ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

অধ্যাদেশ বাতিল ও স্থগিতে টিআইবির ক্ষোভ

অধ্যাদেশ বাতিল ও স্থগিতে টিআইবির ক্ষোভ
×

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৪ এপ্রিল ২০২৬ | ০৯:২৪ | আপডেট: ০৪ এপ্রিল ২০২৬ | ১২:৪৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ ও পৃথক সচিবালয়-সংক্রান্ত দুটি অধ্যাদেশ বাতিল এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাইয়ের নামে স্থগিত রাখার সুপারিশে গভীর ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

গতকাল শুক্রবার এক বিবৃতিতে সংস্থাটি ক্ষোভ প্রকাশ করে বাতিল ও স্থগিত হওয়া তিনটি অধ্যাদেশ হুবহু বিল আকারে সংসদে উত্থাপনের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশন, পুলিশ কমিশন ও তথ্য অধিকার-সংক্রান্তসহ স্থগিতের সুপারিশ করা অন্য অধ্যাদেশগুলো দ্রুত যাচাই-বাছাই শেষে আইনে পরিণত করার আহ্বান জানিয়েছে টিআইবি।

বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে কয়েকটি দেশের গণতান্ত্রিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারত। এর মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ, পৃথক সচিবালয় এবং মানবাধিকার কমিশন-সংক্রান্ত অধ্যাদেশ উল্লেখযোগ্য। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এই তিনটি অধ্যাদেশ বাতিল ও স্থগিতের মাধ্যমে সরকার কী বার্তা দিতে চায়? নির্বাচনী ইশতেহারে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার যে অঙ্গীকার করা হয়েছিল, বর্তমান সিদ্ধান্ত কি তার সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়?

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, অতীতের কর্তৃত্ববাদী শাসনামলে বিচার বিভাগ যে ধরনের রাজনৈতিক প্রভাবের শিকার হয়েছিল, তা থেকে শিক্ষা নেওয়ার কথা থাকলেও বর্তমান সিদ্ধান্তে সেই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। এতে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘একইভাবে একটি কার্যকর মানবাধিকার কমিশন গঠন হওয়ার যে সমূহ সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছিল, অধ্যাদেশটি স্থগিত হওয়ার ফলে উদ্বেগজনক অনিশ্চয়তার মুখে পড়ল। মানবাধিকার কমিশন ও বিচার বিভাগের কার্যকর স্বাধীনতা এবং গুম প্রতিরোধসংক্রান্ত বিধানের অভাবে মানুষের জীবন কতটা দুর্বিসহ হয়ে উঠতে পারে, তা ক্ষমতাসীন দলের প্রধানসহ কর্তাব্যক্তিদের বিস্মৃত হওয়ার কথা নয়! একই সঙ্গে সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী সব রাজনৈতিক দলের জন্য এ অবস্থান আত্মঘাতীমূলক। কারণ তারা প্রায় সবাই ওই ক্ষেত্রগুলোতে আইনগত দুর্বলতা, বিশেষ করে বিচার বিভাগ ও মানবাধিকার কমিশনের মতো সব রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের দলীয়করণের মাধ্যমে অকার্যকরতার ফলে বহুমাত্রিক অধিকার হরণের ভুক্তভোগী। যদি তারা কর্তৃত্ববাদ ও রক্তক্ষয়ী জুলাই অভ্যুত্থানের অভিজ্ঞতা থেকে কোনো শিক্ষা গ্রহণ করে থাকেন, তবে অধ্যাদেশগুলো হুবহু বিল আকারে অবিলম্বে সংসদে অনুমোদনের উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে দেশবাসীকে তার প্রমাণ দেওয়া উচিত।’
 টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, আইনে কোনো অন্তর্নিহিত দুর্বলতা থাকলে সেটি অবশ্যই দূর করা যেতে পারে। কিন্তু যাচাই-বাছাইয়ের নামে গুম-খুনে জড়িত পক্ষগুলোকে সুবিধা বা দায়মুক্তি দেওয়ার চেষ্টা হলে তা শুধু আত্মঘাতীই হবে না, বরং দেশে কার্যকর মানাবাধিকার প্রতিষ্ঠার কথা বলে পেছনে হাঁটার শামিল।

দুর্নীতি দমন কমিশন অধ্যাদেশ প্রসঙ্গে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দুদক সংস্কার কমিশনের যেসব সুপারিশের ক্ষেত্রে বিএনপিসহ সব রাজনৈতিক দলের সম্মতিসহ জুলাই সনদে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এবং জুলাই সনদের বাইরে দুদক সংস্কার কমিশনের যেসব প্রস্তাবে বিএনপি জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে লিখিতভাবে সমর্থন জানিয়েছে, সেগুলোর আলোকে দুদক অধ্যাদেশটি সংশোধন করে অবিলম্বে বিল আকারে চলতি সংসদে উত্থাপনের আহ্বান জানাই। পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ বাতিলের আহ্বান জানিয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘পুলিশকে একটি জনবান্ধব ও পেশাদার বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে যে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ পুলিশ কমিশন গঠন প্রয়োজন, তার কোনো প্রতিফলনই অধ্যাদেশটিতে হয়নি, যা জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে প্রস্তাবিত বিএনপিসহ সব রাজনৈতিক দলের সম্মতিতে জুলাই সনদে অন্তর্ভুক্ত সুপারিশ ও সিদ্ধান্তের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। 

আরও পড়ুন

×