ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

১২ জনের নামে মামলা, নিহতের ভাতিজা গ্রেপ্তার

ঘর ভাগাভাগি নিয়ে সালিশে ভাইকে পিটিয়ে হত্যা

গাইবান্ধায় গৃহবধূর ও কুমারখালীতে যুবকের রক্তাক্ত লাশ

ঘর ভাগাভাগি নিয়ে সালিশে ভাইকে পিটিয়ে হত্যা
×

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ২৯ মার্চ ২০২৬ | ০৮:৫৬ | আপডেট: ২৯ মার্চ ২০২৬ | ১২:৫৪

| প্রিন্ট সংস্করণ

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার দিঘী ইউনিয়নের নতুন বসতি গ্রামে গত শুক্রবার রাতে বসতবাড়ির ঘর ভাগাভাগি নিয়ে ভাইদের মধ্যে দ্বন্দ্বে একজন নিহত হয়েছেন। নিহতের নাম বজলুর রহমান ওরফে রাবিল হোসেন (৫৫)। ভাগবাটোয়ারা নিয়ে ডাকা সালিশে অপর ভাইয়েরা হামলা করলে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে সাকিবুর রহমান আহত হয়েছেন।  

পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, নতুন বসতি গ্রামের মৃত ধলা মিয়ার সাত ছেলে ও এক মেয়ে। সন্তানদের মধ্যে বড় ছেলে ও একমাত্র মেয়ে রঞ্জু বেগম মারা গেছেন। বাড়িতে টিনশেডের চার কক্ষের একটি আধাপাকা বাড়ি আছে। চারটি কক্ষের দুটিতে রাবিল ও তাঁর পরিবার থাকেন ও অপর দুটি কক্ষে বোন রঞ্জুর সন্তানরা থাকতেন। সম্প্রতি রঞ্জুর সন্তানরা অন্যত্র বাড়ি করলে ওই দুটি কক্ষ খালি হয়। এরপর থেকে ওই দুটি কক্ষের ভাগবাটোয়ারা নিয়ে রাবিলের ও তাঁর ভাইদের দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। 

এ নিয়ে গত শুক্রবার সন্ধ্যার পর বাড়িতে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে সালিশ হয়। এতে রাবিল, তাঁর তিন ভাই রাশিদুর রহমান, জিয়াউর রহমান, সাইদুর রহমান ও তাদের পরিবারের লোকজন উপস্থিত ছিলেন। রাত ৮টার দিকে সালিশের এক পর্যায়ে রাবিল ও তাঁর ভাইদের মধ্যে কথাকাটাকাটি ও ঝগড়া শুরু হয়। এ সময় ভাই ও ভাতিজাদের 
কিল-ঘুসি ও লাথিতে রাবিল অচেতন হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এরপর তাঁকে উদ্ধার করে মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক ঘোষণা করেন।  
 সদর থানার ওসি ইকরাম হোসেন বলেন, নিহতের ছেলে সাকিবুর রহমান গতকাল শনিবার ১২ জনের নামে মামলা করেছেন। এ মামলায় নিহতের ভাতিজা পিয়াস খানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 

কুমারখালীতে সড়কের ধারে যুবকের রক্তাক্ত মরদেহ  
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে গত শুক্রবার রাতে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে তাজেল আলী তাজেম (৩৮) নামে এক যুবককে। নিহতের বড় ভাই হাসেম আলী বলেন, ‘ওর মাথা, পায়ের রগ ও পাঁজরে ১২টির বেশি কোপানোর আঘাত রয়েছে। খুনিদের মৃত্যুদণ্ড চাই।’ 

তাজেম উপজেলার নন্দলালপুর ইউনিয়নের বুজরুক বাঁখই গ্রামের কাশেম আলীর ছেলে। বুজরুক বাঁখই মাধ্যমিক বিদ্যালয় গেটের সামনের পাকা সড়কের পাশ থেকে তাজেমের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।  

বড় ভাই হাসেম আলী বলেন, ‘কারা খুন করেছে, তা তো দেখিনি। তবে ওর (তাজেম) সাবেক স্ত্রীকে নিয়ে প্রতিবেশী মোক্তার আলীর প্রবাসী ছেলে মিরাজের অনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে ঝামেলা ছিল।’
তাজেমের চাচাতো ভাই বিপুল হোসেন বলেন, রাতে বাড়ির বাইরে অনেক চিৎকার-চেঁচামেচি হচ্ছিল। বাড়ির লোকজন আমাকে বাইরে আসতে দেয়নি। পরে দেখি রাস্তার ধারে রক্তাক্ত মরদেহ। চাচাতো ভাই রাজু আহমেদ আক্ষেপ করে বলেন, ‘ব্যস্ত রাস্তার পাশে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। চিৎকার শুনেও সন্ত্রাসীদের ভয়ে কেউ এগিয়ে আসেনি।’ কুমারখালী থানার ওসি জামাল উদ্দিন বলেন, পূর্বশত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে তাজেমকে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।  

গাইবান্ধায় গৃহবধূর গলাকাটা মরদেহ  
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার বেতকাপা ইউনিয়নের পার আমলাগাছী এলাকায় একটি ভাড়া বাড়িতে ববিতা বেগম (২৫) নামে এক গৃহবধূর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার এ ঘটনা ঘটে। মরদেহের পাশেই পড়ে ছিল একটি কাটা পুরুষাঙ্গ। এ ঘটনা এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। ভাড়া বাড়ি থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। ববিতা সাদুল্লাপুর উপজেলার গোপালপুর গ্রামের বকু মিয়ার মেয়ে ও হারুন মিয়ার স্ত্রী। তিনি কিছুদিন ধরে পলাশবাড়ী উপজেলার ঢোলভাঙ্গা বাজার সংলগ্ন পার আমলাগাছী গ্রামের মোস্তাফিজার রহমানের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকছিলেন। 
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে ঘরের ভেতর বিছানার ওপর ববিতা বেগমের গলাকাটা মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। একই সময় বাড়ির উঠানে একটি কাটা পুরুষাঙ্গ পড়ে থাকতে দেখে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। 
পলাশবাড়ী থানার ওসি সরওয়ারে আলম জানান, ধারণা করা হচ্ছে, কাটা পুরুষাঙ্গটি ববিতার স্বামী হারুনের। ঘটনার পর থেকে হারুন পলাতক।  
(তথ্য দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রতিনিধিরা) 

আরও পড়ুন

×