ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ঈদ উদযাপন

উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদ উদযাপন

উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদ উদযাপন
×

যুদ্ধময় বিশ্বে শান্তির আহ্বান জানিয়ে গত শনিবার রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহে অনুষ্ঠিত হয় পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত। নামাজ শেষে খুতবার পর মোনাজাতে দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করা হয়- সমকাল

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৫ মার্চ ২০২৬ | ০৮:১৭ | আপডেট: ২৫ মার্চ ২০২৬ | ১০:১৫

| প্রিন্ট সংস্করণ

ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে গত শনিবার সারাদেশে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন হয়েছে। পুরো রমজান মাস সিয়াম সাধনা ও ইবাদত-বন্দেগির পর এদিন সকালে দেশের ঈদগাহ, মসজিদ ও খোলা মাঠে ঈদের নামাজ আদায় করেন মুসল্লিরা। নামাজ শেষে দেশ-জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সুখ-সমৃদ্ধি এবং বিশ্বশান্তি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে চলমান অস্থিরতা, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি থেকে মুক্তির জন্যও দোয়া করা হয়।

রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত হয় ঈদের প্রধান জামাত। এতে অংশ নেন রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা। জামাতে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মুহাম্মদ আবদুল মালেক। এ ছাড়া জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে পাঁচটি ঈদ জামাত হয়।

এবারের ঈদুল ফিতরে দীর্ঘ ৩৬ বছর পর জাতীয় ঈদগাহ ময়দান এক অনন্য দৃশ্য দেখেছে দেশের মানুষ। গত শনিবার পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে জাতীয় ঈদগাহে অনুষ্ঠিত প্রধান জামাতে রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একসঙ্গে কাতারবন্দি হয়ে নামাজ আদায় করেন। রাষ্ট্রপতি, প্রধান বিচারপতি, বিএনপি মহাসচিব ও ঢাকা দক্ষিণ সিটির প্রশাসক চেয়ারে বসে মোনাজাতে শরিক হন।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধান বিচারপতির মাঝখানে নিচে জায়নামাজে বসে প্রধানমন্ত্রীকে নামাজ আদায় ও মোনাজাত করতে দেখা যায়। জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে নামাজ আদায়ের এই সচিত্র প্রতিবেদন গণমাধ্যম প্রকাশ করে। নামাজ আদায়ের সে দৃশ্য সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ায় প্রশংসায় ভাসছেন প্রধানমন্ত্রী। এর মাধ্যমে দীর্ঘ ৩৬ বছর পর রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর এক কাতারে নামাজ আদায় ও কোলাকুলির দৃশ্য দেখল দেশবাসী। 

এর আগে ১৯৯০ সালে সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ আর সাবেক প্রধানমন্ত্রী কাজী জাফর আহমদ জাতীয় ঈদগাহে কাতারবন্দি হয়ে নামাজ আদায় করেছিলেন। এরপর দীর্ঘ তিন যুগ এমন দৃশ্য আর দেখা যায়নি। ১৯৯১ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা। মাঝখানে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. ফখরুদ্দীন আহমদ ও সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করতে দেখা যায়নি।

এদিকে রাজধানীর বিভিন্ন স্থান, যেমন–ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ, সলিমুল্লাহ মুসলিম হল মাঠ, শহীদুল্লাহ হল লন, মীরবাগ জামে মসজিদ, পল্লবী ও মিরপুর এলাকাসহ সারাদেশে পৃথক পৃথক ঈদ জামাত হয়। দেশের অন্যান্য বড় জামাতগুলোর মধ্যে কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া, দিনাজপুরের গোর-এ শহীদ ময়দান এবং চট্টগ্রামের দামপাড়া জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ উল্লেখযোগ্য। ঈদের দিন দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিপাত হলেও, তা উপেক্ষা করেই মুসল্লিরা নামাজ আদায় করেন।
ঈদ উপলক্ষে সরকারি হাসপাতাল, এতিমখানা, শিশুসদন, আশ্রয়কেন্দ্র ও কারাগারগুলোতে পরিবেশন করা হয় উন্নতমানের খাবার। এছাড়া বাংলাদেশ বেতার, টেলিভিশন ও বেসরকারি চ্যানেলগুলো প্রচার করে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা।

ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে পৃথক বাণী দেন রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। ঈদের নামাজ শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং বাবা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত করেন। পরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তিনি।

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রে উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। ঢাকার শাহবাগ, রমনা পার্ক, জাতীয় সংসদ ভবন এলাকা, টিএসসি, হাতিরঝিল, মিরপুর চিড়িয়াখানা ও ধানমন্ডি লেকে দর্শনার্থীর ভিড় ছিল উল্লেখযোগ্য।

চট্টগ্রামে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত, ফয়’স লেক ও ডিসি পার্ক, রাজশাহীতে পদ্মার পাড় ও শিশু পার্ক, রংপুরে চিড়িয়াখানা ও তাজহাট জমিদার বাড়ি এবং নোয়াখালী-লক্ষ্মীপুরের বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রে মানুষের ঢল নামে। কোথাও কোথাও মেলা, নাগরদোলা ও বিভিন্ন বিনোদন আয়োজন ঈদের আনন্দকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
ঈদের ছুটিতে বেশ কয়েকটি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। ঈদের পরদিন সারাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ২৮ জন প্রাণ হারান। এর মধ্যে কুমিল্লায় যাত্রীবাহী বাসে ট্রেনের ধাক্কায় ১২ জন, ফেনীতে বাস, অ্যাম্বুলেন্স ও মোটরসাইকেলের ত্রিমুখী সংঘর্ষে তিনজন, হবিগঞ্জে বাসের সঙ্গে পিকআপ ভ্যানের সংঘর্ষে চারজন, টেকনাফে দুইজন, কক্সবাজারে একজন, চট্টগ্রামে একজন, নাটোরে একজন, সুনামগঞ্জে একজন, কিশোরগঞ্জে দুইজন এবং কুড়িগ্রামে একজন নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় আনন্দ বিষাদে রূপ নেয়। 

আরও পড়ুন

×