জুলাই শহীদ পরিবার ও আহতদের পুনর্বাসনের দাবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৪ মার্চ ২০২৬ | ১৬:৩৩
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের সঠিক তালিকা প্রণয়নের মাধ্যমে তাদের পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছে 'যাত্রাবাড়ী জুলাই শহীদ পরিবার' ও 'আগ্রাসন বিরোধী আন্দোলন'। শনিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে 'জুলাই প্রতিরোধ ও আগামীর প্রত্যাশা' শীর্ষক আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এই দাবি জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জাস্টিস এন্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান বেলাল হোসেন বলেন, যারা জুলাইয়ে জীবন দিয়েছেন, আহত হয়েছেন, তাদের কোনো খবর নেই৷ অথচ এই জুলাই চেতনা নিয়ে রাজনৈতিক দল গঠিত হয়েছে। তারা জুলাই চেতনা নিয়েই ব্যস্ত আছেন। সবাই এই চেতনা বিক্রি নিয়ে ব্যস্ত আছেন। জাতীয় নির্বাচনের সময় ঢাকা-৮ আসন থেকে এনসিপির প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী একজন জুলাই যোদ্ধাকে সামনে নিয়ে এসে বলেন যে, আমার এই ভাই জুলাই আন্দোলনে অনেক কিছু করেছে। তখন ওই জুলাই যোদ্ধা বলেন, 'ভাই, এতদিন তো আমাকে চিনেন নাই।' এই ছেলেটা পুলিশ, আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের সঙ্গে যুদ্ধ করেছে, অথচ ১৮ মাস তাকে খোঁজার মতো কারো সুযোগ হয়নি। যেসব জুলাই যোদ্ধা পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন, চিকিৎসার জন্যে তাদের আন্দোলন করতে হয়েছে। ঢাকার মধ্যেই যদি এই অবস্থা হয়, তাহলে সারাদেশের আনাচে-কানাচে যারা আছেন, তাদের পরিস্থিতি কী? এ সময় তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদের পরিবার ও আহতদের পুনর্বাসনের দাবি জানান।
যাত্রাবাড়ী জুলাই শহীদ পরিবারের আহ্বায়ক ও জুলাই শহীদ মিরাজের বাবা আব্দুস সালাম বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সবচেয়ে বেশি গণহত্যা হয়েছে যাত্রাবাড়ীতে। যাত্রাবাড়ীতে আমার ছেলে মিরাজসহ এদেশের তরুণ প্রাণগুলো একটা সুন্দর বাংলাদেশের দাবি জানিয়েছিল। কিন্তু তাদের নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে।’ এ সময় তিনি জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি জানান। একইসঙ্গে নতুন সরকার আসার পর আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন।
আগ্রাসন বিরোধী আন্দোলনের সদস্য সচিব আল আমিন আতিয়া বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ছিলেন আসিফ মাহমুদ। তথ্য মন্ত্রণালয়ে ছিলেন নাহিদ ইসলাম। তারা কেন মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেননি? এখনও জুলাই শহীদদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা হয়নি, এই ব্যর্থতা মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের। ইচ্ছা করেই 'হারামজাদাগুলো' ওই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেননি। এনসিপি প্রতিটি পদে পদে প্রতারণা করছে।’ এ সময় তিনি শহীদ পরিবার ও আহতদের পুনর্বাসনের দাবি জানান।
শহীদ সাব্বির হোসেন মোল্লার বোন সুমাইয়া বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ১৯ মাস পার হয়ে গেছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমার ভাই স্বীকৃতি পায়নি। আমার ভাই ৫ আগস্ট জীবনের পরোয়া না করে ঘর থেকে বের হয়ে যায়। স্বৈরাচার সরকারের পতনের জন্য জীবন দিয়েছে। তাহলে কেন এখন পর্যন্ত আমার ভাইয়ের নাম গেজেটে ওঠেনি? আন্দোলনে যারা সমন্বয়ক ছিলেন, তারা আজকে নেতা হয়েছেন, ক্ষমতা পেয়েছেন। কিন্তু এই ক্ষমতা আমার ভাই ও যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের রক্তের বিনিময়ে পেয়েছেন।’ প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমাদের ভাইয়ের রক্তের বিনিময়ে আপনি এই দেশের মাটিতে পা রাখতে পেরেছেন। নইলে পারতেন না। বিদেশে থাকতে আপনি বলেছিলেন যে, দেশে এসে আপনি শহীদ পরিবারের খোঁজ-খবর নেবেন। তার প্রমাণ তো দেখছি না।’
সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন আগ্রাসন বিরোধূ আন্দোলনের তারেক আজিজ, শহীদ রাব্বির বোন মিতু আক্তার প্রমুখ।
- বিষয় :
- জুলাই শহীদ
- পুনর্বাসন
