ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

বন্দরে আটকা ৫০০ কোটি টাকার পুষ্টি পরিপূরক পণ্য

বন্দরে আটকা ৫০০ কোটি  টাকার পুষ্টি পরিপূরক পণ্য
×

 তবিবুর রহমান

প্রকাশ: ১৭ মার্চ ২০২৬ | ০৮:৫০ | আপডেট: ১৭ মার্চ ২০২৬ | ১০:৫৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

দেশের বিভিন্ন বন্দরে আনুমানিক ৫০০ কোটি টাকা বাজারমূল্যের পুষ্টি পরিপূরক পণ্য আটকে আছে। গত বছরের মে মাস থেকে চট্টগ্রাম, বেনাপোলসহ বিভিন্ন বন্দরে ৫৬টি শিপমেন্টের এসব পণ্য খালাস করা যাচ্ছে না। দীর্ঘদিন বন্দরে পড়ে থাকায় এসব পণ্য নষ্ট ও মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। পাশাপাশি প্রতিটি কনটেইনারে দৈনিক গুনতে হচ্ছে হাজার হাজার টাকা জরিমানাও।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ডায়েটারি সাপ্লিমেন্ট, হারবাল সাপ্লিমেন্ট, নিউট্রিশনাল সাপ্লিমেন্ট, মেডিকেল বা থেরাপিউটিক নিউট্রিশন এবং খাদ্যপথ্যজাত পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পূর্বানুমতির বিষয়টি নিয়ে জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। ওষুধ ও কসমেটিকস আইন-২০২৩ অনুযায়ী এসব পণ্যকে ওষুধের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে নিবন্ধন ছাড়া আমদানি, উৎপাদন, মজুত ও বিপণনে নিষেধাজ্ঞাদেওয়া হয়। তবে আইন কার্যকর হলেও প্রয়োজনীয় বিধিমালা প্রণয়ন না হওয়ায় এ খাতে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

গত বছরের ২৯ মে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর এক চিঠিতে ফুড সাপ্লিমেন্টের চালান খালাসের ক্ষেত্রে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পূর্বানুমতির বাধ্যবাধকতার কথা উল্লেখ করে। এরপর দেশের বিভিন্ন কাস্টম হাউস এসব চালান খালাস বন্ধ করে দেয়। এতে একে একে আটকে যায় ৫৬টি শিপমেন্ট। এরপর গত ২৪ ডিসেম্বর ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, প্রতিষ্ঠানিক নিবন্ধন ছাড়া এসব পণ্য আমদানি করা যাবে না। তবে তিন বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

জরিমানা ও ক্ষতির শঙ্কা
পুষ্টি পরিপূরক পণ্য আমদানিকারকদের সংগঠন নিউট্রাসিউটিক্যালস অ্যান্ড স্কিন কেয়ার প্রোডাক্ট ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন জানায়, দীর্ঘদিন ধরে চালান আটকে থাকায় ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন। সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রতি কনটেইনারে প্রথম ১৪ দিন সাত হাজার ৩৭০ টাকা, এরপর প্রতিদিন ১১ হাজার ৮০৮ টাকা করে জরিমানা দিতে হচ্ছে। এতে একদিকে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, অন্যদিকে সরকারও সম্ভাব্য রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ আব্দুস সালাম বলেন, ব্যবসায়ীরা কোনো অবস্থাতেই আইনবহির্ভূত সুবিধা চান না। বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী বৈধভাবে আমদানি করা পণ্য দ্রুত খালাসের সুযোগ প্রত্যাশা করছি। এই খাতে তিন হাজার ব্যবসায়ী রয়েছেন। তবে আমাদের সংগঠনের সদস্য ১০৯ জন। আটকে থাকা পণ্য খালাস হলে সরকার রাজস্ব পাবে প্রায় ১৫০ কোটি টাকা।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. শামীম আহছান বলেন, আটকে থাকা ৫৬টি শিপমেন্ট দ্রুত খালাসের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ করা এবং মানহীন পণ্য যাতে বাজারে ঢুকতে না পারে, সে জন্য কার্যকর নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানান তিনি।

পণ্য ছাড়ে নতুন নির্দেশনা
এদিকে সংকট নিরসনে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর ছয় সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে। পরিচালক নাঈম গোলদারকে আহ্বায়ক করে গঠিত কমিটি এরই মধ্যে আমদানিকারকদের সঙ্গে বৈঠক করেছে।
সর্বশেষ নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বন্দরে আটকে থাকা ডায়েটারি, হারবাল ও নিউট্রিশনাল সাপ্লিমেন্ট ছাড়ের জন্য আমদানিকারকদের প্রয়োজনীয় পরীক্ষার প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। বিশেষ করে পণ্যের উপাদানের মাত্রা নির্ধারণ এবং উপাদান শনাক্তকরণ-সংক্রান্ত পরীক্ষার প্রতিবেদন না থাকলে তা সরকার স্বীকৃত ল্যাবরেটরি থেকে সংগ্রহ করে জমা দিতে হবে।

গত ৯ মার্চ অনুষ্ঠিত সভায় এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। তবে ১২ মার্চ অনুষ্ঠিত পরবর্তী সভায় কাগজপত্র যাচাই করে দেখা যায়, অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এসব পরীক্ষার প্রতিবেদন 
জমা দেওয়া হয়নি। ফলে সংশ্লিষ্ট আমদানিকারকদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ফের মহাপরিচালক, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের কাছে জমা দিতে বলা হয়েছে।

এ ছাড়া প্রোবায়োটিক, প্রিবায়োটিকসহ তাপ সংবেদনশীল পণ্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের নির্দেশনা অনুযায়ী সংরক্ষণ ব্যবস্থার প্রমাণপত্র এবং কাস্টমসে সংরক্ষণের সময় বজায় রাখা তাপমাত্রার তথ্যও জমা দিতে হবে।

ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) আসরাফ হোসেন বলেন, বন্দরে আটকে থাকা পণ্যের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়া সাপেক্ষে খালাসের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আমরা ব্যবসায়ীদের ক্ষতি চাই না। সব ধরনের কাগজপত্র জমা হলে দ্রুত পণ্য খালাসের ব্যবস্থা করা হবে।

আরও পড়ুন

×