এনসিটি প্রসঙ্গে বিডা চেয়ারম্যান
দেশি বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির সিদ্ধান্ত হয়নি
ছবি: সংগৃহীত
সমকাল প্রতিবেদক ও চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ২২:২১
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার বিষয়ে দেশি-বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী। তিনি বলেন, জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষিত থাকলেই শুধু বন্দর পরিচালনার চুক্তি করবে সরকার। মঙ্গলবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সভাকক্ষে এনসিটি বিষয়ে বৈঠকের পর তিনি সাংবাদিকদের এ কথা জানান।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
বৈঠক সূত্রে জানা যায়, বৈঠকে বন্দরের কার্যক্রম আরও গতিশীল করা, কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বাড়ানো এবং আমদানি-রপ্তানি প্রক্রিয়া দ্রুততর করার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। টার্মিনালের কার্যক্রম দক্ষতা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজনের পরিকল্পনা পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি বেসরকারি অপারেটর নিয়োগ, স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।
আশিক চৌধুরী জানান, পূর্ববর্তী সরকারের ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকারও জাতীয় স্বার্থ রক্ষার প্রশ্নে আপসহীন। জাতীয় স্বার্থের পক্ষে যে রকম সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার, সেভাবে কাজ করতে প্রধানমন্ত্রী তাগিদ দিয়েছেন।
অন্তর্বর্তী সরকার তো চুক্তির পক্ষে ছিল, এই সরকারের অবস্থান কী? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার চুক্তির পক্ষে বিপক্ষে ছিল, ব্যাপারটা এমন না। যদি জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করে চুক্তি সম্ভব হয়, শুধু সে ক্ষেত্রে আমরা চুক্তিটি করব। এরকম একটা কথা অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বলা হয়েছিল। আমার মনে হয়, বর্তমান সরকারও একই অবস্থান নেবে।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী কী নির্দেশনা দিয়েছেন? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আজ আমরা উনাকে (প্রধানমন্ত্রী) ব্রিফ করেছি। উনি শুনেছেন এবং কিছু প্রাথমিক দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। এনসিটি পরিচালনায় ২০১৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে সরকারি বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) কর্তৃপক্ষের সমঝোতা স্মারক হয়।
আওয়ামী লীগ শাসনামলে এনসিটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে ছেড়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। গত অন্তর্বর্তী সরকার সেই প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়েছে। এই প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টে রিট হয়ে আছে।
২০০৭ সালে বন্দর এই টার্মিনাল নির্মাণ করে। টার্মিনালটি নির্মাণ ও যন্ত্রপাতি সংযোজনে বন্দর কর্তৃপক্ষ ধাপে ধাপে দুই হাজার ৭১২ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। বর্তমানে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনা করছে নৌবাহিনীর প্রতিষ্ঠান চিটাগং ড্রাইডক লিমিটেড।
নৌমন্ত্রীর সঙ্গে আন্দোলনকারীদের বৈঠক
চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা পরিষদ ও সিবিএ নেতারা গত সোমবার ঢাকায় গিয়ে নৌ, সড়ক ও রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তারা চট্টগ্রাম বন্দরের সাম্প্রতিক আন্দোলনের কারণ ও যৌক্তিকতা এবং এনসিটি টার্মিনালে বিদেশি প্রতিষ্ঠান এলে দেশের কী ক্ষতি হবে, তা মন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ইব্রাহিম খোকন বলনে, চুক্তি না করতে নতুন সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছি। মন্ত্রী সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলে এ বিষয়ে আলাপ করার আশ্বাস দিয়েছেন।
- বিষয় :
- বিডা
- চেয়ারম্যান
- চুক্তি
