ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ঢাকা বরিশাল যশোর খুলনায় মানববন্ধন

ঘোড়ার গাড়ি বন্ধের দাবি

ঘোড়ার গাড়ি বন্ধের দাবি
×

বিশ্ব প্রাণী দিবস উপলক্ষে শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে প্রাণী কল্যাণ আইন বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন দাবিতে পিপল ফর অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের মানববন্ধন -সমকাল

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০১৯ | ১১:২৩ | আপডেট: ১৩ নভেম্বর ২০১৯ | ০৯:১১

প্রাণীর প্রতি অমানবিকতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে রাজধানীসহ সারাদেশে ঘোড়ার গাড়ি বন্ধের দাবি উঠেছে। বিশ্ব প্রাণী দিবস উপলক্ষে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে শুক্রবার আয়োজিত মানববন্ধন থেকে এ দাবি তোলা হয়।

পিপল ফর অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন এই কর্মসূচির আয়োজন করে। তাদের প্রধান দাবি- নির্যাতিত প্রাণী বিশেষ করে ঘোড়া ও ঘোড়ার শ্রমের ওপর প্রাণীকল্যাণ আইন অনুযায়ী নীতিমালা গ্রহণ করতে হবে। এ ছাড়া প্রাণী ব্যবহার করে অমানবিক শ্রমকে চিরতরে বিলীন করার উদ্যোগ নিতেও সরকারের প্রতি আহ্বান জানায় সংগঠনটি।

এ ছাড়া বরিশালে কর্মসূচির আয়োজন করে স্ট্যান্ড ফর অ্যানিমেলস নামে একটি সংগঠন। যশোর ও খুলনায়ও প্রাণীকল্যাণ বিষয়ক জনসচেতনতামূলক শোভাযাত্রাসহ নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

সমকালে শুক্রবার 'ঘোড়ার কাঁধে গাধার বোঝা' শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে দুই কর্মসূচি থেকে ঘোড়ার গাড়ি বন্ধে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়।

বক্তারা বলেন, রাজধানী ঢাকাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিভিন্ন কাজে ঘোড়ার বাণিজ্যিক ব্যবহার রয়েছে। কিন্তু সেক্ষেত্রে লক্ষ্য করা যায়, প্রতিটি ঘোড়া দিয়ে তার সামর্থ্যের বাইরে পরিশ্রম করানো হচ্ছে। তাকে ঠিকমতো খাবার দেওয়া হচ্ছে না। প্রয়োজনীয় বিশ্রাম ও চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি একটি ঘোড়া যখন তার কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলে, তখন তাকে যত্রতত্র উন্মুক্ত স্থানে অযত্নে ফেলে রাখা হচ্ছে। ফলে ঘোড়াটির করুণ পরিণতি ঘটে।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন থেকে ১০টি দাবি তুলে ধরেন সংগঠনের চেয়ারম্যান স্থপতি রকিবুল হক এমিল। এর মধ্যে রয়েছে শ্রমজীবী ঘোড়ার শ্রমকে আইনের নজরদারিতে আনা, নতুন করে ঘোড়ার গাড়ির প্রস্তুতি ও পরিচালনা বন্ধ করা, বাণিজ্যিকভাবে ঘোড়ার উৎপাদন প্রাণিকল্যাণ আইনের আওতায় আনা, ঘোড়ার চিকিৎসায় বিশেষজ্ঞ প্রাণী চিকিৎসক ও উন্নত যন্ত্রপাতির ব্যবস্থা না করে ঘোড়া ব্যবহার বন্ধ করা, শ্রমজীবী ঘোড়া অসুস্থ বা বয়স হয়ে অবসরে গেলে পুনর্বাসনের দায় ঠিক করা, শহর ও পর্যটন এলাকায় অসুস্থ ঘোড়াকে অযত্নে রাস্তায় ছেড়ে দিলে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরকে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দায়িত্ব নেওয়া, দেশের প্রতিটি ঘোড়া প্রজনন কেন্দ্র ও শ্রমিক ঘোড়াকে তালিকাভুক্ত করে স্বাস্থ্য সনদের ব্যবস্থা করা, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের অধীনে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ও প্রাণী অধিকার প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে মনিটরিং কমিটি গঠন করা এবং মনিটরিং কমিটির স্বচ্ছতার জন্য সমাজে গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপদেষ্টা হিসেবে রাখা।

এ কর্মসূচিতে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রেস্কিউ সেন্টারের ডিরেক্টর রত্না জুলিয়ানা গোমেজ, প্রকল্প ব্যবস্থাপক ওয়ানাস আহমেদ ও স্থপতি তাসনিম জান্নাত।

অন্যদিকে, বরিশালের মহাত্মা অশ্বিনীকুমার টাউন হলের সামনে প্ল্যাকার্ড, ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে দাঁড়ায় স্ট্যান্ড ফর অ্যানিমেলসের সদস্যরা।

সকল প্রাণীর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপনের জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, বেওয়ারিশ প্রাণীদের ওপর নৃশংসতা বন্ধ করতে হবে। কোনো প্রাণীকেই নির্যাতন করা যাবে না। শ্রমজীবী প্রাণী হিসেবে পরিচিত ঘোড়ার অধিকার প্রতিষ্ঠার বিষয়ে জোর বক্তব্য দেন তারা।

বক্তারা আরও বলেন, বর্তমান প্রযুক্তির যুগে যেখানে মোটরচালিত যানবাহনের ছড়াছড়ি, সেখানে ঘোড়ার মতো একটা নিরীহ প্রাণীকে দিয়ে নির্বিচারে পরিশ্রম করানো অযৌক্তিক। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জিয়াউল হক, সায়েদ হোসেন, রাইসুল ইসলাম সেতু, আহমেদ সম্পদ, মো. ইব্রাহিম খলিল, সাদিয়া জাহান, সায়েদ রিমেল, রবিন জন, এশা লাজিনা, আফিয়া প্রমি প্রমুখ।

আরও পড়ুন

×