ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

জ্বালানি সংকট নিয়ে বিরোধী দলের আলোচনার প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রীর সাড়া

জ্বালানি সংকট নিয়ে বিরোধী দলের আলোচনার প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রীর সাড়া
×

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৬ | ০৮:৫৩ | আপডেট: ২৩ এপ্রিল ২০২৬ | ১২:৩৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিরোধীদলীয় নেতার আলোচনায় বসার প্রস্তাবে সাড়া দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। তবে কবে এ আলোচনা হবে, তা উল্লেখ করা হয়নি। গতকাল বুধবার রাতে সংসদের বৈঠকে বিরোধী দলের আনা জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন এ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে  প্রধানমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে বিরোধী দলের প্রস্তাব বিবেচনায় নেবে সরকার। আমরা বসব, আলোচনা করব। যদি প্রস্তাবে বাস্তবতার নিরিখে কোনোকিছু থাকে যেটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব, অবশ্যই আমরা তা করব।

এর আগে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান জ্বালানি সংকট নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের সমন্বয়ে একটি ‘কমন কমিটি’ করার প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, তাদের কিছু প্রস্তাব আছে। সরকার চাইলে সেটা তারা দিতে প্রস্তুত রয়েছেন। এ ছাড়া বিরোধী দলের একাধিক সদস্য এ আলোচনায় অংশ নিয়ে বলেন, জ্বালানি সংকট বৈশ্বিক হলেও এক্ষেত্রে সরকারের কূটনৈতিক পদক্ষেপ যথাযথ ছিল না। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বিরোধীদলীয় নেতার কমন কমিটি গঠনের প্রস্তাবের বিষয়ে কিছু বলেননি।

‘দেশের বর্তমান জ্বালানি সংকট নিরসনে এবং জনদুর্ভোগ লাঘবে অবিলম্বে সরকারের কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ’ বিষয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনার প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন বিরোধীদলীয় নেতা। পরে এতে প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও অংশ নেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতসহ জামায়াত ও এনসিপির সদস্যরা।

বিরোধী দলকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি সংসদকে অবহিত করতে চাই, সংসদ নেতা হিসেবে অবশ্যই আমরা বিরোধী দলকে আমন্ত্রণ জানাব, আমাদের অবস্থান থেকে। দেশের মানুষ আমাদের এখানে পাঠিয়েছে তাদের স্বার্থ দেখার জন্য। যে কাজ করলে মানুষের স্বার্থ রক্ষা হবে, ইনশাআল্লাহ আমরা অবশ্যই সে কাজ করব।’

এর আগে সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া মন্ত্রীর বিবৃতির সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, মন্ত্রী যে বিবৃতিটি দিয়েছিলেন, সেই বিবৃতি থেকে ১৮০ ডিগ্রি না হলেও ৯০ ডিগ্রি অ্যাঙ্গেলে ঘুরে গেছেন। তিনি বলেন, এই দীর্ঘ সময় ধরে, দিনের পর দিন, সপ্তাহের পর সপ্তাহ যে মানুষগুলো কষ্ট করেছেন, আমরা এখানে যারা বসে আছি, সেই কষ্টের ভাগ নিতে পারিনি। তেলের পাম্পে নিজের ঘুরে আসার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘দুপুরবেলা চাটাই বিছিয়ে লোকেরা গাড়ি রেখে পাশে ঘুমাচ্ছেন। কেউ বললেন, ১৪ ঘণ্টা ধরে আছি, কেউ বিভিন্ন মেয়াদের কথা বললেন। কিন্তু আমি ৫ ঘণ্টার নিচে কাউকে পেলাম না। আমাদের সংকট যদি না-ই থাকে, তাহলে অন্তত গরিব, দিন আনে দিন খায়– এই মানুষের পর্যায়ে কি আমরা একটু দৃষ্টি দিতে পারি না?’

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জ্বালানি পরিস্থিতি একটা সংকট। এই সংকট সরকারের তৈরি  না হলেও চাহিদা ব্যবস্থাপনায় বেশ কিছু সমস্যা হয়েছে। জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, সংগত কারণে কিছু রেশনিং করা হয়েছে, সতর্কতার জন্য। এটা খুবই ভালো কথা। সেই কথাটা আমরা একসঙ্গে বলতে পারতাম। কিন্তু প্রথম দিন তো এই বিবৃতি আসেনি। এসেছিল অন্যরকমভাবে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে জ্বালানি তেলের মজুতের তথ্য তুলে ধরে জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, আসলে এটা সংকট নয়, এটা কৃত্রিম সংকট। ইরান যুদ্ধের আগে পাম্পগুলোতে যে পরিমাণ তেল সরবরাহ করা হতো, যুদ্ধ শুরুর পর তার চেয়ে বেশি দেওয়া হচ্ছে। যারা অসৎ উদ্দেশ্যে তেলের জন্য লাইনে দাঁড়াচ্ছে, তাদের ভিড়ে যাদের আসলেই তেল প্রয়োজন তারা পাচ্ছেন না।

পাম্পের সামনের যে লাইন সেটাকে ‘অবৈধ লাইন’ আখ্যা দিয়ে জ্বালানিমন্ত্রী এর বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তিনি প্রশ্ন রাখেন, যারা লাইনে দাঁড়াচ্ছেন সবার আসলে প্রয়োজন নাকি রাইডাররা তেল বিক্রি করে বেশি লাভ করতে চাইছে। 

মন্ত্রী বলেন, ‘যত তেল দেওয়ার দরকার, তাই দিয়ে যাচ্ছি। আমি সাংবাদিকদের অনুরোধ করেছি, আপনারা ইনভেস্টিগেশন করে দেখেন, এই লাইনটা কি সত্যি প্রয়োজনের জন্য, নাকি এই লাইনটা রাইডাররা রাইড শেয়ার ছেড়ে দিয়ে তেল বিক্রি করছে। কারণ সেখানে তারা বেশি প্রফিট করছে।’

এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন,  আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে, দেশের অর্থনীতি যতটা বহন করতে পারে, সেই সীমার মধ্য থেকে জ্বালানির দাম সমন্বয় করা হয়েছে। কোথাও ১৫ টাকা, কোথাও ২০ টাকা, কোথাও ২৫ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়ানো হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে প্রশ্ন তোলেন, যদি সত্যিই দেশব্যাপী জ্বালানি সংকট তৈরি হয়ে থাকে, তাহলে কি চাষাবাদ বন্ধ হয়েছে, শিল্পকারখানা বন্ধ হয়েছে, স্কুল-কলেজে কার্যক্রম থেমেছে, অথবা ব্যবসা-বাণিজ্য অচল হয়ে গেছে? তার বক্তব্যে এসব খাত স্বাভাবিকভাবে চলমান থাকায় পরিস্থিতিকে পূর্ণাঙ্গ সংকট বলা ঠিক হবে না। জ্বালানি বাজারে অনিয়মের প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্বীকার করেন, কোথাও কোথাও মজুতদারি, কালোবাজারি ও পাচারের চেষ্টা হয়েছে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এসব অনিয়ম উদ্ঘাটন করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থাগুলোই। 

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, সরকার সতর্কতা, দায়িত্বশীলতা ও দূরদর্শিতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করে আসছে। সরকার আগামী মে মাস পর্যন্ত জ্বালানির চাহিদা নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে। জুন ও জুলাই মাসের চাহিদা পূরণের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে। 

আরও পড়ুন

×