ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস

প্রাথমিক শনাক্তে অটিজম নিয়ন্ত্রণ সম্ভব

জেলা পর্যায়ে হচ্ছে বিশেষায়িত চিকিৎসাকেন্দ্র

প্রাথমিক শনাক্তে অটিজম নিয়ন্ত্রণ সম্ভব
×

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০২ এপ্রিল ২০২৬ | ০৮:২৮ | আপডেট: ০২ এপ্রিল ২০২৬ | ১০:১৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে গত এক দশকে অটিজম নিয়ে কোনো হালনাগাদ জাতীয় জরিপ হয়নি। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিশুর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে প্রতিবন্ধী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুর জন্য জেলা পর্যায়ে বিশেষায়িত চিকিৎসাকেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অটিজম শিশুর স্নায়বিক বিকাশজনিত একটি অবস্থা, যা জন্মের আগেই শুরু হয় এবং সাধারণত ৫ বছর বয়স পর্যন্ত বিকাশমান থাকে। এটি পুরোপুরি নিরাময়যোগ্য না হলেও প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করে উপযুক্ত থেরাপি ও প্রশিক্ষণ দিলে লক্ষণ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

এমন বাস্তবতায় আজ ২ এপ্রিল পালিত হচ্ছে বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস। ২০০৭ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ এ দিনটিকে আন্তর্জাতিকভাবে পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। এবারের প্রতিপাদ্য ‘অটিজম ও মানবতা: প্রতিটি জীবনের মূল্য আছে’। 

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, এক দশক আগে সর্বশেষ জনশুমারি অনুযায়ী, দেশে অটিস্টিক তথা প্রতিবন্ধী শিশুর সংখ্যা আনুমানিক দেড় লাখ। অটিজম শিশুর সংখ্যা ৪১ হাজার। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সময়ে অটিজম শিশুর সংখ্যা ৬০ হাজার থেকে ৭০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিশু নিউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. গোপেন কুমার কুণ্ডু বলেন, শিশুর সামাজিক মেলামেশায় সমস্যা, কথা বলতে দেরি, কিংবা একই আচরণ বারবার করার প্রবণতা থাকলে অটিজমের লক্ষণ হিসেবে ধরা হয়। সাধারণত ৩ বছর বয়সের মধ্যে অটিজমের লক্ষণ স্পষ্ট হয়। অটিজম শনাক্তে কোনো নির্দিষ্ট ‘ল্যাব টেস্ট’ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, আচরণগত পর্যবেক্ষণ ও বিশেষ চেকলিস্টের মাধ্যমে রোগ নির্ণয় করা হয়। 

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব পেডিয়াট্রিক নিউরোডিজঅর্ডার অ্যান্ড অটিজম (ইপনা) বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. কানিজ ফাতেমা বলেন, অটিজমের সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায় না। তবে গবেষণায় বংশগত বা জেনেটিক সমস্যার জন্য দায়ী কিছু নির্দিষ্ট জিন শনাক্ত করা গেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, জন্মের সময় শিশুর দেরি করে কান্না করা, ওজন কম হওয়া এবং গর্ভাবস্থায় মায়ের অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা বা মানসিক চাপ অটিজমের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। এ ছাড়া অনেক ক্ষেত্রে অটিজমের সঙ্গে মৃগীরোগ এবং ঘুমের সমস্যাও দেখা যায়।

কেন বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা
ডা. কানিজ ফাতেমা জানান, কয়েকটি কারণে অটিজমের হার বাড়ছে। এর মধ্যে রয়েছে, বাবা-মায়ের বেশি বয়সে সন্তান গ্রহণ, একক (নিউক্লিয়ার) পরিবার বৃদ্ধি, শিশুদের অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম, অভিভাবকদের মানসিক চাপ, জেনেটিক প্রভাব প্রভৃতি। অটিজম আক্রান্ত শিশুদের অস্থিরতা কমাতে চিনি জাতীয় খাবার, চকলেট, চিপস, কোমল পানীয়, চা ও কফি এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

জেলা পর্যায়ে চিকিৎসাকেন্দ্র
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, জেলা পর্যায়ে বিশেষায়িত চিকিৎসাকেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে চিকিৎসার জন্য শিশুদের রাজধানীতে আসতে হবে না। তিনি বলেন, আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে সীমিত পরিসরে এই কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ এবং আধুনিক যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হবে। এজন্য একটি সমন্বিত পরিকল্পনা ইতোমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে।

সচেতনতার ওপর জোর
বিশেষজ্ঞদের মতে, অটিজম মোকাবিলায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সচেতনতা ও প্রাথমিক শনাক্তকরণ। শিশুর বিকাশে কোনো অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে দেরি না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে। তাদের মতে, সময়মতো হস্তক্ষেপ করা গেলে অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিশুর ভাষা, আচরণ ও সামাজিক দক্ষতায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি সম্ভব।

আজ দিবসটি উপলক্ষে দেশে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব পেডিয়াট্রিক নিউরোডিজঅর্ডার অ্যান্ড অটিজম বিভাগ র‌্যালি, বৈজ্ঞানিক সেমিনার ও শিশুদের ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে।
 

আরও পড়ুন

×