আজ আন্তর্জাতিক পোলট্রি দিবস
বৈশ্বিক পোলট্রি রপ্তানি বাজারে অবস্থান তৈরি করতে পারেনি বাংলাদেশ
জাহিদুর রহমান
প্রকাশ: ১৯ মার্চ ২০২৬ | ০৭:৪৬
| প্রিন্ট সংস্করণ
বাংলাদেশে পোলট্রি শিল্প গত দুই দশকে দ্রুত বিকশিত হয়ে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও গ্রামীণ অর্থনীতির অন্যতম বড় খাতে পরিণত হয়েছে। দেশের মুরগির মাংস ও ডিম উৎপাদনে প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে এই খাত। কিন্তু এই শক্ত ভিত থাকা সত্ত্বেও বৈশ্বিক পোলট্রি রপ্তানি বাজারে উল্লেখযোগ্য অবস্থান তৈরি করতে পারেনি বাংলাদেশ।
এ রকম প্রেক্ষাপটে আজ বৃহস্পতিবার পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক পোলট্রি দিবস। বাংলাদেশে ২০২০ সাল থেকে দিবসটি পালন করছে ওয়ার্ল্ড’স পোলট্রি সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ। তবে এবার ঈদের ছুটির কারণে সরকারি-বেসরকারিভাবে দেশে দিবসটিতে কোনো কর্মসূচি রাখা হয়নি।
দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণে পোলট্রি খাত এখন শক্ত অবস্থানে রয়েছে। বছরে প্রায় দুই হাজার ৩৩৭ কোটি ডিম এবং ১৪ লাখ ৬০ হাজার টন মুরগির মাংস উৎপাদন হচ্ছে। খামার ও সংশ্লিষ্ট শিল্পে লাখো মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। তবে এই উৎপাদন সক্ষমতা আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির মাধ্যমে কাজে লাগানো যাচ্ছে না। যেখানে ভারত ও চীন মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিমা বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে, সেখানে বাংলাদেশের উপস্থিতি সীমিত।
বিশ্লেষকদের তথ্যমতে, বৈশ্বিক পোলট্রি বাজারে চীনের অংশীদারিত্ব প্রায় ৩ শতাংশ, ভারতের প্রায় ১ শতাংশ। অন্যদিকে ব্রাজিল প্রায় ৩৫-৩৬ শতাংশ শেয়ার নিয়ে শীর্ষে রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের অংশ প্রায় ২০ শতাংশ। প্রক্রিয়াজাত পোলট্রি পণ্যের বাজারে থাইল্যান্ডের আধিপত্য সবচেয়ে বেশি– তাদের অংশ প্রায় ২৬ দশমিক ৩ শতাংশ। পাশাপাশি ভিয়েতনাম দ্রুত আঞ্চলিক কেন্দ্র হিসেবে উঠে এসেছে এবং ২০২৫ সালের শেষ দিকে প্রায় ৯০ লাখ ব্রিডিং মুরগি রপ্তানি করেছে। খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়ার পেছনে তিনটি বড় কারণ কাজ করছে– আন্তর্জাতিক মানের সনদের অভাব, সীমিত সরকারি সহায়তা এবং উৎপাদন ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতি। এ ছাড়া কাঁচামালের দাম অস্থির, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে, আর অভ্যন্তরীণ বাজারে দামের ওঠানামা। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক দামে পণ্য সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। একই কারণে বৈশ্বিক হালাল মাংসের বাজারেও বাংলাদেশের অগ্রগতি প্রত্যাশিত নয়। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হালাল সনদ এবং স্বাস্থ্য ও মান নিয়ন্ত্রণ সনদ না থাকায় অনেক সম্ভাবনাময় বাজারে প্রবেশ সম্ভব হচ্ছে না।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (উৎপাদন) ড. এ বি এম খালেদুজ্জামান বলেন, সরকার এখন খামারগুলোকে আন্তর্জাতিক মানে প্রস্তুত করতে উত্তম কৃষি চর্চায় উৎসাহ দিচ্ছে। দেশীয় চাহিদা পূরণে সক্ষম হওয়ার পর এখন আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশই মূল লক্ষ্য। উৎপাদন ব্যয় বেশি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা করা কঠিন হয়ে পড়ে। সঠিক নীতি সহায়তা পেলে এই খাত বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতা করতে পারবে। প্রতিযোগী দেশগুলো অনেক এগিয়ে রয়েছে। থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম আন্তর্জাতিক বাজার ধরতে বায়োসিকিউরিটি, আধুনিক প্রক্রিয়াজাত প্রযুক্তি এবং সনদ ব্যবস্থায় বড় বিনিয়োগ করেছে।
২০২৫ সালের শুরুতে থাইল্যান্ডের পোলট্রি রপ্তানি সংযুক্ত আরব আমিরাতে পাঁচ গুণ বেড়েছে, যার পেছনে হালাল সনদপ্রাপ্ত পণ্যের চাহিদা বড় ভূমিকা রেখেছে। একই সঙ্গে উচ্চমাত্রার প্যাথোজেনিক এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জার ঝুঁকি মোকাবিলায় তারা জোনিং ও কম্পার্টমেন্টালাইজেশন পদ্ধতি চালু করেছে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়েছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রক্রিয়াও একটি নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। রপ্তানি প্রণোদনা ধীরে ধীরে কমে যাওয়ায় খাতটির প্রতিযোগিতা সক্ষমতা আরও কমে যেতে পারে।
ওয়ার্ল্ড পোলট্রি সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ শাখার সাবেক সভাপতি মসিউর রহমান বলেন, শুধু উৎপাদন বাড়ালেই হবে না; আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী প্রক্রিয়াজাতকরণ, ট্রেসেবিলিটি এবং মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
- বিষয় :
- পোলট্রি শিল্প
