ঢাকা দক্ষিণের ২৭টি ওয়ার্ড ডেঙ্গুর চরম ঝুঁকিতে
রোববার থেকে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম চালানোর ঘোষণা প্রশাসকের
ছবি: সংগৃহীত
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬ | ২২:৪৭
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৭৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৬৩টিতেই এডিস মশার ঘনত্ব স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি। এর মধ্যে ২৭টি ওয়ার্ড চরম ঝুঁকিপূর্ণ। ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া রোগের জীবাণুবাহী এডিস মশা নিয়ে ডিএসসিসির জরিপে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
জরিপ প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার নগর ভবন মিলনায়তনে ‘বর্ষাপূর্ব এডিস মশার লার্ভা জরিপের ফলাফল প্রকাশ ও কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন’বিষয়ক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এ সময় সংস্থাটির প্রশাসক মো. আবদুস সালাম জরিপের তথ্য তুলে ধরেন। এ সময় চরম ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ডগুলোতে আগামী রোববার থেকে ‘ক্র্যাশ প্রোগ্রাম’ চালানো হবে বলে জানান প্রশাসক।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ডিএসসিসি ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার ৩৬ কর্মীর সমন্বয়ে গত ১২ থেকে ২৩ মে পর্যন্ত ডিএসসিসির ওয়ার্ডগুলোতে জরিপ পরিচালিত হয়। আধুনিক ‘কবো টুলবক্স’ প্রযুক্তি ব্যবহার করে দুই হাজার ২৫০টি বাড়ি থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। পরিদর্শন করা বাড়িগুলোর মধ্যে ২৮১টিতে এডিস মশার লার্ভা ও পিউপা পাওয়া যায়। এর মধ্যে বহুতল ভবনে সর্বোচ্চ ৩৫ দশমিক ২৩ শতাংশ, স্বতন্ত্র বাড়িতে ২৭ দশমিক ৭৬ শতাংশ, নির্মাণাধীন ভবনে ১৭ দশমিক ৪৪ শতাংশ এবং সেমিপাকা বাড়িতে ১৪ দশমিক ৫৯ শতাংশ লার্ভা শনাক্ত হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মেঝেতে জমে থাকা পানিতে ১২ দশমিক ২৬ শতাংশ, বালতিতে ১০ দশমিক ৩৪ শতাংশ এবং প্লাস্টিকের ড্রামে ৮ দশমিক ৮৯ শতাংশ এডিস মশার প্রজনন ক্ষেত্র পাওয়া গেছে। এসব উৎসকে ডেঙ্গু বিস্তারের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ড
ডিএসসিসির ১০টি অঞ্চলের ২৭টি ওয়ার্ডকে সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এসব ওয়ার্ড এলাকায় এডিস মশার ঘনত্ব উদ্বেগজনক বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ডের মধ্যে রয়েছে অঞ্চল-১ এর (ধানমন্ডি-নিউমার্কেট-শাহবাগ) আওতাধীন ১৫, ১৭, ২০, ২১ নম্বর ওয়ার্ড, অঞ্চল-২ এর (খিলগাঁও-মতিঝিল-সবুজবাগ) আওতাধীন ২, ৪, ৫, ৬, ৯, ১১, ১৩ নম্বর ওয়ার্ড, অঞ্চল-৩ এর (হাজারীবাগ-লালবাগ-চকবাজার) ২৩, ২৪, ২৫, ২৬, ২৮, ৫৫, ৫৬ ও ৫৭ নম্বর ওয়ার্ড, অঞ্চল-৪ এর (সূত্রাপুর-কোতোয়ালি) ৩২, ৩৬ ও ৩৮ নম্বর ওয়ার্ড, অঞ্চল-৫ এর (যাত্রাবাড়ী-ওয়ারী) ৭ ও ৫২ নম্বর ওয়ার্ড, অঞ্চল-৭ এর (মুগদা-মাণ্ডা) ৭৩ নম্বর, অঞ্চল-৮ এর (ডেমরা-সারুলিয়া) ৬৮ নম্বর, অঞ্চল-৯ এর (দনিয়া-মাতুয়াইল-কোনাপাড়া) ৬২ নম্বর ওয়ার্ড।
মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ড
মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ডের মধ্যে রয়েছে ১৯, ১, ৩, ১০, ১২, ১৪, ২২, ২৯, ৩০, ৩১, ৩৩, ৩৪, ৩৫, ৪২, ৪৩, ৩৯, ৪০, ৪৪, ৪৫, ৪৬, ৪৭, ৪৯, ৫০, ৫১, ৫৩, ৭০, ৭৪, ৭১, ৭২, ৬৬, ৬৭, ৬৫, ৫৮, ৫৯, ৬০ ও ৬১। এ ছাড়া সাধারণ ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ডের মধ্যে রয়েছে ১৬, ১৮, ৮, ২৭, ৩৭, ৪১, ৪৮, ৫৪, ৭৫, ৬৯, ৬৩ ও ৬৪। এ ছাড়া অঞ্চল-১০ ও অঞ্চল-৭ এ কোনো সাধারণ ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ড পাওয়া যায়নি।
ডিএসসিসি প্রশাসক আবদুস সালাম বলেন, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়াতে আগামী শনিবার ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবর থেকে একটি সচেতনতামূলক শোভাযাত্রা বের হবে। পরে নগরের অন্যান্য এলাকাতেও এ ধরনের কর্মসূচি পর্যায়ক্রমে চলবে।
তিনি বলেন, শুধু সরকারি উদ্যোগে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। নাগরিককেও সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে হবে। বাসাবাড়ি ও কর্মস্থল পরিষ্কার রাখা এবং প্রতি তিন দিন অন্তর জমে থাকা পানি অপসারণের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
প্রশাসক ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করেন এবং সঠিক তথ্য প্রচারের মাধ্যমে নাগরিককে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. মাহাবুবুর রহমান তালুকদার, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. নিশাত পারভীনসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
- বিষয় :
- ডেঙ্গু
- ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন
