ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ঈদযাত্রায় দুর্ঘটনায় ৩৯৪ মৃত্যু

ঈদযাত্রায় দুর্ঘটনায় ৩৯৪ মৃত্যু
×

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ৩১ মার্চ ২০২৬ | ০৮:৪৩ | আপডেট: ৩১ মার্চ ২০২৬ | ১২:০৪

| প্রিন্ট সংস্করণ

ঈদযাত্রার ১৫ দিনে দেশের সড়ক, রেল ও নৌপথে ৩৭৭টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে নিহত হয়েছেন ৩৯৪ জন। আহত হয়েছেন ১ হাজার ২৮৮ জন। এর মধ্যে শুধু সড়কেই ৩৪৬টি দুর্ঘটনায় ৩৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ১ হাজার ৪৬ জন। 

গতকাল সোমবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে ঈদুল ফিতরে সারাদেশে সংঘটিত দুর্ঘটনার প্রতিবেদন প্রকাশ করে এসব তথ্য জানায় বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবর পর্যালোচনা করে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে সমিতির সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেল।

সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদনের তথ্য উপস্থাপন করেন যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী। উপস্থিত ছিলেন সমিতির যুগ্ম মহাসচিব আলমগীর কবীর, মঞ্জুর আহমেদ ঈছা প্রমুখ।

মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ফেডারেশনের প্রভাব, ভাড়া নৈরাজ্য এবং দুর্বল তদারকি ব্যবস্থা দুর্ঘটনা বাড়ার কারণ। পুরোনো আমলা, আগের মাফিয়া নেতাদের অনুসারী বাস মালিক সমিতি এবং শ্রমিক ফেডারেশনের বর্তমান সরকার সমর্থিত নেতাদের চাপে এবারও সড়কসংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলো ঈদ ব্যবস্থাপনা সভায় যাত্রীদের পক্ষে কথা বলার মতো নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি রাখা হয়নি। ফলে সড়কে বিশৃঙ্খলা বেড়েছে। 

যাত্রী কল্যাণ সমিতির প্রতিবেদনে বলা হয়, চলমান ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধে গত ১৫ দিনে হতাহত বিশ্লেষণ করলে বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা অনেক বেশি।

এতে বলা হয়, ঈদ উপলক্ষে যাত্রা শুরুর দিন ১৪ মার্চ থেকে ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফেরার দিন ২৮ মার্চ পর্যন্ত ১৫ দিনে ৩৪৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৫১ জন নিহত ও ১ হাজার ৪৬ জন আহত হয়েছেন। সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে ২ হাজার ১৭৮ জন জাতীয় অর্থোপেডিক (পঙ্গু) হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ২০২৫ সালের ঈদুল ফিতরে ৩১৫টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩২২ জন নিহত ও ৮২৬ জন আহত হন। গত বছরের সঙ্গে তুলনা করলে এবারের ঈদে সড়ক দুর্ঘটনা ৮ দশমিক ৯৫ শতাংশ, প্রাণহানি ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ এবং আহত ২১ শতাংশ বেড়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, একই সময়ে রেলপথে ২৩টি দুর্ঘটনায় ৩৫ জন নিহত ও ২২৩ জন আহত হয়েছেন। নৌপথে ৮টি দুর্ঘটনায় ৮ জন নিহত, ১৯ জন আহত ও ৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন। সব মিলিয়ে সড়ক, রেল ও নৌপথে ৩৭৭টি দুর্ঘটনায় ৩৯৪ জন নিহত এবং ১ হাজার ২৮৮ জন আহত হয়েছেন। 

যাত্রী কল্যাণ সমিতির বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত কয়েক বছরের মতো এবারও দুর্ঘটনার শীর্ষে রয়েছে মোটরসাইকেল। এবারের ঈদে ১২৫টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৩৫ জন নিহত, ১১৪ জন আহত হয়েছেন, যা মোট সড়ক দুর্ঘটনার ৩৬ দশমিক ১২ শতাংশ, নিহতের ৩৮ দশমিক ৪৬ শতাংশ এবং আহতের ১০ দশমিক ৮৯ শতাংশ প্রায়।

এতে বলা হয়, দুর্ঘটনার শিকার মোট যানবাহনের ২৭ দশমিক ১৬ শতাংশ মোটরসাইকেল, ১৭ দশমিক ৭৩ শতাংশ ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান, ১৬ দশমিক ২২ শতাংশ বাস, ১৫ দশমিক ২৮ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশা, ৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ প্রাইভেটকার-মাইক্রোবাস, ৭ দশমিক ৭৩ শতাংশ নছিমন-করিমন এবং ৭ দশমিক ৩৫ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিকশা এসব দুর্ঘটনায় জড়িত ছিল। সংবাদ সম্মেলনে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ১৩ দফা সুপারিশ তুলে ধরা হয়। 

আরও পড়ুন

×