ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ইলিশের স্বাদ অক্ষুণ্ন রেখে উৎপাদন বাড়াতে গবেষণার আহ্বান মন্ত্রীর

ইলিশের স্বাদ অক্ষুণ্ন রেখে উৎপাদন বাড়াতে গবেষণার আহ্বান মন্ত্রীর
×

ছবি-সংগৃহীত

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৮ এপ্রিল ২০২৬ | ২২:১৬

ইলিশের স্বাদ ও গুণগত মান অক্ষুণ্ন রেখে উৎপাদন বাড়ানোর উপায় খুঁজে বের করতে বিজ্ঞানীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।

বুধবার রাজধানীর বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল অডিটোরিয়ামে ‘ইলিশ গবেষণা: অর্জিত সাফল্য, জাটকা সংরক্ষণ ও ভবিষ্যৎ করণীয়’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান।

মন্ত্রী বলেন, এমন কোনো প্রযুক্তি বা পদ্ধতি উদ্ভাবন করা প্রয়োজন, যাতে ইলিশের স্বাভাবিক স্বাদ ও বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ন রেখে উৎপাদন বাড়ানো যায়। এতে দেশের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যেও এই মাছকে আনা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, ইলিশ না পাওয়ার সমস্যা এখন দেশের অনেক অঞ্চলে প্রকট হয়ে উঠছে। তাই উৎপাদন বাড়ানোর বিষয়টি কেবল অর্থনৈতিক নয়, খাদ্যপ্রাপ্যতার সঙ্গেও জড়িত।

মন্ত্রী বলেন, জাটকা সংরক্ষণ এবং উৎপাদন বৃদ্ধিতে বিজ্ঞানীদের আরও সক্রিয় হতে হবে। ইলিশের ডিমের সঠিক পরিস্ফুটন, জাটকার বেঁচে থাকার হার বৃদ্ধি এবং প্রাকৃতিক আবাসস্থল রক্ষার বিষয়ে পরিকল্পিত গবেষণা জরুরি। জেলেদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নদী ও জাল যেহেতু তাদের জীবিকার মূল ভিত্তি, তাই জাটকা ধরা বন্ধে কার্যকর উদ্যোগের প্রস্তাব তারাই দিতে পারেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, বিশ্বে মোট ইলিশ উৎপাদনের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশই বাংলাদেশে হয়। তিনি বলেন, ইলিশ বাংলাদেশের একটি ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য। এই সম্পদ সংরক্ষণে সবাইকে সচেতন হতে হবে। জাটকা ধরা পুরোপুরি বন্ধ করা গেলে ইলিশ উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে এবং তা দেশের অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখবে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, ৪০ হাজার জেলে পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া শুরু হয়েছে। প্রতি পরিবারকে ৮০ কেজি চাল, ১২ কেজি আটা, ১০ লিটার তেল, ৪ কেজি চিনি, ৮ কেজি ডাল ও ১৬ কেজি আলু দেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. অনুরাধা ভদ্রের সভাপতিত্বে কর্মশালায় গেস্ট অব অনার হিসেবে বক্তব্য দেন মন্ত্রণালয়ের সচিব দেলোয়ার হোসেন। এ ছাড়া বক্তব্য দেন মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জিয়া হায়দার চৌধুরী, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স অনুষদের ডিন ড. কাজী আহসান হাবীব এবং মৎস্য অধিদপ্তরের পরিচালক ড. মোতালেব হোসেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. মোহাম্মদ আশরাফুল আলম।

আরও পড়ুন

×