ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ

আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ

আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ
×

 সমকাল প্রতিবেদক 

প্রকাশ: ০৯ এপ্রিল ২০২৬ | ০৩:৫৪

বদলি বাণিজ্যে শতকোটি টাকার ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ও তাঁর পিএস যুগ্ম সচিব শামসুদ্দিন মাসুমের বিরুদ্ধে। ২৮৬ সাব-রেজিস্ট্রার বদলির মাধ্যমে এই টাকা হাতিয়ে নেওয়ার একটি অভিযোগ গতকাল বুধবার দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) জমা দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এম. সরোয়ার হোসেন। 

রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে কমিশনের পত্র গ্রহণ শাখায় অভিযোগটি জমা দেন সরোয়ার হোসেন। দুদকের নিয়ম অনুযায়ী, অভিযোগটি কমিশনের যাচাই-বাছাই কমিটি খতিয়ে দেখবে। অভিযোগ আমলযোগ্য হলে প্রকাশ্য অনুসন্ধানের অনুমোদনের জন্য এটি পাঠানো হবে কমিশনে। কমিশন অভিযোগটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেবে। 

বর্তমানে কমিশন না থাকায় অভিযোগটির বিষয়ে অন্যান্য কাজ সম্পন্ন করা হবে। নতুন কমিশন যোগ দেওয়ার পর অনুসন্ধানের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। যুগ্ম সচিব শামসুদ্দিন মাসুম বর্তমানে আইন মন্ত্রণালয়ে কর্মরত। সরোয়ার হোসেন অভিযোগটি যথাযথ অনুসন্ধানের উদ্যোগ গ্রহণ করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন। 

অভিযোগ করা হয়, অন্তবর্তী সরকারের সময়ে ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে গত বছরের এপ্রিল পর্যন্ত আট মাসে আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে শুধু সাব-রেজিস্ট্রার বদলিতেই ঘুষ লেনদেন হয়েছে শতকোটি টাকা। এই বদলির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের নিয়মনীতি মানা হয়নি। ঘুষের বিনিময়ে বদলির ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুত টাকা পরিশোধ না করায় বদলির আদেশ স্থগিত করার ঘটনাও ঘটেছে। কাউকে কাউকে ছয়-সাত মাসের মধ্যে তিন-চারবার বদলি করা হয়েছে। নিবন্ধন অধিদপ্তরের ৪০৩ সাব-রেজিস্ট্রারের মধ্যে কমপক্ষে ২৮২ জনকে বদলি করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ২০০ জন ঘুষের মাধ্যমে পছন্দের সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে বদলি বাগিয়ে নিয়েছেন। অভিযোগ করা হয়, জনপ্রতি ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়া হয়েছে। এর আগে মাত্র আট মাসে এত বিপুলসংখ্যক বদলির ঘটনা ঘটেনি। 

বদলির নীতিমালায় সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের এ, বি ও সি গ্রেডের অফিসে অনুরূপভাবে এ, বি ও সি গ্রেডের কর্মকর্তাদের বদলি ও পদায়ন করার বিধান রয়েছে। কিন্তু ওই আট মাসে নীতিমালার তোয়াক্কা করা হয়নি। বিধান অনুযায়ী, এ গ্রেডের সাব-রেজিস্ট্রারকে এ গ্রেডের অফিসে এবং সি গ্রেডের কর্মকর্তাকে সি গ্রেডের অফিসে বদলি করতে হয়। তবে ওই সময়ে ঘুষের বিনিময়ে সি ও বি গ্রেডের সাব-রেজিস্ট্রারদের বদলির মুখে পড়তে হয়েছে। কাউকে কাউকে যোগদানের আগের দিন পুনরায় অন্য অফিসে বদলির নির্দেশ দিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। বদলি বাণিজ্য এতটাই বেড়েছিল, গত বছরের ১ জুন আইন মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে সতর্কতা জারি করেছিল। এতে বলা হয়েছিল, জেলার রেজিস্ট্রার ও সাব-রেজিস্ট্রার বদলি ও পদায়নে কোনো আর্থিক লেনদেনের সুযোগ নেই। এ বিষয়ে কোনো অসাধু ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকার জন্য অনুরোধ জানানো হয়। কিন্তু এ বিজ্ঞপ্তি জারির আগেই শত শত সাব-রেজিস্ট্রার বদলিতে বিপুল অঙ্কের ঘুষের লেনদেন হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি জারির পর বদলির আদেশ হয়নি।

আরও পড়ুন

×