতামূলক করা হবে।

ববি হাজ্জাজ বলেন, কারিকুলামে দক্ষতার ওপর জোর থাকলেও পরীক্ষা যদি মুখস্থনির্ভর হয়, তাহলে কোচিং নির্ভরতা বাড়ে। এজন্য জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডকে লার্নিং ট্রাজেক্টরি, কনসেপ্ট ম্যাপ, আইটেম ব্যাংক ও ব্লুপ্রিন্ট প্রণয়নের নির্দেশনা দেওয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে ‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব’, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম ও ফ্রি ওয়াইফাই কর্মসূচিকে গ্যাজেটনির্ভর প্রকল্প না করে শেখার অপারেটিং সিস্টেমে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানান প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। স্কুল পর্যায়ে ডিজিটাল লিটারেসি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সচেতনতা ও সাইবার নিরাপত্তা অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, আমরা শিক্ষা নিয়ে রাজনীতি করবো না; শিক্ষা দিয়ে রাষ্ট্র গড়বো। শিক্ষাখাতে সরকারের ১৮০ দিনের পরিকল্পনায় তিন অগ্রাধিকার রয়েছে—শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে ফেরানো, কারিকুলাম রিভিউ এবং ভোকেশনাল ও টেকনিক্যাল শিক্ষায় জোর—বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই শিক্ষা খাতে সংস্কারের সূচনা হবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

আরও পড়ুন

×