বর্ষবরণের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে ঢাবির চারুকলায়
ঢাবিতে বর্ষবরণের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। ছবি-মুবাশ্বির বিন মাতিন
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০২৬ | ১৮:১০ | আপডেট: ১৩ এপ্রিল ২০২৬ | ১৮:১১
পয়লা বৈশাখকে বরণ করে নিতে শেষ মুহূর্তের ব্যস্ত সময় পার করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও শিল্পীরা। তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন সাবেক শিক্ষার্থীরাও। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এগিয়ে চলছে বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রার প্রস্তুতি।
আয়োজকরা জানান, সার্বিক কাজের প্রায় শেষের দিকে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সব প্রস্তুতি শেষ হবে।
পয়লা বৈশাখ উপলক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের উদ্যোগে আয়োজিত শোভাযাত্রা বাংলা নববর্ষ উদযাপনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। প্রতিবছরের মতো এবারও নানা বয়স ও শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে উৎসবমুখর হয়ে উঠবে এ আয়োজন। এবার শোভাযাত্রার প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— ‘নববর্ষের ঐক্য, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’।
উৎসবের আবহে চারুকলার প্রাঙ্গণ যেন রঙের এক জীবন্ত কর্মশালায় পরিণত হয়েছে। শিল্পীদের তুলির আঁচড়ে প্রাণ পাচ্ছে মোরগ, পায়রা, দোতারাসহ বিভিন্ন প্রতীকী মুখোশ। পাশাপাশি তৈরি হচ্ছে সরা, মাটির টেপা পুতুল এবং জলরঙে আঁকা নান্দনিক পেইন্টিং। প্রতিটি শিল্পকর্মে ফুটে উঠছে বাঙালির ঐতিহ্য, সংগ্রাম ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার বহিঃপ্রকাশ। শিক্ষার্থী ও শিল্পীরা দিন-রাত পরিশ্রম করে শেষ মুহূর্তে রঙের ছোঁয়া বসাচ্ছেন, ঠিক যেন প্রতিটি সৃষ্টিই হয়ে উঠছে একেকটি জীবন্ত বার্তা।
চারুকলা অনুষদ প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা যায়, দেয়ালজুড়ে আঁকা হচ্ছে নানান চিত্র। এসব দেয়ালচিত্রে উঠে আসছে গ্রামীণ জীবন, লোকজ ঐতিহ্য এবং বাংলার সংস্কৃতির নানা অনুষঙ্গ।

প্রস্তুতির এই শেষ সময়টুকু দেখতে চারুকলায় ভিড় করছেন নানা বয়সী মানুষ। তরুণ-তরুণীদের পাশাপাশি পরিবার নিয়েও অনেকে ঘুরে দেখছেন পুরো আয়োজন।
সকাল ৯টায় শুরু হবে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’
নববর্ষ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৈশাখী শোভাযাত্রা সকাল ৯টায় চারুকলা অনুষদের ৩ নম্বর (উত্তর) গেট থেকে শুরু হবে। সকাল ৮টা থেকে চলবে শোভাযাত্রার প্রস্তুতি। শোভাযাত্রাটি শাহবাগ থানার সামনে গিয়ে ইউ-টার্ন নিয়ে রাজু ভাস্কর্য, দোয়েল চত্বর ও বাংলা একাডেমি হয়ে আবার চারুকলা অনুষদে ফিরে এসে শেষ হবে।
শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীরা শুধু নীলক্ষেত ও পলাশী মোড় দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে পারবেন। শোভাযাত্রা চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য প্রবেশপথ ও সংলগ্ন সড়ক বন্ধ থাকবে। নিরাপত্তার স্বার্থে অংশগ্রহণকারীদের পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
কঠোর নিরাপত্তা নির্দেশনা
পয়লা বৈশাখে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের মুখোশ পরে প্রবেশ করা যাবে না এবং ব্যাগ বহনও নিষিদ্ধ থাকবে। তবে চারুকলা অনুষদে প্রস্তুত করা মুখোশ হাতে নিয়ে প্রদর্শন করা যাবে। শোভাযাত্রায় ইংরেজি প্ল্যাকার্ড ব্যবহার করা যাবে না। পাশাপাশি বেলুন, ফেস্টুন ও আতশবাজি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ভুভুজেলা বাঁশি বাজানো ও বিক্রি না করারও অনুরোধ জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
নববর্ষের দিন ক্যাম্পাসে সব অনুষ্ঠান বিকেল ৫টার মধ্যে শেষ করতে হবে। ওই দিন বিকেল ৫টার পর আর ক্যাম্পাসে প্রবেশ করা যাবে না, শুধু বের হওয়া যাবে। ১৩ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টিকারযুক্ত গাড়ি ছাড়া অন্য কোনো যানবাহন ক্যাম্পাসে ঢুকতে পারবে না। নববর্ষের দিন সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে এবং মোটরসাইকেল চালানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বসবাসকারীরা নিজেদের গাড়ি চলাচলের জন্য শুধু নীলক্ষেত মোড়সংলগ্ন গেট ও পলাশী মোড়সংলগ্ন গেট ব্যবহার করতে পারবেন।
ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের সামনে থাকবে বিশ্ববিদ্যালয়ের হেল্প ডেস্ক, কন্ট্রোল রুম ও অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্প। হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল মাঠসংলগ্ন এলাকা, ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের আশপাশ, দোয়েল চত্বরসংলগ্ন এলাকা এবং কার্জন হল এলাকায় স্থাপন করা হবে মোবাইল পাবলিক টয়লেট।
নিরাপত্তা জোরদারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পুলিশের কাছে পর্যাপ্ত সিসি ক্যামেরা ও আর্চওয়ে স্থাপন এবং সেগুলোর সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের অনুরোধ জানিয়েছে।
